বিজয়ের হাসিটা তাদেরই হোক

img

১৯১২ সালে ২৯ জানুয়ারি তিন দিনের এক সফরে ঢাকা আসেন তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড হার্ডিঞ্জ। তখন সময় নবাব স্যার সলিমুল্লাহ, নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকসহ ১৯ জন মুসলিম নেতার একটি প্রতিনিধিদল ৩১ জানুয়ারি লর্ড হার্ডিঞ্জের সঙ্গে দেখা করে বঙ্গভঙ্গ রদের ক্ষতিপূরণ স্বরূপ কমপক্ষে ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার দাবি করেন তারা।
অন্যদিকে এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষা হবে বলে হিন্দু নেতারা ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার তীব্র বিরোধিতা করেছিল। ১৯১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ড. রাসবিহারী ঘোষের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল তার সাথে সাক্ষাৎ এবং ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিরোধিতামূলক একটি স্মারকলিপি পেশ করেন। রবীন্দ্রনাথসহ অনেক হিন্দুই ছিল ঢাবি প্রতিষ্ঠার অন্তরায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ, জমি দানসহ সব ক্ষেত্রেই ছিল মুসলিম নেতৃবৃন্দ ও আলেমদের অবদান। এমনকি ঢাবি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার জন্য ১৯১২ সালের ২৭ মে নাথান কমিশন নামে যে কমিটি করা হয়েছিল তাতেও তৎকালীন ঢাকা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ শামসুল উলামা মাওলানা আবু নসর মোহাম্মাদ অহিদদের নামও ছিল।
যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠায় মুসলিম নেতৃবৃন্দের অবদান ছিল তাই তাদের পরিকল্পনা ছিল যেন এ বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী জ্ঞানের প্রতিনিধিত্বও করে। সেজন্য ইসলামী শিক্ষায় জোর দিতে ‘ইসলামিক স্টাডিজ’ নামে স্বতন্ত্র একটি অনুষদ স্থাপনের প্রস্তাবও ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মলগ্ন থেকেই ইসলামিক স্টটাডিজ ও আরবি বিভাগ ছিল। সুতরাং ঢাকা কিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ইসলামী সংস্কৃতি, ইসলামী শিক্ষা ও ইসলামী চেতনা কুকে নিয়েই। এটিই ঢাবির মূল ধারার চেতনা।
ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন বা মুসলিম চেতনার ধারক কোনো সংগঠন বিজয়ী হলে সে মূল ধারায় ফিরে যাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ইসলামী চেতনায় সমৃদ্ধ মুসলিম নেতৃত্ব তৈরির কেন্দ্র হবে ঢাবি।
দৈনিক কালের কণ্ঠের ০৪ নভেম্বর, ২০১৭ সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছিল ‘ঢাবি ও বুয়েট মাদকের আখড়া’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক খ্যাতনামা অধ্যাপক ১৫ ডিসেম্বর, ২০১২ দৈনিক প্রথম আলোর এক কলামে ঢাবিকে ‘পশু বানানোর কারখানা’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এটি দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের জন্য চরম লজ্জাজনক। দুঃখজনক হলো আজ ঢাবি টেকনলজিতে গর্ব করতে পারছে, ১০ টাকায় চা-সমোচা নিয়ে ‘গর্ব’ করতে পারছে কিন্তু ঢাবি সংশ্লিষ্টরা বুকে হাত দিয়ে বলতে পারছেন না যে, এটি মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ বানানোর কারখানা। বরং তারা নিজেরাই আজ একে পশু বানানোর কারখানা বলছেন। এভাবে চলতে থাকলে এ দেশ থেকে দুর্নীতি দূর করা যাবে না। বিসিএস ক্যাডারে সিংহভাগ আসে ঢাবি থেকে। এ সিংহভাগের বড় একটা অংশ যদি মাদকাসক্ত হয়, দুর্নীতিবাজ হয় তাহলে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হলেও সে উন্নয়ন তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত হবে। ইঞ্জিনিয়ার রডের বদলে বাঁশ দিয়ে বিল্ডিং বানাবে।
আর এ বিসিএস ক্যাডারদের যদি নৈতিক শক্তিতে শক্তিমান করে গড়ে তোলা যায় তবেই আগামীর বাংলাদেশ হবে সোনার দেশ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নৈতিকতার ও মূল্যবোধের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে, ক্যাম্পাসকে মাদকমুক্ত করতে ডাকসুতে প্রয়োজন নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন নেতৃত্বের। সে নেতৃত্ব আসতে পারে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন বা কোনো ইসলামী ছাত্র সংগঠনের নেতাদের মতো কোরআনের আলোয় আলোকিত নেতৃবৃন্দের হাত ধরেই।
তখনই ঢাবি ফিরবে মূল ধারায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হবে মাদকের না হয়ে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও মূল্যবোধের ক্যাম্পাস।

লেখক : কলামিস্ট, খতিব; নির্বাহী সম্পাদক, ডেইলি ইসলাম।