বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলো ‘উচু স্তরের’ সাম্প্রদায়িক

img

Enayat Ullah

বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলো ‘উচু স্তরের’ সাম্প্রদায়িক মানষিকতা লালন করে থাকে, কিছু উদাহরণ দিলেই তা পরিস্কার হয়ে যাবে। এ দেশে আলেম-উলামার সংখ্যা কম নয়। তাদের কথা শোনেন, মসজিদে হোক, মাহফিলে হোক, নামায পড়া কিংবা অন্য কোন প্রাক্টিসের সূত্রে হোক -এই সংখ্যাসহ ধরলে আলেম-উলামা এবং তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠী দেশের অধিকাংশ। এ বিশাল জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় নৈতিকতার অনুশীলন, সমাজে এই নৈতিক অনুশীলনের প্রভাব, এই বিশাল জনগোষ্ঠীর কেন্দ্রবিন্দু আলেম-উলামাদের চিন্তা-মতামত অন্তত তাদের ধর্মনিরপেক্ষ কাজগুলো নিয়ে ভুলেও কোনদিন কোন পত্রিকা রিপোর্টিং, প্রতিবেদন কিংবা বিশেষ কোন আয়োজন করতে দেখেছেন? অথচ সমাজের অনেক ক্ষুদ্র ও সমান্য বিষয় তারা কত ফলাও করে প্রচার করে!

এদেশের মানুষের চিন্তা ও মনোজগতের অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করে ইসলাম। ইসলাম ধর্মের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল অতীত। নিকট ইতিহাসের সিংহভাগ দখল করে আছে ইসলাম। অন্তত আমাদের এই উপমহাদেশ কাটিয়েছে সাতশত বছরের সুদীর্ঘ মুসলিম শাসন। এদেশের মানুষের মানসপটে কী এমন আলোড়ন এসেছিল যে, তারা দলে দলে মুসলমান হয়েছিল। এদেশের মানুষের মনে ইসলামের কী এমন স্প্রীহা বিরাজ করে যে, ইংরেজদের দুশ বছর শাসনামলের শত নিপীড়নের পরও ইসলাম আকড়ে পড়েছিল। ইসলামের অতীত আকর্ষণ, উপমহাদেশে এর প্রভাব ও অবদান, সেই অতীতের মানুষগুলো নিয়ে ছিটে-ফোঁটা কোন আয়োজনও কি পত্রিকাওয়ালাদের করতে দেখেন?

এদেশে বামপন্থীরা কী কী সাংস্কৃতি পালন করবে, তা তারা বলে, করে এবং ফলাও করে প্রচারও করে। কিন্তু এ সাংস্কৃতিক চর্চার বাহিরে কোন চর্চা বা আয়োজন কি এ দেশে হয় না? মিউজিক্যাল সংগীত দেশে যেমন আছে তেমনি নন-মিউজিক্যাল সংগীতের চর্চাও দেশে ভালভাবেই আছে। এমনিভাবে দেশের পরতে পরতে আছে আবহমান বাংলার উৎসবমুখর আয়োজন ওয়াজ-মাহফিলের সংস্কৃতি। আবার আছে নিরবে নির্ভৃতে মানুষের মনোজগত পরিবর্তনের সাধনা ইসলাহী জলসা/ খানকা/ ইজতেমার সংস্কৃতি। সাপ্তাহিক মাহফিল, দাওয়াতী কাজ, জুমুআর বয়ান প্রভৃতি। এসব নিয়ে ভুলেও তারা আয়োজন-আলোচনায় সামনে আনার কথা ভাবে না।
দেশের এক বিশাল জনগোষ্ঠীর জীবন চর্চার এই বিস্তৃত দিকগুলো কখনোই তারা সামনে আনতে চায় না; যতক্ষণ না এর নেতিবাচক উপাদান তুলে ধরার সুযোগ পাওয়া যায়। অথবা কোন হেফাজত দুঃস্বপ্ন হিসাবে সামনে আসে।
কোন মসজিদের ইমাম যদি কোন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে তখন গণমাধ্যমগুলো খুব উৎসাহের সাথে সামনে আনে। অথচ এমন অসংখ্য অগণিত ইমাম সমাজের অগণিত মানুষকে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, জুলুম, নির্যাতন এবং সবরকম অন্যায়-অপকর্ম থেকে বাঁচানোর দিনের পর দিন প্রাণান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, কই ভুলেও তো কোনদিন তা তুলে ধরার প্রয়োজনবোধ করেননি। হয়তো মনে করেছেন, এসব তুলে ধরলে সাম্প্রদায়িকতা হয়ে যাবে!
এসব তুলে ধরার জন্য হুজুর, আলেম, মাওলানা হয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। সাংবাদিকতার স্বাভাবিক নীতিই এসব তুলে ধরতে বলবে। বিবিসি বাংলা কিছুটা সাংবাদিকতার চর্চা করে। সেই প্রয়োজনবোধেই তারা, তাবলীগের অতীত-বর্তমান নিয়ে প্রতিবেদন করেছে। উপমহাদেশে দেওবন্দের প্রভাব নিয়ে প্রতিবেদন করেছে। ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কওমী মাদরাসায় কী পড়ানো হয় অথবা কারা পড়ে -এসব নিয়ে প্রতিবেদন করেছে।
আমাদের দেশীয় গণমাধ্যমগুলো ভুলেও এসবে অগ্রসর হয় না। এদেশের মানুষের ধর্মীয় অতীত বর্তমানের সবকিছুতেই হয়তো তারা সাম্প্রদায়িকতার ‘বিষবাষ্প’ খুঁজে পায়। এরচে বড় সাম্প্রদায়িকতা আর কী হতে পারে।