ইসলামী সংস্কৃতির জ্ঞানদক্ষ অনুশীলনের বিকল্প নেই

img

ইসলামী হিস্ট্রি এন্ড কালচার অলিম্পিয়াডের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তারা ‘ সভ্যতার সংঘাত ও আকাশ সংস্কৃতির প্রেক্ষাপটে ইসলামী সংস্কৃতির জ্ঞানদক্ষ অনুশীলনের বিকল্প নেই।‘

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি অলিম্পিয়াড-১৪৪২ এর পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়ে গেল গত ১৩ই নভেম্বর, রোজ শনিবার, ঢাকার অদুরে অবস্থিত এশিয়ান ইউনিভার্সিটির আশুলিয়া ক্যাম্পাসে। সারাদেশে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি চর্চাকে ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি অলিম্পিয়াড-১৪৪২ এর আয়োজন শুরু হয় গত বছরের ৩১শে জানুয়ারী ২০২১ সালে। দশ হাজারেরও বেশি প্রতিযোগী অংশগ্রহন করেন এই প্রতিযোগীতায়। প্রতিযোগিতার প্রথম রাউন্ড আয়োজিত হয় সারাদেশের সমস্ত প্রতিযোগীর মধ্যে, যেখান থেকে বাছাই করা হয় বিভাগীয় পর্যায় ও জাতীয় পর্যায়ের বিজয়ীদের। জাতীয় পর্যায়ে সেরা ২০ জনের মধ্য থেকে লিখিত ও ভাইভা বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চুড়ান্ত বিজয়ীদের নিশ্চিত করা হয়। জাতীয় পর্যায়ে ১ম হয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র শাহ মুশফিক উস সালেহীন মারুফ, ২য় হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কামরুজ্জামান এবং ৩য় স্থান অধিকার করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ ইহসান।

সেরা বিশে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের প্রাধান্যই লক্ষ্য করা গেছে। অলিম্পিয়াডের পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটির উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়ন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইসলামী আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় মালয়েশিয়ার সাবেক ডিন জনাব আবুল হাসান এম সাদেক। সভাপতিত্ব করেছেন গবেষক ও ধর্মতাত্ত্বিক, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি অলিম্পিয়াড আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান শায়খ মুসা আল হাফিজ । প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ইমাম কমিটির যুগ্ম মহাসচিব শায়খ ওসমান গনি। আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটির ফ্যাকাল্টি অফ আর্টসের ডিন প্রফেসর ওসমান গনি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক জনাব আরিফুল ইসলাম অপু , ইউনাইটেড মুসলিম উম্মাহ বাংলাদেশের সভাপতি জনাব মজুমদার মোহাম্মাদ আমিন প্রমুখ । ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অধিকারকারীদের পুরস্কার হিসেবে দেয়া হয় যথাক্রমে ৫০, ৩০ ও ২০ হাজার টাকা প্রাইজমানি, ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট। পাশাপাশি ৪-২০ তম স্থান অধিকারকারীদেরকেও দেয়া হয় বিশেষ পুরস্কার, বই, ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট ও প্রাইজমানি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলার আবুল হাসান এম সাদেক নতুন বিশ্ব বাস্তবতায় ইসলামের ক্রমবর্ধমান ভুমিকা এবং ইসলামকে বুঝতে ইসলামের ইতিহাস জানার গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করেন। তিনি তুলে ধরেন ইতিহাসে মুসলমানদের অবদানের কথা। পাশাপাশি, ইসলামের ইতিহাস চর্চা ছড়িয়ে দিতে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি অলিম্পিয়াডের ভুমিকার ভুয়সী প্রশংসা করেন। অলিম্পিয়াড আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান শায়খ মুসা আল হাফিজ বলেন, সভ্যতার সংঘাত ও আকাশ সংস্কৃতির প্রেক্ষাপটে ইসলামী সংস্কৃতির জ্ঞানদক্ষ অনুশীলনের বিকল্প নেই ইসলামের ইতিহাস চর্চার মাধ্যমে ইসলাম সম্পর্কে চলমান ভুল ধারনা ও মুসলমানদের বিভিন্ন ধারার মধ্যকার চিন্তাগত দুরত্ব কমিয়ে আনতে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি অলিম্পিয়াড ভবিষ্যতে শক্তিশালী ভুমিকা পালন করতে চায়। অন্যান্য বক্তাগণ আত্মপরিচয় ও জাতীয় সংহতিকে সুদৃঢ় করার মাধ্যমে তারুণ্যকে সমাজ ও বৃহত্তর বাস্তবতায় ইতিবাচকতার অনুশীলনের আহবান জানান।