তালেবানের সমর্থনে কাবুলে হাজারো মানুষের সমাবেশ

img

নুরবিডি নিউজ: আফগানিস্তানে তালেবানের সমর্থনে অন্তত এক হাজার মানুষ সমাবেশ করেছেন। রোববার রাজধানী কাবুলের উত্তরের পাহাড়ি উপকণ্ঠের কোহদামান শহরের বড় একটি মাঠে এই সমাবেশ আয়োজিত হয়। সেখানে তালেবান নেতৃবৃন্দ এবং কমান্ডাররা বক্তব্য দেন। সাত সপ্তাহ আগে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। তারপর এই প্রথমবারের মতো রাজধানীতে এ ধরনের সমাবেশের আয়োজন করা হলো।

রাজনৈতিকভাবে নিজেদের শাসন সুসংহত করার জন্য সাধারণ মানুষের সমর্থন প্রদর্শন করতেই রোববার তালেবানের পক্ষ থেকে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। তবে এই সমাবেশে নারীদের উপস্থিতি দেখা যায়নি। শুধুমাত্র পুরুষরা এতে অংশ নেন। সমাবেশে থাকা লোকজন তালেবানের সমর্থনে শ্লোগান দিচ্ছিলেন। এর আগে নারীরাও তালেবানের সমর্থনে সমাবেশ করেছিলেন। সমাবেশে অ্যাসল্ট রাইফেল বহনকারী তালেবানের যোদ্ধাদের সম্পূর্ণ যুদ্ধসাজে সজ্জিত হয়ে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। বক্তারা শ্রোতাদের সামনে সারি সারি চেয়ারে বসে বক্তৃতা করেন। কার্যক্রম শুরুর আগে পতাকা এবং রকেট লঞ্চার সহ ভারী অস্ত্র বহনকারী যোদ্ধাদের একটি মিছিল জনতার চারপাশে প্রদক্ষিণ করে। সাধারণ সমর্থকদের মধ্যে কেউ কেউ ঘরে তৈরি পোস্টার নিয়ে এসেছিলেন। অন্যরা তালেবানের লাল বা সাদা প্রতীকযুক্ত হেডব্যান্ড পরেছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে তালেবানদের বিজয়কে সম্মান জানিয়ে গাওয়া সঙ্গীত সমগ্র এলাকায় প্রতিধ্বনিত হয়। একটি গানের কথা ছিল, ‘আমেরিকা পরাজিত, অসম্ভব, অসম্ভব - কিন্তু আসলে সম্ভব’। সমাবেশ থেকে কেউ কেউ তালেবানপন্থী শ্লোগান দিচ্ছিলেন। কাছেই প্রায় ১০ জন সশস্ত্র যোদ্ধা একজন নিহত তালেবান কমান্ডারকে সম্মান জানিয়ে এবং ‘দেশকে মুক্ত করার কাজে আফগানিস্তানের ইসলামী আমিরাতের জন্য কোহদামানের জনগণের সমর্থন’ এর জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে লেখা একটি বড় ব্যানারের নীচে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

তালেবান দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর থেকেই লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছিল। এর আগে যখন ১৯৯০ সাল থেকে ২০০১ পর্যন্ত তালেবান দেশের ক্ষমতায় ছিল তখন বেশ কঠোর নিয়ম জারি ছিল। তালেবানের পূর্বের শাসন ব্যবস্থা ফিরে আসে কিনা তা নিয়েই সংশয় দেখা দিয়েছে। কিন্তু তালেবানের পক্ষ থেকে সবাইকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, তারা দেশের মানুষের জন্য কাজ করবে। তবে তালেবানের শাসন শুরুর পর থেকেই দেশটিতে অর্থনৈতিক সংকটসহ বিভিন্ন ধরনের বিপর্যয় শুরু হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত শহর তাদের নিয়ন্ত্রণে আসার পর বিচ্ছিন্নভাবে তালেবানবিরোধী কিছু সমাবেশ দেশটির বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। যার অগ্রভাগে ছিলেন নারীরা। কিন্তু সরকার পূর্ব অনুমোদন ছাড়া সমাবেশ নিষিদ্ধ করার আদেশ জারি করার পর থেকে এ ধরণের বিক্ষোভ হ্রাস পেয়েছে। কারণ লঙ্ঘনকারীদের জন্য ‘কঠোর আইনি পদক্ষেপ’ এর সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছিল। যেসব মুষ্টিমেয় নারী বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন তাদের কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত একটি সমাবেশে ‘পরিকল্পিত প্রচার স্টান্ট’ হিসাবে সমালোচনা করা হয়েছিল। যেখানে সম্পূর্ণ পর্দা করা শত শত মহিলারা নতুন শাসনের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। সূত্র : ডন।