শেষ হলো কায়রোর ৫২তম আন্তর্জাতিক বইমেলা

img

নুরবিডি নিউজ : মীযান মুহাম্মদ হাসান,  প্রতি বছরই আরবি ভাষা সাহিত্যপ্রেমীদের সবচেয়ে বড় বইমেলা অনুষ্ঠিত হয় মিশরের রাজধানী কায়রোতে। মিশরের আলআযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আল ফারুক বিন হাবিব মেলায় অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তার অভিব্যক্তি তুলে ধরে বলেন- যখন থেকে বইমেলার গুরুত্ব অনুধাবন করতে শিখেছি, তখন থেকেই এ আন্তর্জাতিক বইমেলা নিয়ে আমি বেশ আগ্রহী।  শিক্ষকদের কাছে শুনতাম, কায়রোর এ বইমেলায় সব ধরনের বই পাওয়া যায়; এখানে রয়েছে দুর্লভ বই-কিতাবের বিপুল সমাহার। তারপর আধুনিক ছাপা আরবি কিতাবগুলো খুললেই মিশরের নাম লেখা দেখতাম। সে কারণেও মিশরের মাকতাবা-প্রকাশনার প্রতি জন্মেছিল অগাধ ভালোবাসা। বইমেলার গেইট দিয়ে ঢুকে এত বিশাল, গোছালো, জমজমাট এবং সুন্দর বইমেলা দেখে নিজেকে বেশ সৌভাগ্যবান মানুষ মনে হলো। মনের অজান্তেই বেরিয়ে এলো- আশশুকরু কুল্লুহু লিল্লাহ।

বৈশ্বিক মহামারি করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবারও শুরু হয়েছিল মিশরের ৫২ তম কায়রোস্থ আন্তর্জাতিক বইমেলা। গত ১লা জুলাই থেকে মেলা শুরু হয়। গত ১৫ জুলাই ছিল মেলার শেষ দিন। মিশরের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ বইমেলা শুধু আরবি ভাষা নয়, ইসলামি সাহিত্যের সবচেয়ে বৃহৎ বইমেলা। সাধারণত প্রতিবছর জানুয়ারির শেষ দিকে শুরু হয়ে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে বইমেলা। এ বছর প্রায় এক হাজার আরবি ভাষার প্রকাশনী এই মেলায় অংশ গ্রহণ করে। এবারের করোনাকালীন মেলার প্রথম দিনে ৭২ হাজার দর্শনার্থী বইমেলা পরিদর্শনে এসেছিল। প্রতিদিন সর্বোচ্চ এক লাখ পাঠকের জন্য বইমেলায় প্রবেশের অনুমতি ছিল। এ ছাড়া এবার মেলায় প্রবেশে কোনো ফি নির্ধারণ করা হয়নি।

এবারের বইমেলায় ৬৭৫টি প্যাভিলিয়ন ছিল। এতে এক হাজার ২১৮টি প্রকাশনীর বেশি প্রকাশনীর স্টল ছিল। এ ছাড়া ২৫টি দেশ থেকে বিভিন্ন প্রকাশনী মেলায় অংশ নিয়েছিল। আল ফারুক বিন হাবিব জানিয়েছেন- আমি দুদিন গিয়েছিলাম বইমেলায়। প্রথম দিন শুধু দর্শনে উপভোগ করার জন্য। দ্বিতীয় দিন বই কেনার জন্য; যেগুলো প্রথম দিন নির্বাচন করে গিয়েছিলাম। দ্বিতীয়বার আযহার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক নিয়ে গিয়েছিল। তিনি আরও জানান, আযহারের কার্যক্রম অনেক সুদূর প্রসারী। ছবিতে কিতাব কিনছেন একজন ক্রেতা।