একের পর এক মানবিক দৃষ্টান্ত পেশ করছে তুরস্ক!

img

তুরস্ক থেকে হাফিজুর রহমান, এবারের ঘটনাটা বাংলাদেশ কেন্দ্রীক।ঘটনার সূত্রপাত হয় আয়শে দিপচিন নামে এক টুইটার ব্যবহারকারীর একটি টুইটের মাধ্যমে । ১৪ মে তিনি একটি টুইট করেন। যেখানে দিপচিন বলেন, বাংলাদেশে বসবাসকারী তার বড় বোন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর আগে তার শ্বশুর করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। তিনি বলেন, আমার বোন ভাইরাসে আক্রান্ত হলেও ওখানে কোনও চিকিৎসা পাচ্ছেন না।

এমনকি তার টেস্টও করানো যাচ্ছে না । তার তিন বছরের দুই যমজ সন্তানও রয়েছে। আমরা চাই তাদেরকে তুরস্কে নিয়ে এসে চিকিৎসা দেয়া হোক। সাথে তিনি বোনের সাথে মেসেজের কথোপকথনের স্ক্রিন শট এবং তার বোনের পরিবারের ছবি শেয়ার করেন।

ঢাকায় অবস্থিত তুরস্ক দূতাবাসের নজরে পড়ে এ টুইটটি। ওই তুর্কি নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে এয়ার এম্বুলেন্স চায় । ঢাকায় তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মুস্তাফা ওসমান তুরান নিজেই পুরো বিষয়টি তত্ত্বাবধান করেন। আক্রান্ত পরিবারের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ রক্ষা করেন। অবশেষে গতকাল ২৪ শে মে সকালে তুরস্কের একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ওই পরবারটিকে নিয়ে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে রওয়ানা দেয় ।

বিশ্বের উন্নত দেশগুলো যখন করোনায় নাকাল তখন তুরস্ক এভাবেই তাদের নাগরিকদের সর্বোচ্চ সেবা দিচ্ছে, সেটা পৃথিবীর যেই প্রান্তেই হোক না কেনো! এরদোয়ান : দ্যা চেঞ্জ মেকার লিখতে গিয়ে আমি বলেছিলাম, তুরস্ক গত আঠারো-বিশ বছরে সবচেয়ে উন্নয়ন যে দুটো সেক্টরে করেছে এরমাঝে অন্যতম হলো স্বাস্থ্য খাত। এবারের করোনা এর বাস্তবতা প্রমান করেছে। এখানে একটা তথ্য দিয়ে শেষ করি;

"তুরস্ক ২০০৮ সাল থেকে বিমান এম্বুলেন্স (বিশেষত প্রবাসীদের দেশে আনতে) এবং হেলিকপ্টার এম্বুলেন্স জরুরী সার্ভিসে যোগ করেছে। জরুরী রোগী পরিবহন সেবার এগুলো ব্যবহ্ত হয় এবং পুরোপুরি ফ্রি। ঐদিন স্বাস্থ্য মন্ত্রীর একটি টুইট দেখছিলাম তাতে তিনি উল্লেখ করেছেন পৃথিবীর একমাত্র দেশ যে কিনা এয়ার এম্বুলেন্সে বিনামূল্যে সেবা দেয়। শুধু এ বছরেই ৪৫৩ রোগীকে হেলিকপ্টার এম্বলেন্স এবং ২১১ জন রোগীকে বিমান এম্বুলেন্সে সেবা দেওয়া হয়েছে। আমি দু:খিত, এখানে একটা বাক্য লিখতে বাধ্য হচ্ছি। সেটা হলো, এ সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কে কোন রেংকের কর্মকর্তা, কে মন্ত্রী, কে এমপি তা মোটেই বিবেচনা করা হয়না বরং এটার সার্ভিস সকল আম জনতাই পায়।"