প্রথম রাউন্ডেই তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত এরদোগান, সংসদেও সংখ্যাগরিষ্টতা

img

মাসুম খলিলী

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম রাউন্ডেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন রিসেপ তাইয়েব এরদোগান। সংসদ নির্বাচনেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে একে পার্টি ও এমএইচপির সমন্বয়ে গঠিত পিপলস জোট। বিশ্ব নেতৃবৃন্দের অনেকে এর মধ্যে নির্বাচনে জয়ের জন্য প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

এবারের নির্বাচনে ৮৭.৫ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফল অনুসারে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৯৯.২ শতাংশ ভোট গণনায় শাসক জোট সমর্থিত প্রার্থি রিসেপ তাইয়েব এরদোগান ৫২.৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিরোধি সিএইচপি প্রার্থি মোহারেম ইন্স পেয়েছেন ৩০.৭ শতাংশ ভোট। বাকি ০.৮ শতাংশ ভোটে এই ফলাফলে তেমন হেরফের হবে না।

অন্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থিদের মধ্যে গুড পার্টির মেরেল আকসেনার পেয়েছেন ৭.৩ শতাংশ,এইচডিপির সালাদিন ডেমিরেটাস পেয়েছেন ৮.৪ শতাংশ এবং সাদাত পার্টির টেমেল কারামোলাগ্লু পেয়েছেন ০.৯ শতাংশ ভোট।

সংসদ নির্বাচনে ৯৯.২ শতাংশ ভোট গণনায় শাসক পিপলস জোটের একে পার্টি পেয়েছে ৪২.৫ শতাংশ (আসন ২৯৩), এমএইচপি পেয়েছে ১১.১ (আসন ৫০) শতাংশ। অন্য দিকে বিরোধি ন্যাশন জোটের সিএইচপি পেয়েছে ২২.৭ শতাংশ (আসন ১৪৬), গুড পার্টি পেয়েছে ১০ শতাংশ (আসন ৪৪) এবং সাদাত পার্টি পেয়েছে ১.৪ শতাংশ ভোট। জোট বহির্ভুত কুর্দি দল এইচডিপি পেয়েছে ১১.৬ শতাংশ ভোট (আসন ৬৭) ।

পাওয়া ফলাফল অনুসারে শাসক জোট পিপলস এলায়েন্স ভোট পেয়েছে ৫৩.৬ শতাংশ ( আসন ৩৩৭) আর বিরোধি ন্যাশন এলায়েন্স ভোট পেয়েছে ৩৪ শতাংশ (আসন ১৯০)। জোট বহির্ভুত দলগুলো ভোট পেয়েছে ১২.৪ শতাংশ (আসন ৬৭)।

তুরস্কের নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী কোন দল ১০ শতাংশ ভোট না পেলে সংসদে কোন আসন পায় না। তবে সেটা জোটভুক্ত দলগুলোর জন্য প্রযোজ্য নয়। কেননা জোট যদি ১০ শতাংশের বেশী ভোট পায় তবে জোটভুক্ত সকল দলই ১০ শতাংশের উপরে পেয়েছে বলে গণ্য হবে।
পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্টতা পাওয়ার জন্য মোট আসন ৬০০ টি আসনের মধ্যে ৩০১ টি আসন দরকার হয়। এই সংখ্যাগরিষ্টতার চেয়ে বেশি আসন পেয়েছে সরকারি জোট।

তুরস্কের নির্বাচনের নিয়ম অনুসারে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে এরদোগান ৫০ শতাংশের কম ভোট পেলে দ্বিতীয় রাউন্ডের নির্বাচনে যেতে হতো আগামী ৮ জুলাই। এখন আর সেই নির্বাচনের প্রয়োজন হবে না।

সবমিলে এবারের নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফলাফল মনে করা হয়েছিল প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের যদি প্রথম রাউন্ডে জয় পাওয়া এবং সরকারী জোটের সংসদে সংখ্যাগরিষ্টতা লাভ করা। এটি অর্জন করার ফলে প্রথম নির্বাহি প্রেসিডেন্ট হিসাবে তুরস্কের এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবেন এরদোগান।

উল্লেখ্য, আগামী বছর নভেস্বরে তুরস্কের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল। তার জোট সঙ্গী এমএইচপি নেতা বাসেলির পরামর্শে এই নির্বাচনকে্ এরদোগান ২৪ জুনে এগিয়ে নিয়ে আসেন।

এক্ষেত্রে এরদোগান অনেক বড় ঝুঁকি নিয়েছেন বলে অনেক বিশ্লেষক উল্লেখ করেছিলেন। এবার এরদোগান বিরোধি জোটে কামালপন্থী সেক্যূলারিস্ট সিএইচপির সাথে ইসলামিস্ট সাদাত পার্টি এবং জাতীয়তবাদী গুড পার্টি জোট গঠন করায় নির্বাচনে কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয় এরদোগানকে।