Notice: Undefined variable: blog in /home/noorbd/public_html/app/core/noorbd/editorial.php on line 58

Notice: Undefined variable: blog in /home/noorbd/public_html/app/core/noorbd/editorial.php on line 59
দক্ষিণ এশিয়ায় বীর আফগানীদের প্রভাব ও কর্তৃত্ব

দক্ষিণ এশিয়ায় বীর আফগানীদের প্রভাব ও কর্তৃত্ব

img

দক্ষিণ এশিয়ার এই বদ্বীপ অঞ্চলে ইসলামের প্রচার ও প্রসারে সবচেয়ে যারা বেশি ভূমিকা রেখেছে তারা আফগানিস্তান হয়ে আসা সাহসী মুজাহিদরা। যদিও পাশ্চাত্যের গোলামীর চশমা পরা মানুষগুলোর চোখে মুজাহিদ শব্দটা শুনলেই একটু কান খাড়া হয়ে উঠে। তদুপুরি এটাই সত্য। আমরা যদি ইসলাম নিয়ে গর্ব করি, তাহলে আফগানীদের ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়। গজনী, কাবুল আর আফগানের কালাপাহাড়ের ইতিহাস আমাদের জাতীয় কবি মরহুম কাজী নজরুল ইসলামের কবিতায় পাওয়া যায়।

সোমনাথ বিজয়ী সুলতান মাহমুদরাই আমাদের সাহসের প্রেরণা। মোগল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা রাজা জহির উদ্দীন বাবররাই আমাদের অতীত গৌরব। ইখতিয়ার উদ্দীন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজীরা আফগান হয়েই দিল্লি। অত:পর এই বঙ্গ বিজয়ের মাধ্যমে এদেশে ইসলামের যে যাত্রা শুরু হয় তা আজ পূর্ণতায় রূপ লাভ করেছে। ইতিহাসের সাথে আমাদের বিচ্ছিন্ন করতে আমাদেরকে তথাকথিত জঙ্গিবাদের ধোয়া তুলে আমাদেরকে কাবুলের মাটিতে পা রাখা বন্ধ করা হয়েছে। গোজনীর কালাপাহাড়ে আমরা আজ যেতে পারি না। আমাদের স্বাভাবিক যাতায়াত তাদের সাথে নেই। আর আফগানীদেরকেও রাখা হয়েছে নানামুখি চাপে।

কিন্তু ইতিহাস বলে, এই আফগানীরা যদি জেগে উঠে তাহলে দক্ষিণ এশিয়ায় এদের প্রভাবকে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়। আজকের বীর আফগানিদের কাছে বিশ্বের সুপার পাওয়ার আমেরিকা গোলামী দস্তখত দিয়ে বিদায় নিচ্ছে। অনেক রক্ত আফগানিদের দিতে হয়েছে। কিন্তু সর্বশেষ বিজয় তাদেরই হয়েছে। এখনো চূড়ান্ত বিজয় আসেনি। সময়ের অপেক্ষা। ইনশাআল্লাহ, একটি স্বাধীন আফগান রাজ্য তৈরীতে যারা অহঙ্কারী আমেরিকাকে পদানত করতে পেরেছে তারা দক্ষিণ এশিয়ায় শক্তিশালী রাষ্ট্রও গড়তে পারবে।

ভারত উপমহাদেশে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠিত হযেছে আফগানিদের মাধ্যমেই। দক্ষিণ এশিয়ায় আফগানিদের উত্থান ঘটছে, অপরদিকে পশ্চিম এশিয়ায় তুর্কিদের উত্থান ঘটছে। আয়া সোফিয়াকে যাদুঘর থেকে পুনরায় মসজিদে ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে বীর তুর্কি জাতি যেভাবে ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ায় একটি নতুন উত্থানের বার্তা দিচ্ছে, তেমনি বীর আফগানিরাও এ বার্তা দিচ্ছে যে, হ্যাঁ, আমরাও আসছি। এ ভারতবর্ষে রাজত্ব করার অধিকার আমাদের আছে। দিল্লির লাল কিল্লায় আবারও কালিমা খচিত পতাকা উত্তোলনের অধিকার আমাদের আছে। কারণ এই অঞ্চল আমাদের হাত থেকেই লুটেরা বৃটিশ শক্তি ছিনিয়ে নিয়েছিল।

আফগানিস্তান যদি স্থিতিশীল হয়, তাহলে অস্থির হযে উঠবে কাশ্মীর, আরাকান। স্বাধীনতার স্বপ্ন আরো গভীরভাবে অনুভুত হবে। দক্ষিণ এশিয়ায় আফগানই হতে পারে মুসলমানদের জন্য একটি নীরব ঘাটি। তুর্কিরা যেভাবে সকল প্রকার দাসত্ব থেকে মুক্ত হয়ে উঠছে, তেমনি আফগানিরাও দীর্ঘদিনের রক্ত ঝরানোর পর স্থিতিশীল হয়ে উঠছে। শুধু তাই নয়, যে কোন অপশক্তির কাছে মাথা না করার যে চেতনা আফগানিরা লালন করছে তা ছড়িয়ে পড়বে দক্ষিণ এশিয়ার সর্বত্র। এর প্রভাব থেকে বাংলাদেশও মুক্ত থাকবে না।

লর্কমেকলের দাসত্বমূলক শিক্ষার দ্বারা বাংলার মুসলমানরা প্রভাবিত হলেও যখন তরুন প্রজন্মের কাছে এটা পরিস্কার হয়ে যাবে যে, বৃটিশের শিক্ষা পদ্ধতি, রাজনীতি কোনটাই আমাদের জন্য কল্যাণকর নয়, তখন ঘুমন্ত এই জাতির জেগে উঠতে সময় লাগবে না। আফগানিদের হাতে বৃটিশ মার খেয়েছে। রাশিয়া নাস্তানাবুদ হয়েছে। আর খোদ আমেরিকাতো নাকে খত দিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। আফগানিদের সাথে গোটা দক্ষিণ এশিয়ার মুসলমানদের আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। মাজহাবি সম্পর্ক রয়েছে। তুর্কি মুসলমানদের প্রতি ভারতবর্ষের মুসলমানদের যে ভালোবাসা অতীতে ছিল আজো যেমন তা অব্যাহত আছে, তেমনি দক্ষিণ এশিয়ার মুসলমানদের মনে আফগানিদের প্রতি ভালোবাসা ছিল, আছে।

আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট অঞ্চল। পাশাপাশি কাশ্মীর, আরাকানও মুসলমানদের হারানো অঞ্চল। গোটা দক্ষিণ এশিয়ায় এক নবজাগরণ ঘটবে। এর পেছনে নেপথ্যে প্রভাব বিস্তার করবে তুর্কিদের উত্থান। লুজান চুক্তির মেয়ার শেষ হবে ২০২৩সালে। আল্লাহ যদি সহায় হন, তাহলে এরপর তুর্কিদের আর ঠেকিয়ে রাখা খুব কঠিন। সেই মরুঝড় এসে হামলে পড়বে ভারতবর্ষেও। হয়তোবা আগেকার মতো খেলাফত ফিরে আসবে না, কিন্তু আসতে পারে নুতন ধারার মুসলিম ইউনিউয়ন। সুদূর ইস্তাম্বুলে বসেও তুর্কিরা আফগানিদের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় নজরদারি করতে পারবে।

মধ্য এশিয়ায় রাশিয়া থেকে স্বাধীনতাপ্রাপ্ত বিশাল আয়তনের প্রতিটি মুসলিম দেশেও জাগরণ ঘটবে। কারণ তারাই মুলত: তুর্কি জাতির আদিপুরুষ। উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, কাজাখাস্তান, আরমেনিস্তান প্রভৃতি অঞ্চলগুলোতে তুর্কিদের ব্যাপক প্রভাব বাড়বে। এ ঢেউ এসে পড়েব আমাদের বদ্বীপ অঞ্চল এই বাংলাতেও ইনশাআল্লাহ। তুরস্কের সাবেক প্রেসিডিন্ট নাজমুদ্দিন এরবাকান তার শিষ্য এরদোয়ানদের সামনে একটি নতুন ধারার মুসলিম ইউনাইটেড শক্তি গড়ে তোলার ফর্মুলা দিয়ে গিয়েছে। ডি৮ গঠন ছিল এমনই একটি চিন্তাধারার ফসল। বাংলাদেশ ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় এর বাইরে থাকতে পারবে না ইনশাআল্লাহ।

তুরস্ক ইতিমধ্যেই কাতার চুক্তির মাধ্যমে বীর আফগানিদের হৃদয়ও জয় করে নিয়েছে। কাতার যেহেতু তুরস্কের ব্লকে, সেই হেতু আগামী দিনে আফগানে যে সরকার আসছে তাতে তাদেরও প্রভাব থাকবে। সেই সরকারে প্রভাব থাকবে পাকিস্তানেরও। ভারত চাইলেও আর আফগানে কূটনীতির নোংরা খেলা খুব বেশি দিন চালিয়ে যেতে পারবে না।

বাবরী মসজিদ একদিন কথা বলবে। কথা বলবে দিল্লীর শাহী মসজিদও। লালকেল্লা আবারও হতে পারে রক্তে লাল। তবুও উড়বে কালিমাখচিত ইসলামী নওহেলাল। সেদিন বেশি দূরে নয়। আল্লাহ যেন আমাদের দেখে যাওয়ার তৌফিক দান করেন।

জেনারেল সেক্রেটারী
বাংলাদেশ ইন্টেলেকচুয়াল মুভমেন্ট ( বিআইএম)
26.07.2020