Notice: Undefined variable: blog in /home/noorbd/public_html/app/core/noorbd/editorial.php on line 58

Notice: Undefined variable: blog in /home/noorbd/public_html/app/core/noorbd/editorial.php on line 59
বিশ্ব ঈমানী ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় আফগান ও তুরস্ক

বিশ্ব ঈমানী ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় আফগান ও তুরস্ক

img

২৪জুলাই শুক্রবার আয়া সোফিয়ায় নামায চালু করার মাধ্যমে ইতিহাসে একটি নতুন দিনের সূচনা হলো। আমরা এ ঘটনাকে যতটা সহজভাবে বিবেচনা করি, বিষয়টি এত সহজ ছিল না। সহজ নয়। বাংলাদেশের অনেক ইসলামী ঘরানার ব্যক্তিবর্গ যতটা সহজে আয়া সোফিয়াতে নামায আদায়ের পর আল আকসা উদ্ধারের বার্তার প্রচার করছেন এভাবে প্রচার না করাটাই উত্তম মনে করি।

এরদোয়ানের প্রতিটি কাজ, প্রতিটি সিদ্ধান্ত এতটাই দূরদর্শী যে, এটা বুঝতে অনেকের পক্ষেই কঠিন হয়ে যায়। এরদোয়ান সরকার কখনোই বলে নাই, আমরা ইসলামী শরিয়াহ কায়েম করার জন্য কাজ করছি। আমরা ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করছি। আজো এরদোয়ানের মাথার ওপর কামাল আতাতুর্কের ছবি ঝুলে। আজো তুর্কি সংবিধানে কামালিজম রয়ে গিযেছে। সেক্যুলারিজম রয়ে গিয়েছে। এখনো তুর্কি নারীরা রাস্তায় ইউরোপিয়ান স্টাইলে পোশাক পরেই চলাচল করে। আজো এরদোয়ান সরকার ইসরাইলসহ ন্যাটো, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, আমেরিকা, রাশিয়া, ইরানের সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্ক রেখেই তাদের কূটনীতি চালিয়ে যাচ্ছে। তারপরও মুসলিম বিশ্বে এরদোয়ান কেন এত জনপ্রিয়?

আমাদের পেট্রোডলারের সেবাদাস অনেক আলেম এখনো এরদোয়ানকে ঈমানদার কী না সেটা নিয়েই গবেষণা করে যাচ্ছে। তাঁর সহীহ আক্বীদার গভীরতা মাপতে মাপতে তাদের মাথা নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম। এক সহীহ হাদীসের অনুসারীকে দেখলাম, তিনি এরদোয়ান একসময় ফূটবল খেলতেন, সেই ছবি প্রচার করে বলছে, এই দেখো তোমাদের সুলতান?

সেই এরদোয়ানকে নিয়ে বিশ্বের মুসলমানদের এত আগ্রহ কেন? কেন তারা এরদোয়ানকে বিশ্বনেতার আসনে বসাতে উদগ্রীব? যার মধ্যে এত এত ত্রুটি দেখতে পাওয়া যায়, যার মধ্যে এখনো ইসলামের প্রকাশ্য কোন চরিত্রই দেখা যায় না, যার মাথায় লম্বা পাগড়িও নেই, টুপিও নেই, দাঁড়িও নেই, নেই কোন বড় জুব্বা অথবা কোন আরবীয় শাঈখদের মতো বাহারি কালারের রুমালের ব্যবহার। তারপরও কেন বোকা মুসলিমরা এত পাগলপারা?

সত্যিই কি এরদোয়ান এত খারাপ? বিশ্বের আর দশটি দেশের ইসলামী নেতাদের কি উচিত তাকে অনুসরণ করা? তার রাজনীতি, কৌশলকে পর্যবেক্ষণে রাখা? হ্যাঁ, এটাই উচিত। আরবরা ধার্মিক, কিন্তু বিশ্ব রাজনীতিতে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা তাদের নেই। গোত্রভিত্তিক শাসন আর বেদুঈনি জিন্দেগী যাপন করা আরবরা পেট্রোডলারের কারণে আজ সম্পদশালী বটে, কিন্তু তাদের মধ্যে রাজনীতিতে বিশ্বের সামনে কোন প্রকার আদর্শ, নমুনা প্রদর্শন করা সম্ভব হয়নি। আরব আমিরাতকে আরব বিশ্বের সবচেয়ে নোংরা রাজনীতির গুটি মনে করা হয়। পাশ্চাত্যের গোলামীতে আরবরা সেরা। কারণ শরীফ হোসাইনদের উত্তরাধিকারি গোষ্ঠী এরচেয়ে ভালো কিছু উপহার দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

ব্যতিক্রম তুর্কি জাতি। তারা ৬শত বছরের অধিককাল মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্ব দিয়েছে। তুর্কিদের মধ্যে এমন কিছু গুণাবলি আছে যা আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করে। তুর্কিদের মধ্যে দেশপ্রেম, উম্মাহপ্রেম, আল্লাহপ্রেম অনেক বেশি। বিশ্ব ঈমানী ভ্রাতৃত্ব গড়তে এরদোয়ান ইতিমধ্যেই দক্ষতার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়েছেন। তুর্কিরা ইতিমধ্যেই সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বের প্রতিটি অঞ্চলের মুসলমানদের সাথে তাদের ঘনিষ্টতা তৈরীতে উদ্যোগ নেওয়া শুরু করেছে। আর এ কারণেই আরবদের গায়ে জ্বলা ধরে গিয়েছে। খাদেমুল হারামাইনরা যে খাদেমুল আমেরিকা ও খাদেমুল ইসরাইল এটা সচেতন মুসলিমদের পরিস্কার হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে সৌদী আরবও ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক রাখে, তুর্কিরাও রাখে। এই দুই সম্পর্ক রাখার মধ্যেও যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান তা প্রতিটি সচেতন মুসলিম অনুধাবন করে।

বাংলাদেশের ইসলামপন্থী ব্যক্তি ও দলের সকল কর্মীদের কাছে বিনীত আবেদন থাকবে, বর্তমান তুরস্ক থেকে শিক্ষা গ্রহন করুন। এরদোয়ানের রাজনীতিকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। যদিও বাংলাদেশের গণমানুষের মনন ও বিকাশের সাথে তুর্কি জনগণের মন ও মননের বিকাশের অনেক পার্থক্য রয়েছে, তথাপি আমাদেরকে সফল হতে হলে তাদের সেই পথেই যেতে হবে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার আবর্জনা দূর করতে হবে। রাষ্ট্রীয় দৃর্বত্তপনা প্রতিহত করতে হবে। প্রতিবেশি দেশটির প্রতি অন্ধু আনুগত্য ও ভালোবাসা ত্যাগ করতে হবে। উম্মাহকেন্দ্রিক চিন্তার বিকাশ ঘটাতে হবে। ঈমানী ভ্রাতৃত্ব বৃদ্ধি করতে হবে। চিন্তা-চেতনায় উদার হতে হবে।

ভারতীয় মুসলমানদের উচিত তাদের হারানো সাম্রাজ্য উদ্ধারে তুর্কিদের সাথে একযোগে কাজ করা। দিল্লী আমাদের, লালকেল্লা আমাদের। দিল্লীর শাহী মসজিদে আমাদের আধিপত্য নেই। তাজমহল আমাদের। কুতুবমিনার আমাদের করা। এইদেশকে মুসলমানরা যতটা গড়ে দিয়েছে আর কেউ সেটা করতে পারেনি। আজ ভারতবর্ষে এখনো মুসলমানদের রক্ত ঝরে। সেই রক্তঝরা বন্ধ করতে বিশ্বব্যাপি মুসলিম ভ্রা্তৃত্ব তৈরীর যে ঢেউ আমরা লক্ষ্য করছি তার সাথে আমাদেরও শরীক হতে হবে।

আসুন আমরা এই মর্মে শপথ করি যে, বাবরী মসজিদ আবারও উদ্ধার করবো ইনশাআল্লাহ। দিল্লীতে আবারও ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠা করবো ইনশাআল্লাহ। তুরস্ক মুসলিম বিশ্বের সামনে আশার যে পাহাড় গড়ে দিচ্ছে তাতে আমরা আশাবাদি, পরিবর্তন আসবে। সেই পরিবর্তনে তুরস্কের পাশাপাশি বিশেষ ভূমিকা রাখবে আফগান। সুলতান মাহমুদ গজনভীর উত্তরসুরিরা আবারও জাগছে। দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব  বিস্তারকারি শক্তি হলো আফগান। আফগানের স্থিরতা, স্থিতিশীলতা ভারত উপমহাদেশে বিশাল প্রভাব রাখবে।

25.07.2020