হক যে পক্ষই হোক, ক্ষতি কিন্তু সবার

img

* ব্যাখ্যা যাই দাঁড় করানো হোক, সত্য- যে পক্ষই হোন না কেন, পরীক্ষা সংক্রান্ত এই সংবাদে ক্ষতি হবে হাইয়াতুল উলয়া বাংলাদেশের। সাদ সাহেব সংক্রা্ন্ত বিষয়কে টেনে নিয়ে লালখান বাজার মাদ্রাসার মতো একটি প্রতিষ্ঠিত, পরিচিত মাদ্রাসার কেন্দ্র স্থগিতই হোক, আর পরীক্ষা স্থগিতই হোক এসব আবেগি সিদ্ধান্ত আমাদেরকে হাস্যকর পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে।

* মুফতি ইজহার সাহেব যে বক্তব্য দিয়েছেন তার সাথে অনেকেই একমত না। এমনকি তাঁর সন্তানেরাও না। এর প্রতিউত্তর বড় কোন ব্যক্তি দিতে পারতেন। কোন সমাবেশে দিতে পারতেন, সংবাদ সম্মেলনে দিতে পারতেন। কথার উত্তর কথার মধ্যেই সীমিত থাকলে, এটাকে হাইয়াতুল উলয়া পর্যন্ত টেনে না নিলে ভালো হতো। এর মাধ্যমে কি মুফতি ইজহার সাহেবকে দুর্বল করা যাবে? কখনোই না। এটা কওমী চরিত্র না। বরং আরো কিছু বাড়তি কথা মুফতি ইজহার থেকে বের হওয়ার আশঙ্কা।

* এখন এক সাহেবজাদা চ্যালেঞ্জ দিবেন, আরেক সাহেবজাদা উত্তর দিবেন। এর ভিতর দিয়ে কোন দিনই হক প্রতিষ্ঠিত হবে না। মাঝখান দিয়ে কিছু সাধারণ মানুষের গালি ফ্রিতে উপহার পাবেন এটা নিশ্চিত। এটা আমাদের চরিত্র। কারো সাথে বনিবনা না হতে পারে। মতের চরমতম বিরোধও থাকতে পারে। এক সময় দেখা যাবে এই লোকগুলোকে এক টেবিলেই। মাওলানা ফরিদ উদ্দীন মাসউদ যখন শাহবাগে, তখন সমস্ত উলামায়ে কেরাম শাপলায়। তাকে নিয়ে বিরোধের কোন শেষ নেই। আবার দেখা গেলো কওমী আলেমগণ ঠিকই মাসউদ সাহেবের সাথে বসেছেন। স্বীকৃতি আদায় নিয়ে কথা বলেছেন। মুফতি রুহুল আমীন সাহেবের জননী উপহার নিয়ে কথা কম হয় নাই। তিরস্কার, নিন্দা সবকিছুরই ঝড় বয়ে গিয়েছে। কিন্তু দস্তরখানে একসাথেই দেখা যায়।

* ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ যখন আসে, তখন একটু প্রতিশোধটা না নিলে ভালো লাগে না। বড়দের কাছের কিছু মানুষ বড়তে বড়তে টক্কর লাগিয়ে দেয়। আপন আপন শায়খের গুণকীর্তনে তারা একটু বেশি তোষামোদগার।বড়দের ওরা একটু বেশি কাছাকাছি থাকতে, বিরোধী মতের ব্যাপারে একটু রং রস লাগিয়ে কোন সংবাদ হুজুরকে শোনান। ফলে হুজুরও গোসসা প্রকাশ করেন। এই সুযোগটা অনেক শাগরেদই কাজে লাগায়। এই সংস্কৃতিটা চলছে আমাদের অঙ্গনে। এদের কারণেই দল ভাঙ্গে, সংগঠন ভাঙ্গে। প্রতিষ্ঠানও ভাঙ্গে।

* মনে রাখতে হবে, আমাদের কাছে জনাব আনাস মাদানী যেমন সম্মানিত, তেমনি মুফতি হারুন ইজহারও সম্মানিত। তাদের পরিবারিক কারণে, শিক্ষাগত যোগ্যতার কারণে, ইলমী খেদমাতের কারণে আমরা সকলকেই সম্মানের চোখে দেখি। অনেক অবুঝ মানুষ সাহেবজাদাদের নিয়ে এমন সব শব্দ ব্যবহার করে যা শূনলে যে কোন সুস্থ্য মানুষের কষ্ট লাগে। অতএব আপনারা নিজেদের নিয়ন্ত্রন করুন। ভক্তদের দিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার কূটকৌশল প্রয়োগের চিন্তা থেকে শতভাগ দূরে থাকুন। এটা আপনাদের জন্য যেমন সুন্দর, আমাদের জন্য শান্তিদায়ক।

* কওমী অঙ্গনে এমন কোন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে নাই, যেটাকে বিতর্কের উর্ধ্বে রাখা হয়েছে। বেফাককে নিয়ে গালিগালাজ কম হয় নাই। আমরা জিদ মিটাতে গিয়ে ভেঙ্গে ফেলতে খুব আগ্রহী। কিন্তু সবাইকে ধরে রাখার জন্য কাজ করতে আগ্রহী লোক অনেক থাকলেও সামান্য কয়েকজনের কারণে অনেক কিছুই ধ্বংস হয়ে যায়। বেফাক, হাইয়াতুল উলয়া আমাদের অনেক বড় সম্পদ। এগুলোকে রাগ-বিরাগের জায়গা থেকে পরিচালনা করলে উদ্ভুত সমস্যা নিরসনে নানা গুজবের ডালপালা ছড়াবে। কী প্রয়োজন এর সুযোগ দেওয়ার?

* একটি কথা মনে রাখবেন, আলেমদের মধ্যে দ্বন্ধ যেন বাড়তে থাকে, ক্ষোভ যেন ছড়াতে থাকে তার জন্য এই অনলাইনে প্রচুর লোক কাজ করে। এই দুই পক্ষই কী বোর্ড রেডি করে রাখে। এরা কী বোর্ডে ঝড় তুলে। ফলে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে দুই পক্ষকেই সমানে গালিগালাজ করতে থাকে। মিথ্যা সংবাদ, অর্ধমিথ্যা মিশ্রিত সংবাদ এরা দ্রুত ছড়ায়। ফলে তা আর দুই পক্ষের নিয়ন্ত্রনে থাকে না। তখন দুই পক্ষই নিজেদের পক্ষে সাফাই গাইতে বিভিন্ন মিডিয়ার আশ্রয় নেয়। মিডিয়াও সুযোগ নেয়।

সাদ সাহেবের পক্ষ নিয়ে বেফাক বা হাইয়াতুল উলয়া কেন লালখান বাজারকে হাতছাড়া করবে? এতে কী বড় ধরণের কোন ফায়দা আছে? মনে হয় না।

19.03.2019