ক্রাইষ্টচার্চের ঘটনা : দু'টি কথা না বললেই নয়।

img

১.
ক্রাইষ্টচার্চের এই ঘটনা হতাহতের দিক দিয়ে নতুন হলেও প্রকার ও চরিত্রের দিক দিয়ে নতুন নয় মোটেও। এগুলো আসলে কোন দিনই বন্ধ ছিলো না। মুসলমানদের হজ্ব কাফেলা লুন্ঠন করে শতশত মানুষকে হত্যার ঘটনা প্রায় প্রতিবছরই ঘটতো। মুসলিম বানিজ্য কাফেলাকে লুট করে সমূলে নিশ্চিহ্ন করার ঘটনাও অহরহ ঘটতো। মসজিদ, মাদরাসা, খানকাহের কথা নাইবা বললাম। তবে, আধুনিক যুগে এসে সোভিয়েতের পতনের পর থেকে এই ধারা নতুন মাত্রা পায়। সেটা পুরোপুরি বেগবান হয় ৯/১১ এর পর। টুইনটাওয়ারের ঘটনা এবং তার পরবর্তী পদক্ষেপগুলো পরিষ্কারভাবে তার আগের এবং পরের ইতিহাসের মাঝখানে একটি মোটা রেখা টেনে দেয়। পৃথিবীর যে কয়েকটি ঘটনাকে ইতিহাসের টার্নিং পয়েন্ট বলা হয়, যেমন, বদর যুদ্ধ, বাগদাদের পতন এবং তারপর আইনজালুতের যুদ্ধে মঙ্গোলিয়ানদের পরাজয়, তুর্কিদের কনস্টানটিনোপল বিজয় ইত্যাদি, তার মধ্যে আগামীর ইতিহাস এই ঘটনাকেও যোগ করবে। এই ঘটনার পর পশ্চিম আনুষ্ঠানিক ঘোষনা দিয়ে গোটা মুসলিম দুনিয়াকে অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করায়। সামরিক, কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং মিডিয়াশক্তিসহ যাবতীয় শক্তি নিয়োগ করে ইসলামকে সন্ত্রাসের আসনে বসায় তাকে শায়েস্তা করার জন্য। তখন তাদের যুদ্ধোম্মাদনার সামনে আমাদের মুসলিম নেতৃত্ব একেবারেই কোনঠাসা হয়ে পড়ে। শুধু কোনঠাসা নয়, নিজেদের পিঠ বাঁচানোর জন্য তাদের সকল অপকর্মের দোসর হয়ে পড়ে। এই দৃশ্যটা যদি সাময়িক হতো তাহলে ক্ষতির পরিমানটা সম্ভবত আরো কম হতো। কিন্তু সেটা হয়নি। এর গতি এখনো স্ববেগে বিদ্যমান। এই ঘটনার পর একদিকে নতজানু মুসলিম দুনিয়ার অপরাধী মুখ ভাসতে থাকে, বিপরীতে প্রচন্ড মিডিয়া সন্ত্রাসের মাধ্যমে গোটা দুনিয়াকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলা হয়। ইসলামকে সন্ত্রাসের প্রতিশব্দ হিসেবে দাঁড় করানোর সর্বাত্মক প্রচার যুদ্ধ শুরু হয়। এর ফলে পশ্চিমের বড় একটি অংশের মনে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃনার বীজ বুনে দিতে সক্ষম হয় তারা। এই বীজ ধীরে ধীরে পল্লবতি হয়ে এখন কুফল দিচ্ছে। ক্রাইষ্টচার্চ তার নতুন উদাহরণ। এই ঘৃনাকে পুঁজি করে গোটা সাদা দুনিয়ায় শুরু হয় কট্টর ডানপন্থী সমাজের উত্থান। এরা সামাজিক গন্ডি ভেদ করে এক পর্যায়ে রাষ্ট্রক্ষমতা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। অন্য আরো দশটি কারণের মতো এই এন্টিমুসলিম পরিচয়টি ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউজের চাবি হস্তগত করতে সহায়তা করে। একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট যখন বলেন, "আমি মনে করি ইসলাম আমাদেরকে ঘৃনা করে।" "ইসলাম আমাদের কালচারের অংশ হতে পারে না" -- তখন এই ইসলামোফোবিয়াটা কোন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমেরিকা ছাড়াও অস্ট্রিয়া এবং ইতালিতে এই চক্র এখন রাষ্ট্রক্ষমতায়। স্পেনের আন্দালুসিয়াতে এরা পার্লামেন্টের বড় অংশিদার। এরা হরহামেশাই হুংকার দিয়ে যাচ্ছে স্পেনকে আবারো মুসলিমশূন্য করার। জার্মানী, নেদারল্যান্ড এবং ফ্রান্সে তারা রাষ্ট্রক্ষমতার খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। ফান্স এবং নেদারল্যান্ডে তারা আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় আসলে আশ্চর্যের কিছু হবে না। জার্মানীতে গোপনে হলেও খুব মারাত্মকভাবে নব্যনাৎসীদের উত্থান ঘটছে। তবে, তাদের এবারের টার্গেট ইহুদীরা নয়, মুসলমানরা। তারা প্রায়ই মসজিদে ভাঙচুর করে দেয়ালে স্বস্তিকা চিহ্ন এঁকে দিয়ে যায়। ক্রাইষ্টচার্চ হামলার পর অস্ট্রেলিয়ান সিনেটর ছাড়াও ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও ইসলামী সন্ত্রাসবাদকে রুখে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়েছেন। এরকম একটি বেদনাদায়ক ঘটনার পরেও তাদের মনে মানবিক দৃষ্টিকোন থেকেও সামান্য সহানুভূতি জাগেনি। উল্টো তারা খ্রীষ্টানসন্ত্রাসীটিকেই সাপোর্ট দিয়ে গেল। এরকম ঘৃনা আর উম্মাদনা, রাষ্ট্রীয়ভাবে সন্ত্রাসের পক্ষে অবস্থান নেয়া এবং সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষকতা করার ঘটনা আধুনিক বিশ্ব এই প্রথম দেখছে। এটাকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। এগুলো স্পষ্টভাবেই সভ্যতার সঙ্ঘাতের অংশ। ক্রাইষ্টচার্চের সন্ত্রাসীর অস্ত্রের গায়ের লিখনগুলোও তাই প্রমান করে। তার মতো হাজারো সন্ত্রাসী ইউরোপ আমেরিকা জুড়ে হন্য হয়ে ঘুরছে। এর প্রমান, এই ঘটনার পর লন্ডনের মুসল্লীদের উপর উগ্র খ্রীষ্টানদের হামলা। স্যামুয়েলের কথাগুলো যেন আক্ষরিকভাবেই প্রতিফলিত হচ্ছে। যদি তাই হয় তাহলে ক্রাইষ্টচার্চ সর্বশেষ ঘটনা নয়। আরও ক্রাইষ্টচার্চ অপেক্ষা করছে সামনে।

২.
ক্রাইষ্টচার্চের ঘটনা একটি আইকনিক ঘটনা। এরকম ঘটনার আবেদন/প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই বেশী হয়। এটা অযৌক্তিক না। তবে, আমাদের দ্রুত বাস্তবতায় ফিরে আসতে হবে। যেদিন এই ঘটনা ঘটে ওই দিন ইসরাইল গাজায় ১০০ বার বিমান হামলা চালায়। এক একটা গোলার আঘাতে গোটা আসমান পর্যন্ত আগুনের ফুলকী উঠে। সম্ভবত ইসরাইল এই হামলায় তার সর্বাধুনিক ও পাওয়ারফুল বোমাগুলোর পরীক্ষা চালিয়েছে। আপনি কি মনে করেন যে, এতগুলো বোমা ওরা স্রেফ মাটির উপর ফেলে চলে গেছে? নিশ্চয়ই নয়। সিরিয়ায় এ পর্যন্ত যত লোক নিহত হয়েছে তার সিংহভাগ ইসরাইল, আমেরিকা, রাশিয়া এবং অন্যান্য ইউরোপীয়ান শক্তির হাতে নিহত হয়েছে। রাশিয়া ঘোষনা দিয়ে বলেছে তারা এ পর্যন্ত সিরিয়ায় ৩৬০ প্রকারেরও বেশী নতুন অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। রাক্কা এবং মসুলে কী পরিমান মানুষ আমেরিকা এবং তার দোসররা মেরেছে এবং কত নৃশংসভাবে হত্যা করেছে তার পরিসংখ্যান এবং বিবরণ দেখলে ক্রাইষ্টচার্চকে জাষ্ট খেলনা মনে হবে। ইরাকযুদ্ধে এবং যুদ্ধপরবর্তী সময়ে আবুগারিব কারাগারসহ অন্যান্য বন্দী শিবিরগুলোতে তাদের পৈশাচিক বর্বর হত্যাকান্ড কোনভাবেই নিছক যুদ্ধকর্ম নয়। এর চেয়ে বেশি কিছু। প্রতিটি ইরাকি মুসলমানের মাথার খুলী উড়িয়ে আর বেয়নেট দিযে বন্দীদের চোখ উপড়ে ফেলার মধ্যে তারা অন্যরকম আনন্দ লাভ করছিল। এক পৈশাচিক অনুভূতিতে তারা বুঁদ ছিল। এগুলো কোনটাই বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। প্রত্যেকটা ম্যাসাকারই ওদের ওয়ার অন টেরর নামক নব্য ক্রুসেডের অংশ। কোনটা সরাসরি সেনাবহিনী দ্বারা পরিচালিত। কোনটা তাদের প্রশ্রয়ে কিংবা ইন্ধনে ক্রাইষ্টচার্চের কসাইয়ের মতো সিভিল উম্মাদদের দ্বারা পরিচালিত। তাই বিষয়গুলোকে সামগ্রীকভাবে দেখা উচিত।

৩.
মুসলিম জাতীর এরকম করুন পরিনতির জন্য পশ্চিমাদের আগ্রাসনের পাশাপাশি আমাদের শাসকরা কোন অংশে কম দায়ী নয়। ৯/১১ পর অল্প কিছু সময়ের জন্য তারা স্তবির হয়ে পড়লেও তাদের সুযোগ ছিল স্রোতকে কিছুটা হলেও রুখে দেয়ার। তাদের কর্তব্য ছিল পশ্চিমের "ইসলামী সন্ত্রাস" নামক পরিভাষার বিরুদ্ধে জোরালো আপত্তি তোলা। ওদের প্রচার যত মজবুতই হোক, আমাদের পক্ষ থেকে পাল্টা আপত্তির মুখে সেটা এক সময় অকেজো হতে বাধ্য হতো। অন্তত এই পরিমান ক্ষতিসাধন করতে পারতো না। কিন্তু আমাদের সরকারগুলো ঠিক উল্টো কাজটিই করেছে। তারা পশ্চিমাদের চেয়েও বেশী আগ বাড়িয়ে ইসলামী সন্ত্রাস নামক জুজুর বিরুদ্ধে লড়েছে এবং লড়ছে। অবশ্য রাজনৈতিক স্বার্থেই করেছে এগুলো। পশ্চিমাদের কাছ থেকে মসনদ ক্রয় করার মূল্য পরিশোধ করেছে এসব অপকর্মের মাধ্যমে, এবং এখনো করছে। বাংলাদেশের তথাকথিত প্রগতিশীল সরকারের কথা সবারই জানা। তাই নতুন করে বলার কিছু নেই। আরবে, মুহাম্মাদ বিন সালমান কথায় কথায় মুসলমানদেরকে সন্ত্রাসী বলতে উস্তাদ। পলিটিক্যাল ইসলামের সাথে জড়িত সবাইকে তিনি ইহুদীদের চেয়েও বদতর সন্ত্রাসী মনে করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে তার পবিত্র যুদ্ধ চালিয়ে যাবার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এমনকি মাতৃভূমীর জন্য লড়াইকারী হামাসও তার চোখে সন্ত্রাসী। সৌদি আরবের আল আরাবিয়া টেলিভিশন নেটওয়ার্কের পেইজে ক্রাইস্টচার্চের সন্ত্রাসীকে "সন্দেহভাজন আক্রমনকারী" বলা হচ্ছিল। এমন কি তখন স্বয়ং নিউজিল্যান্ডের সরকারী মাধ্যমেও তাকে সন্ত্রাসী বলা হচ্ছিল। এই আল আরাবিয়া আরকানের মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সন্ত্রাসী বলতে একটুও কুন্ঠাবোধ করে না। হামাস ইখওয়ানতো তাদের দৃষ্টিতে ট্রেডমার্ক সন্ত্রাসী। মাত্র কিছু দিন আগে দাভোস সম্মেলনে আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেছেন, পশ্চিমারা তাদের গণতন্ত্রের মাধ্যমে তাদের দেশের মুসলিম যুবকদেরকে সন্ত্রাসী হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। ইউরোপের ৬০% নওমুসলিম সন্ত্রাসী হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের লড়াইয়ে যোগ দিচ্ছে। এর দায়ভার পশ্চিমকে বহন করতে হবে। মানে, মুসলমান যুবকরা সন্ত্রাসী হচ্ছে পশ্চিমাদের উদার নীতির কারণে। তার কিছুদিন পর আরেকটি প্রভাবশালী আরব রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট মিউনিখে নিরাপত্তা সম্মেলনে যোগ দিয়ে পশ্চিমাদেরকে পরামর্শ দিয়ে বলেছিলেন, যদি সন্ত্রাস রুখতে চান তাহলে মসজিদের উপর নজরদারী বাড়ান। এখানে কী বলা হচ্ছে সেগুলোর ব্যাপারে খোঁজ খবর রাখেন। যেকোন ভাষণে তিনি মুসলমানদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে, তাদের কারণে গোটা দুনিয়া অশান্তিতে আছে। এমনকি এর প্রতিকারের জন্য ইসলামের নুসুসকেও (মানে, কোরআন হাদীসের বানীকেও) পরিবর্তন করতে হবে, যেগুলো কট্টরপন্থা শিক্ষা দেয়। কিছুদিন পূর্বে একটি আরব দেশের সেনাবাহিনীর একটি মহড়ায় দেখা যায় যে, তারা মসজিদ আকৃতির ডামি বানিয়ে সেটার ভেতর লুকিয়ে থাকা মুসলিম সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। কিছুদিন পূর্বে ফরাসী প্রেসিডেন্ট একটি আরব দেশ সফর করতে এসে ইসলামী সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আরো বেশী পদক্ষেপ নেয়ার জন্য লম্বা নসীহত করে যান। কারো মুখ দিয়ে কোন রকম প্রতিবাদ বের হয়নি। বরং মনে হচ্ছিল, এই বক্তব্যকে তারা তাদের কর্মের প্রতি পশ্চিমাদের সার্টিফিকেট হিসেবে দেখছিল। এই যখন আমাদের সরকারগুলোর অবস্থা, আমরাই যখন উল্টো মুসলামানকে সন্ত্রাসী বলছি, আমরাই মসজিদের উপর নজরদারী বাড়াতে বলছি, মসজিদের ডামী বানিয়ে সেটার উপর শুট করছি তখন ক্রাইষ্টচার্চের সিভিল কসাই আর ধুসর উর্দী পরিহিত সভ্যদুনিয়ার সরকারী কসাইদের কর্মের প্রতিবাদ করতে একটু হলেও লজ্জা লাগে।

৪.
সভ্যতার এই লড়াইয়ে মুসলমানদের যেকোন সংগ্রামই অতিমূল্যবান। ব্যক্তি পর্যায় থেকে নিয়ে গুষ্ঠীগত, রাষ্ট্রীয়, যেকোন অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তাই সময় এসেছে নিজেদের মধ্যকার ভেদাভেদ আপতত ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধ হতে না পারলেও অন্তত নিজের/নিজেদের পছন্দমত কাজটি করে যাওয়ার। অন্যের দোষচর্চা বন্ধ রাখার। সালাহুদ্দীনের সকল সৈনিকরা খাঁটি সুন্নী বা সবাই ঈমান, আমলের মানদন্ডে পুরোপুরী উতরে গিয়েছিলেন এমন কেউ দাবী করতে পারবে না। কিন্তু তিনি তাদেরকে নিয়ে কুদস বিজয় করেছিলেন। জিহাদের ময়দানে এমনকি চোরকেও আপাতত সাজা না দেয়ার বিধান আছে যদি এর দ্বারা মুসলমানদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দেয়। তাই এখন বিভক্তির সময় নয়। বিভক্তি থাকবে, কিন্তু সেটার কারণে পরষ্পরের দিকে কামান দাগানোটা আত্মঘাতী কাজ বৈ কিছু হবে না।
খন্ড এবং গেরিলা যুদ্ধের গুরুত্ব আছে। কিন্তু এগুলো ইতিহাসে সবসময় চূড়ান্ত বিজয় এনে দিতে পারেনি। বড় যুদ্ধের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে অথবা পতনকে বড়জোর বিলম্বিত করেছে। স্পেনের পতনকালে গ্রানাডাসহ আশে পাশের রাজ্যের মুসলিম গেরিলাদের সংগ্রাম এবং চেচনিয়ার মুজাহিদদের সংগ্রাম একটি উদাহরণ। সে ক্ষেত্রে রাষ্ট্রশক্তির অনেক বেশী সফল হওয়ার সম্ভাবনা আছে। ইউসুফ বিন তাশফিনের রাষ্ট্রশক্তিই পতনোম্মোখ স্পেনের বুকে আরো ৩০০ বছর ইসলামের বাতি জ্বালিয়ে রেখেছিল। তাই এই যুগেও আমাদেরকে রাষ্ট্রশক্তির দিকে নজর দিতে হবে। ইসলামী বিধানের মানদন্ডে পুরোপুরী উৎরে যায় এমন রাষ্ট্রশক্তি হয়তো পাওয়া যাবে না। কিন্তু মন্দের ভালো হিসেবেও যেসব রাষ্ট্রের এই স্রোতের মুখে দাঁড়ানোর ক্ষমতা এবং প্রচেষ্ঠা আছে, সেগুলোর পাশে দাঁড়ানো দরকার। সেগুলোকে ভাঙ্গার চেয়ে মজবুত করার মধ্যেই আমাদের কল্যান রয়েছে। যিনি এই সঙ্ঘাতের ভবিষ্যৎবানী করেছিলেন সেই স্যামুয়েল হান্টিংটনও এটাই বলেছেন। একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় মুসলিম রাষ্ট্রের কথা, যেটা এই তুফানে আমাদের আশ্রয় হবে। তিনি সম্ভাব্য কিছু মুসলিম রাষ্ট্রের নামও উল্লেখ করেছেন। আর যাই হোক, সেগুলো অন্তত ট্রয়ের কাঠের ঘোড়ার মতো কাজ দিলেও প্রাপ্তির পরিমানটা অনেক বড় হবে!
.