তুরস্কে আমিনে শাহীনের গ্রেফতারী এবং দুটি কথা

img

মূল আলোচনায় যাওয়ার আগে একটি অভিজ্ঞতার কথা বলি। ২০১১ সালে আরব বসন্ত পরবর্তী সময়ে একদিন আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে তখনকার মিসরের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী, প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ, প্রসিদ্ধ আইনজীবী এবং সালাফী নেতা শায়খ হাযেম আবু ইসমাইলের একটি দরসে উপস্থিত হয়েছিলাম। আমাদের পাশে বসেছিল কয়েকজন সালাফী যুবক। অনেক কথা হলো। তারা ক্ষমতায় গেলে কী কী করবে এসব নিয়ে দীর্ঘ আলাপ হলো। আলাপের এক প্রসঙ্গে আমি বললাম, পরিবর্তন তো ধীরে ধীরে করতে হবে। হুট করে তো করা যায় না। এক সালাফী যুবক আমার এই কথার কড়া প্রতিবাদ করে বলল, 'তোমার এই কথা ভুল। ইসলামে 'ক্রমান্বয়' বলতে কিছু নেই। তোমাকে ইসলামের বিধান এক সাথেই প্রয়োগ করতে হবে। "তোমরা পুরোপুরিভাবে ইসলামে প্রবেশ কর" ইত্যাদি কয়েকটি দলীল শুনিয়ে দিলো। আমি বললাম, ইসলামী আইন প্রয়োগের জন্য তো সকল ইসলামী রাষ্ট্রনীতিবিদ "ইস্তিতায়াত" বা সক্ষমতার শর্ত লাগিয়েছেন। আপনার কথা ধরে নিলে সিনেমা, থিয়েটার, নাইটক্লাব, শারম আল শায়খের বিনোদন কেন্দ্র, আলেকজান্দ্রীয়া, দিমইয়াত, পোর্ট সাঈদ, ইসমাইলিয়া এবং মারসা মাতরুহের মতো বিশাল বিশাল পর্যটন নগরীর সৈকতগুলোর কি হবে? এগুলোকে কি করবেন? পর্যটনতো মিসরের বড় রাষ্ট্রীয় আয়ের মাধ্যম! তার নির্লিপ্ত উত্তর --"আমরা বিজয়ী হওয়ার পরের দিনই এগুলো সব বন্ধ করে দেবো। একদিনও দেরী করবো না।" ঐ সময় ইসমাইলিয়া শহরে একদিন সন্ধ্যায় একটা ব্রীজের উপর দুইজন নারী-পুরুষ দাঁড়িয়ে কথা বলছিল। এক সালাফী যুবক এসে দুইজনকেই উপর্যপুরি ছুরিকাহত করে হত্যা করে। তাদের অপরাধ ছিল, কেন তারা খোলামেলা জায়গায় দাঁড়িয়ে কথা বলছে? তারা স্বামী স্ত্রী কি না সেটা জানারও প্রয়োজন বোধ করেনি মুজাহিদ ভাইটি।

হাযেম আবু ইসমাইল অবশ্য নির্বাচনে প্রতিদ্ধন্দিতা করতে পরেন নি। তাঁকে ষড়যন্ত্র করে নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু সালাফীরা ইখওয়ানের পর পার্লামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন দখল করতে সক্ষম হয়েছিল। ক্যুর আগে একবছর পর্যন্ত পার্লামেন্ট তাদের হাতে ছিল। কিন্তু মিসরের কোন একটি অনৈসলামী আইন তারা বাতিল করতে কোন বিল উত্থাপন করেনি। তারপর যখন সামরিক বিদ্রোহ হলো তখন এক লাফে সামরিক সরকারের কাঁধে সওয়ার হয়ে সরকারের যাবতীয় সিদ্ধান্তে সমর্থন জানাতে লাগলো এবং মজলুম ভাইদের রক্ত মাংস ভক্ষন করা শুরু করলো!

এই হলো এদের অবস্থা!

'তাদাররুজ' বা 'ক্রমপর্যায়ে' কোন কাজ করা বা হওয়া একটি মহাজাগতিক নীতি। হুট করে কোন কিছু কোন দিন হয় না। জগতের সবকিছুতেই আপনি এর প্রমান দেখবেন। ইসলামের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। দাওয়াত এবং সংস্কারের অন্যতম শর্ত হচ্ছে তাদাররুজ। আপনি নিজে চেষ্টা করতে পারেন একদিনে হুট করে পরিবর্তন হতে পারেন কিনা! কিন্তু একটা দেশকে, একটি জাতিকে রাতারাতি পরিবর্তন করতে পারেন না। বিশাল একটি নদীর মোড় আপনি চাইলেই দিনে দিনে ঘুরাতে পারবেন না।

তুরষ্কের অতীত বর্তমানের খবর যারা রাখেন তারা জানেন, ২০০১ সালের আগ পর্যন্ত বিগত ৮০ বছরে কিভাবে খেলাফতের কেন্দ্র এই দেশটির পরিচয় থেকে ইসলামের সব আলামত মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে! আরবী ভাষা, আরবী আজান পর্যন্ত যেখানে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। আরবী লিপিতে লেখা ওসমানী ভাষারীতিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ইতিহাসের পাঠ্য বইয়ে, গল্প উপন্যাসে, সংবাদ মাধ্যমে ওসমানী সুলতানদেরকে সব সময় ভিলেন হিসেবে দেখানো হতো। আমাদের দেশের ইতিহাসকে যেমন ৭১ উপরে যেতে দেয়া হচ্ছে না, ঠিক তেমনি ভাবে তুরষ্কের ইতিহাসকে ১৯১৮ এর মধ্যে সীমীত করে ফেলা হয়েছিল। দেশের সকল পশ্চাদপদতার জন্য ওসমানীদেরকে দায়ী করা হতো। হিজাব পরা নিষিদ্ধ ছিলো। এই কারণ প্রধানমন্ত্রী হয়েও এরদোয়ানের কন্যাকে সেদেশের আইন তুরষ্কের ভার্সিটিতে পড়তে দেয়নি। এই ইতিহাসগুলো অনেক দীর্ঘ।

এখন কী হয়েছে দেখুন! ইসতাম্বুল আংকারার মতো আধুনিক শহরে এখন হিজাবী নারীর সংখ্যাই বেশি দেখবেন। যে ওসমানীদের নাম ছিল অস্পৃশ্য তাদের নামে ভার্সিটি, কলেজ, ব্রীজসহ প্রচুর সরকারী স্থাপনার নামকরণ করা হচ্ছে। ট্রাফিক সাইনবোর্ড এবং সরকারী বাসেও তুর্কি ইংরেজির পাশাপাশি আরবী ভাষা লেখা হচ্ছে। প্রত্যকটি ভার্সিটির সাথে মসজিদ থাকা আবশ্যক করা হয়েছে। প্রতিটি শহরে সরকারী খরচে বিশাল বিশাল মসজিদ তৈরি করা হচ্ছে! বাচ্চাদেরকে মসজিদমুখী করার জন্য সরকারীভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। আপনারা কি মনে করেন এগুলো খুব সহজে হচ্ছে! কতো সংগ্রামের ফল এগুলো সেই ব্যাপারে নূন্যতম ধারণাও কি আছে আপনাদের? এগুলো প্রথমত আল্লাহর সাহায্য এবং তার পর তুরস্কের ইসলামী নেতাদের সেই তাদররুজ বা ধীরে চলা নীতির ফল।

রাষ্ট্র কোন মুদির দোকান নয় যে, রাতারাতি পরিবর্তন করা যাবে। রাষ্টযন্ত্রকে হুট করে পরিবর্তন করতে যাওয়া মানে আত্মহত্যা করা। এই ব্যাপারে ইবনে খালদুনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আলাপ আছে মুকাদ্দিমার ৩য় অধ্যায়ের ৬ষ্ট প্রিচ্ছেদে। তিনি জনগণের উপর কোন কিছু চাপানোর পূর্ব শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন আসাবিয়্যাকে। অর্থাৎ এটা একটা যুদ্ধের মতো। এই কাজের জন্য আপনাকে অবশ্যই তার পূর্বে একটি শক্তিশালী নির্ভরযোগ্য 'উসবা' বা গোষ্ঠী এবং সহকর্মীদল তৈরি করে তার সহযোগীতা নিতে হবে। ধীর পদক্ষেপে এগুতে হবে। প্রয়োজনীয় রসদ জোগাড় করতে হবে। এটা না করে রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ জানালে পরাজয় এবং ধ্বংস অনিবার্য। খালদুনের ভাষায়:

وأحوال الملوك والدول راسخة قوية لا يزحزحها ويهدم بنائها إلا المطالبة القوية التي من ورائها عصبة القبائل والعشائر.

অর্থাৎ- "শাসকদের এবং রাষ্ট্রের অবস্থা সাধারণত অনেক শক্তিশালী ও মজবুত হয়। শক্তিশালী দাবী ছাড়া এগুলোকে টলাতে বা এর কাঠামোকে ভাঙ্গা সম্ভব হয় না। এমন দাবী যার পেছনে অবশ্যই গোষ্ঠী এবং কবিলার মানুষদের সমর্থন থাকবে।" (আল মুকাদ্দিমা, পৃষ্ঠা- ২০০)

এর কিছু উদাহরণ তিনি এনেছেন। যেমন, স্পেনে মুওয়াহহিদীনদের বিরুদ্ধে ইবনে কিসসীর নেতৃত্বে মুরাবিতীনদের বিদ্রোহ, খলীফা মামুনের বিরুদ্ধে ইবরাহীম ইবনে মাহদীর বিদ্রোহ এবং বাগদাদে খালেদ দারবিশের বিদ্রোহ। এগুলোর প্রত্যেকটির পরিণতিই খারাপ হয়েছিলো এই ব্যাপারগুলোর প্রতি গুরুত্ব না দেয়ার কারণে।

তুরষ্কে নিখাদ গণতন্ত্র রয়েছে সে দাবী হয়তো করা যাবে না। কিন্তু রাষ্ট্র হিসেবে তুরষ্ক শক্তিশালী ডিপস্টেট এবং পরিষদ ভিত্তিক একটি আধুনিক রাষ্ট্র। এখানে শক্তিশালী বিরোধী দল আছে। সরকারের কর্মকান্ডের উপর সর্বদা নজরদারী আছে। আদালতের উপর নির্বাহী ক্ষমতার কোন রকম হস্তক্ষেপ নাই। প্রশাসনকেও সরকার নিজের ইচ্ছে মতো পরিচালিত করতে পারে না। এরদোয়ান প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় তার গোয়েন্দাপ্রধানের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেছিল। পুলিশ গোয়েন্দাদের গাড়ী থামিয়ে চেক করে আটকে দিয়েছিল। সংবিধানের অনেক কিছু পরিবর্তন করা গেলেও পুরোপুরী পরিবর্তন করা সম্ভব হয়নি। এখনো ৮০ সালের সামরিক জান্তার সংবিধান কার্যকর। এই সংবিধানে আতাতুর্কের একটি অবস্থান নির্ধারণ করা আছে। সেটা কেউ লঙ্ঘন করলে আদালতের বিচারে অপরাধী হিসেবে দন্ডিত হবে। তাই এরদোয়ান প্রেসিডেন্ট হিসেবে আতাতুর্ককে সেই সম্মানটুকু দিতে বাধ্য। এজন্য তিনি আতাতুর্ককে ভালোবাসেন এমন দাবী করাটা সত্যের অপলাপ। তিনি ততটুকুই সম্মান দেন, যতটুকু দিতে সংবিধান এবং আদালত তাকে বাধ্য করেছে। এইজন্য দেখা যায়, তিনি জাতীয় দিবসগুলোতে আতাতুর্কের মাজারে যান, সরকারী অফিসে আতাতুর্কের ছবি ঝুলিয়ে রাখেন। কিন্তু রাষ্ট্রীয় প্রটোকলকেন্দ্রীক কোন বক্তব্য ছাড়া অন্য কোন ভাষণে আতাতুর্কের নামও কোন দিন মুখে নেন না। সচেতনভাবে এড়িয়ে যান। পক্ষান্তরে তার বক্তব্যে ঠাসা থাকে রাসূলের কথা, সাহাবীদের কথা, সেলজুক এবং উসমানী সুলতানদের কথা। এমনকি সর্বশেষ নির্বাচনী প্রচারণার বিখ্যাত ভিডিও টেপটিও বানানো হয়েছে সেলজুক এবং ওসমানী ইতিহাসের আলোকে। আক পার্টি কৌশলে তুরষ্ককে আতাতুর্কের প্রভাবমুক্ত করতে যা কিছু করার সবই করছে। এই পর্যন্ত তাদের শাসনামলে আতাতুর্কের নামে কোন নতুন স্থাপনার নামকরণ করা হয়নি। ইস্তাম্বুলের "আতাতুর্ক বিমানবন্দরে"র বিকল্প হিসেবে নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু করেছে, যেটা পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বিমানবন্দর হবে। বাম রাজনৈতিক দলগুলো এবং মিডিয়ার জোর দাবী সত্ত্বেও আতাতুর্কের নামে নামকরণ করেনি। এগুলো সবই হচ্ছে আতাতুর্কের প্রভাব থেকে জাতীকে ধীরে ধীরে বের করে আনার প্রচেষ্টা। প্রসিদ্ধ সৌদি রাজনীতিবিদ ডঃ মাসিরীর একটি ভিডিও আছে ইউটিউবে। সেখানে তিনি বলছেন, আমি এরদয়ানকে জিজ্ঞেস করেছিলাম - আপনারা তো ইসলামী ভাবাদর্শের রাজনীতি করেন।তাহলে কেন এখনো ইসলাম বিরোধী সকল কাজকর্ম নিষিদ্ধ করছেন না? তিনি বললেন, "আমার প্রথম কাজ হচ্ছে আমার জাতির জিন্য এমন কিছু করা যাতে একদিন তারা আমি বলা মাত্রই আমার কথা মেনে নিতে সম্মত হবে।" তার পর আতাতুরকের প্রভাবের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন - "আতাতুরক একটি শক্তিশালী মূর্তির নাম। এটাকে যতদিন কবরস্ত করা না যাবে ততদিন সব কিছু করা সম্ভব না। সময় দিন। ধীরে ধীরে সব কিছু হবে।"

তাদের এই কাজগুলকে আমাদের মূল্যায়ণ করতে হবে। তুরষ্কের রাজনৈতিক পরিবেশ বুঝতে হবে। তুর্কি জাতির প্রকৃতি ও রীতি-নীতির ব্যাপারে আমাদের ধারণা থাকতে হবে। তবেই আমাদের মন্তব্যগুলো ইনসাফপূর্ণ হবে। এগুলোর কোনটাই ছাড়াই বাংলার কুঁড়ে ঘরে বসে যদি বড় বড় ফতোয়া কপচাই তাহলে তাতে আদা বেপারীর জাহাজের খবর নেয়ার মতো অবস্থা হবে।

আতাতুর্কের বিরুদ্ধে বলার কারণে পুলিশ আমাদের বোন আমিনে শাহীনকে গ্রেফতার করেছে। এই ছবি দেখে কিছু মানুষ ফতোয়ার বন্যা বইয়ে দিচ্ছে। তাদেকে যদি জিজ্ঞেস করেন, আল্লাহতো প্রথমে আত্মিয় স্বজনদেরকে দীনের দাওয়াত দিতে বলেছেন। আপনি সবাইকে দাওয়াত দিয়েছেন? আপনার সকল আত্মীয় স্বজন পরিপূর্ণভাবে দীন পালন করে? দেখবেন ভাইটি হয়তো মিথ্যা বলবে, আর না হয় মুখ ফ্যাকাশে করবে, না হয় আপনাকে মুনাফিক বলে দুইটি আয়াত শুনিয়ে দেবে। আপনার প্রশ্নটির সোজা উত্তর দিবে না।

আমিনের কথাটাকে সংবিধানের ধারার লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে পুলিশ। তাই এখানে এরদোয়ান এবং একেপির তড়িৎ ভাবে কিছু করার সুযোগ নেই মানবিক সহানুভূতি এবং দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া। যেমনটি তার নিজের মেয়ের জন্য করতে পারেনি। তবে আইনীভাবে সহযোগীতা করার মাধ্যমে পরবর্তিতে এমিনেকে মুক্ত করতে পারবে। এবং সেটা করবে। ২০০৮ সালের দিকে সম্ভবত, এক ছাত্রীকে হিজাব পড়ে আসার অপরাধে ভার্সিটির সমাবর্তন অনুষ্ঠান থেকে বের করে দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। সরকার আইনের হাতে বন্দী থাকার কারণে কিছুই করতে পারেনি। তারপর যখন হিজাব নিষিদ্ধ আইন বাতিল করা হয়েছিলো তখন সরকার সর্বপ্রথম যে কাজটি করেছিলো সেটা হচ্ছে, সরকারীভাবে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ছত্রীটিকে ক্রেস্ট দেয়া হয়েছিলো। তখন ছাত্রীটির আনন্দাশ্রু দেখে পুরো হল ভর্তি মানুষের চোখও অশ্রুসজল হয়ে উঠেছিল। তাছাড়া আমিনে যে আজকে নেকাব পরে এই কথাটি বলতে পেরেছেন সেটাওতো বর্তমান সরকারের অবদান। আমিনের জন্য যে এখন হাজার হাজার তরুণ অনলাইনে অফলাইনে বিক্ষোভ করছে তারাওতো এই সরকারের কর্মী সমর্থক। এখন আতাতুরক নিয়ে একটি বিতর্ক উঠেছে। এর ফলে আতাতুরকের সাংবিধানিক অবস্থান নিয়ে আলাপ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর জের ধরে সংবধানের ধারাটি পরিবর্তন করার সুযোগ আসতে পারে। সব পরিবর্তন একটি ট্র্যাজেডির মাধ্যমেই হয়। একটি প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়েই হয়। বু আজিজির একজনের আত্মহত্যা গোটা আরব স্বৈরতন্ত্রের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল। অতএব, আমিনের ঘটনার একটি ইতিবাচক দিকও আছে।

বোনটির জন্য আমাদের দোয়া আছে। সহানুভূতি আছে। আল্লাহ বোনটির সর্বোত্তম সাহায্যকারী হোন। এই ত্যাগের সুফল আল্লাহ তাকে এবং তার পুরো তুর্কি জাতিকে ভোগ করার তাউফিক দিন। আমীন ইয়া রাব!