তুরস্কের নির্বাচন: আমাদের ভাবনা

img

আগামীকাল তুরস্কের জাতীয় নির্বাচন। পার্লামেন্ট এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচন একসাথে অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত সময়ের প্রায় বৎসর আগেই এই নির্বাচন অনুষ্টিত হচ্ছে। শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচনের গ্যারান্টি থাকা সত্ত্বেও যারা গণতন্ত্র নিয়ে তামাশা খেলে তাদের কাছে এই নির্বাচন অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তুরস্কে নির্বাচনের নামে তামাশা খেলাটা দিনদিন একটু কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এবারের নির্বাচনে যদি এরদোয়ান বিজয়ী হয়, তাহলে আগামী দিনে তুরস্কের রাজনীতি নিয়ে পাশ্চাত্যের খেলা করতে আরো কঠিন হয়ে যাবে। আর তাই ইসলামের চিরশত্রুরা উঠেপড়ে লেগেছে যে কোন মূল্যে এরদোয়ানকে শিক্ষা দিতে।

প্রকৃত মুসলমানদের সমস্যা হলো, তারা অন্যের অধিকারকে সম্মান করে, তারা যতই অপরাধ করুক, তাদের প্রতি প্রতিশোধ নিতে পারে না। প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে উঠতে পারে না। ইসলামবিরোধী প্রকাশ্য অপশক্তি এবং মুসলিম নামধারী মুনাফিক শক্তি প্রকৃত মুসলমানদের পরাজিত করতে পারলে যে কঠোর আচরণ করে, তা আমরা বারবার দেখেছি। মিশরের ইখওয়ানের সাথে রাবেয়া স্কয়ারে কী আচরণ করা হয়েছে, তা আমাদের জানা আছে। তালেবানের বিজয়ে তোড়াবোড়া পাহাড়ে মুসলমানদের সাথে আমেরিকা কী আচরণ করেছে, তা আমাদের সামনেই আছে। আলজেরিয়ার সলভেশন ফ্রন্ট এর বিজয়ে পাশ্চাত্যের কেনা গোলাম সেনাবাহিনী সত্যিকার মুসলমানদের সাথে কী আচরণ করেছে তা ইতিহাসে লিপিবদ্ধ আছে। এরদোয়ানরা হারলে ক্ষতি হবে সব ভালো মানুষের। আর এরদোয়ানরা জিতলে শান্তিতে থাকবে সব পক্ষই।

আর এ জন্যই আল্লামা আবুল হাসান আলী নদভী রহ. তাঁর বিখ্যাত বইয়ের নাম লিখেছিলেন “ মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?” নামে। মুসলমানরা হারলে বিশ্ব মানবতা হেরে যায়। মুসলমানরা হারলে শান্তি ও নিরাপত্তা পরাজিত হয়। মুসলমানরা বিজয়ী হলে মানবতা বিজয়ী হয়। আর সে জন্যই আজকের বিশ্বে নিপীড়িত মুসলমানরা এরদোয়ানকে মনেপ্রাণে ভালোবাসে। তাকে নিয়ে কেউ কেউ বিতর্ক করতে পারে। তাঁর মুখে দাঁড়ি নেই, তাঁর মুখে ইসলাম ইসলাম কায়েমের জিকির নেই। কিন্তু মুসলমানদের বড় একটি অংশ তাকে ভালোবাসে। সম্মান করে। তাঁর বিজয়ের স্বপ্ন দেখে।

এরদোয়ানরা অনেক ধৈর্যশীল। অনেক উদার। অনেক কৌশলী। কামাল আতাতুর্ক্ব এর আদর্শকে মনে প্রাণে ঘৃণা করলেও মাথার উপরে এখনো তার ছবি ঝুলিয়ে রেখেছে। তথাকথিত সেক্যুলারপন্থীদের সে কোন রকম কথা বলার সুযোগ দিতে রাজি নয়।কিন্তু এরদোয়ান কী জিনিস সেটা ইসরাইল, আমেরিকা খুব ভালো করেই জানে। জানে প্রকৃত মুসলমানেরাও। তাই আগামী কালের নির্বাচনে তাঁর বিজয় কামনা করি। তুরস্কের ধারাবাহিক উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা সকলেই অবগত। তার দৃষ্টি এখন আগামী দিনের মুসলিম বিশ্বের দিকে। আমার মন বলছে- এটাই হয়তো হবে শেষ তথাকথিত গণতান্ত্রিক নির্বাচন। অতঃপর ২০২১ সালে খেলাফত ধ্বংসের শতবর্ষ উদযাপনের সময় নতুন কোন ঘোষণাও আসতে পারে। সেটা খেলাফত ব্যবস্থা নামে না হলেও নতুন কোন নামে।

গণচীনে যদি গণতন্ত্রকে প্রত্যাখ্যাত করে বর্তমান প্রেসিডেন্টকে আজীবন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছে। এটা চীনের স্বার্থেই করেছে। এমন ধাচের কিছু হতে পারে। ভিন্ন কিছুও হতে পারে। মন বলছে- এই গণতন্ত্রের নামে যে প্রতারণাতন্ত্র বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের গিলানো হচ্ছে, সেখান থেকে তুরস্ক বেরিয়ে এসে বিশ্বব্যাপী মুসলিম ইউনিয়ন নামেও কিছু করতে পারে। দাওয়াম নামক পুস্তিকায় ড. এরবাকানের লেখা থেকে এমনই কিছু আভাস পাওয়া গিয়েছে।

সুতরাং আগামী কালের নির্বাচন শুধু এরদোয়ানের জন্যই নয়, তুরস্কের জন্যও নয়, বিশ্ব মুসলমানদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।শয়তানী চক্র সুষ্টু নির্বাচনের পরিবেশের সুযোগ নিয়ে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চাইছে। সব শয়তানীচক্রকে এক করতে বিশ্ব মোড়লরা ভুমিকা পালন করছে। আল্লাহ তায়ালার ফায়সালা আমাদের জানার সাধ্যের বাইরে। কিন্তু আমরা কামনা করছি- আল্লাহ তায়ালা যেন এরদোয়ানকে আগামী কালের নির্বাচনে বিজয় দান করেন।

23.06.2018
রুফাকা টাওয়ার