আল্লাহর উপর ঈমান

img

আল্লাহর উপর ঈমান হচ্ছে অন্তর থেকে আল্লাহর অস্তিত্বের উপর দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করার সাথে সাথে এ বিশ্বাস রাখা যে, তিনি সকল সৃষ্টির রব। ইবাদতের উপযুক্ত একমাত্র তিনি, অন্য কেউ নন। তিনি পরিপূর্ণ গুণাবলীর অধিকারী ও সব ধরণের ত্রুটি থেকে মুক্ত।
প্রথমতঃ আল্লাহর অস্তিত্বের উপর ঈমান
আল্লাহর অস্তিত্ব সর্বাধিক সত্য, এ সম্পর্কে কুরআনে রয়েছে ঃ 
ذلِكَ بِأَنَّ اللهَ هُوَ الْحَقُّ وَأَنَّ مَا يَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِـه هُوَ الْبَاطِلُ وَأَنَّ اللهَ هُوَ الْعَلِيُّ الْكَبِيْرُ. (الحج : ৬২)
অর্থ ঃ এটা এ কারণে যে, আল্লাহই সত্য, আর তাঁর পরিবর্তে তারা যাকে ডাকে, তা বাতিল এবং আল্লাহ্ সমুচ্চ মহান। (আল-হজ্জ ঃ ৬২)
তাঁর অস্তিত্ব সম্বন্ধে সন্দেহ পোষণ করা মূর্খতা ও অজ্ঞতা ছাড়া কিছুই নয়। 
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন ঃ 
قَالَتْ رُسُلُهُمْ أَفِي اللهِ شَكٌّ فَاطِرِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ يَدْعُوْكُمْ لِيَغْفِرَلَكُمْ مِنْ ذُنُوْبِكُمْ وَيُؤَخِّرُكُمْ إِلـى أَجَلٍ مُّسَمًّى قَالُوْا إِنْ أَنْتُمْ إِلاَّ بِشَرٌ مِّثْلُنَا تُرِيْدُوْنَ أَنْ تَصُدُّوْنَا عَمَّا كَانَ يَعْبُدُ آبَاؤُنَا فَأْتُوْنَا بِسُلْطَانٍ مُّبِيْنٍ . (ابراهيم: ১০)
তাদের পয়গম্বরগণ বলেছিলেন ! আল্লাহ্ সম্পর্কে কি কোন সন্দেহ আছে? যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের ¯্রষ্টা? তিনি তোমাদেরকে আহ্বান করেন। যাতে তোমাদের গুনাহ্ ক্ষমা করেন এবং নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত তোমাদের সময় দেন। তারা বলতঃ তোমরা তো আমাদের মতই মানুষ। তোমরা আমাদেরকে ঐ উপাস্য থেকে বিরত রাখতে চাও যার ইবাদত আমাদের পূর্বপুরুষগণ করত? তবে তোমরা আমাদের নিকট কোন সুস্পষ্ট আনয়ন কর।(ইবরাহীমঃ১০)
আল্লাহর অস্তিত্ব অস্বীকার করা কুফুরী ও মারাত্মক অপরাধ
আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন ঃ 
قَالَ لَقَدْ عَلِمْتَ مَا أَنْزَلَ هـؤُلاَءِ إِلاَّ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ بَصَائِرَ وَإِنِّيْ لَأَظُنُّكَ يَا فِـرْعَوْنُ مَثْبُوْرًا. ( الإسراء : ১০২)
অর্থ ঃ তিনি (মূসা আঃ) বললেন, তুমি জান যে, আসমান ও যমীনের পালনকর্তাই এসব নির্দেশনাবলী প্রত্যক্ষ প্রমাণ স্বরূপ নাযিল করেছেন। হে ফেরাউন, আমার ধারণা তুমি ধ্বংস হতে চলেছ। (বনী ইসরাঈলঃ১০২)
আল্লাহ্ তা‘আলা আরো বলেন ঃ 
قَالَ رَبُّ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَمَا بَيْنَهُمَا إِنْ كُنْتُمْ تَعْقِلُوْنَ . قَالَ لَئِنِ اتَّخَذْتَ إِلــهًا غَيْرِيْ لَأَجْعَلَنَّكَ مِنَ الْمَسْجُوْنِيْنَ . قَالَ أَوَلَوْ جِئْتُكَ بِشَيْءٍ مُّبِيْنٍ . قَالَ فَأْتِ بِـه إِنْ كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِيْنَ . فَأَلْقَـى عَصَاهُ فَإِذَا هِيَ ثُعْبَانٌ مُّبِيْنٌ . (الشعراء : ২৮-৩২)
অর্থ ঃ (মূসা আঃ) বললেন, তিনি পূর্ব-পশ্চিম ও এতদূভয়ের মধ্যবর্তী সব কিছুর রব, যদি তোমরা বুঝতে। ফেরাউন বলল, তুমি যদি আমার পরিবর্তে অন্য কাউকে মা‘বুদরূপে গ্রহণ কর, তবে আমি অবশ্যই তোমাকে কারাগারে নিক্ষেপ করব। মূসা (আঃ) বললেন, আমি তোমার কাছে স্পষ্ট বিষয় নিয়ে আগমন করলেও কি? (তুমি এরূপ করবে?) ফেরাউন বলল, তুমি সত্যবাদী হলে তা উপস্থিত কর। অতঃপর তিনি লাঠি নিক্ষেপ করলে মুহুর্তের মধ্যে তা সুস্পষ্ট অজগর হয়ে গেল। (শুয়ারা ঃ ২৮-৩২) 
আল্লাহ্ তা‘আলার অস্তিত্বের প্রমাণ
১. স্বভাব সুলভ প্রকৃতি বা ফিৎরাত ঃ 
আল্লাহ্ তাআলা বলেন ঃ 
فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّيْنِ حَنِيْفًا فِطْرَةَ اللهِ الَّتِيْ فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لاَ تَبْدِيْلَ لِخَلْقِ اللهِ ذلِكَ الدِّيْنُ الْقَيِّمُ وَلـكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لاَ يَعْلَمُوْنَ. (الروم : ৩০)
অর্থ ঃ তুমি একনিষ্ঠভাবে নিজেকে ধর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখ। এটাই আল্লাহর প্রকৃতি, যার উপর তিনি মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নেই। এটাই সঠিক ধর্ম। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না। (র্আ রূম ঃ ৩০) 
রাসূল বলেন ঃ 
مَا مِنْ مَوْلُوْدٍ إِلاَّ يُوْلَدُ عَلَى الْفِطْرَةِ فَأَبَوَاه يُهَوِّدَانِـه أَوْ يُنَصِّرَانِـه أَوْ يُمَجِّسَانِـه . (بخاري)
অর্থ ঃ প্রতিটি সন্তানই জন্মলাভ করে প্রকৃতি বা ফিৎরাতের উপর। পরবর্তীতে তার পিতা-মাত তাকে ইয়াহুদী, খৃষ্টান অথবা অগ্নিপূজকে পরিণত করে। (বুখারী) 
প্রত্যেক সৃষ্টিই তার ফিৎরাতের উপর জীবন-যাপন করে এবং এর মাধ্যমেই আল্লাহর অস্তিত্বের উপর ঈমান আনতে পারে। তবে যার স্বভাব বিকৃত হয়ে গেছে তার দ্বারা এ সত্য উপলদ্ধি করা সম্ভব নয়। 
আল্লাহ্ তা‘আলা হাদীসে কুদসীতে ঘোষণা করেন ঃ 
إِنِّيْ خَلَقْتُ عِبَادِيْ حُنَفَاءَ كُـلُّهُمْ وَإِنَّهُمْ أَتَتْهُمُ الشَّيَاطِيْنُ فَاجْتَالَتْهُمْ عَنْ دِيْنِهِمْ . (مسلم)
অর্থ ঃ আমি প্রত্যেক বান্দাকে তার দ্বীনের উপর সৃষ্টি করি, অপর দিকে শয়তান তার নিকটবর্তী হয় ও তাকে দ্বীন-ধর্ম থেকে পথভ্রষ্ট করে। (মুসলিম) 
২. সুস্থ বিবেক ঃ আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন ঃ 
أمْ خُلِقُوْا مِنْ غَيْرِ شَيْءٍ أَمْ هُمُ الْخَالِقُوْنَ . (الطور : ৩৫) 
অর্থ ঃ তারা কি এমনিতেই সৃষ্টি হয়ে গেছে, না কি তারা নিজেরাই ¯্রষ্টা। (তূর ঃ ৩৫)
সন্দেহ ও প্রবৃত্তির অনুসরণ মুক্ত বিবেক একথা স্বাক্ষ্য দেয় যে, নিশ্চয়ই সকল সৃষ্টির একজন স্রষ্টা রয়েছে; অন্যথায় এর অস্তিত্ব সম্ভব নয়। একাকী অস্তিত্ব লাভ করা অসম্ভব। কেননা অনস্তিত্ব বস্তু কখনো একাকী অস্তিত্ব লাভ করতে পারে না। এজন্য সৃষ্টিকর্তা অবশ্যই আছেন এবং তিনিই হচ্ছে আল্লাহ্ তা‘আলা। জাহেলী যুগের বাগ্মী ‘ক্বাস বিন সায়িদা আল ইয়াদি’ সুস্থ বিবেক দ্বারা বিষয়টি প্রমাণ করেছেন। 
তিনি বলেনঃ মেষ পালের দ্বারা প্রমাণিত হয় একজন রাখালের অস্তিত্ব। উড়ন্ত ধূলিকনা প্রমান করে সাওয়ারী কাফেলা আগমনের। তবে কি গ্রহ-নক্ষত্র শোভিত আকাশ ও পর্বতমালায় সুসজ্জিত বিস্তীর্ণ ভূমি একজন ¯্রষ্টার অস্তিত্বের ঘোষণা দেয় না? (অবশ্যই দেয়) 
৩. বাস্তব অভিজ্ঞতা ঃ 
আল্লাহ্ তা‘আলা নূহ (আঃ) সম্পর্কে বলেন ঃ 
فَدَعَا رَبَّـه أَنِّيْ مَغْلُوْبٌ فَانْتَصِرْ . فَفَتَحْنَا أَبْوَابَ السَّمَاءِ بِمَاءٍ مُّنْهَمِرٍ . وَفَجَّرْنَا الْأَرْضَ عُيُوْنًا فَالْتَقَـى الْمَاءَ عَلـى أَمْرٍ قَدْ قُدِرَ. وَحَمَلْنَاه عَلـى ذَاتِ أَلْوَاحٍ وَّدُسُرٍ . تَجْرِيْ بِأَعْيُنِنَا جَزَاءً لِّمَنْ كَانَ كُفِرَ . (القمر : ১০-১৪) 
অর্থ ঃ অতঃপর সে (নূহ আঃ) তাঁর পালনকর্তাকে ডেকে বললঃ আমি অসহায় অতএব তুমি সাহায্য কর। তখন আমি খুলে দিলাম আকাকেশর দ্বার প্রবল বারি বর্ষণের মাধ্যমে এবং ভূমি থেকে প্রবাহিত করলাম প্র¯্রবণ। অতঃপর সব পানি মিলিত হল এক পরিকল্পিত কাজে। আমি নূহকে আরোহন করালাম এক কাষ্ঠ পেরেক নির্মিত জলযানে। যা চলত আমার দৃষ্টির সামনে। এটা পুরস্কার তার জন্য যে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। (ক্বামারঃ ১০-১৪) 
আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন ঃ 
فَأَوْحَيْنَا إِلـى مُوْسى أَنِ اضْرِبْ بِعَصَاكَ الْبَحْرَ فَانْفَلَقَ فَكَانَ كُلُّ فِرْقٍ كَالطُّوْدِ الْعَظِيْمِ . وَأَزْلَفْنَا ثَمَّ الْآخَرِيْنَ . وَأَنْجَيْنَا مُوْسى وَمَنْ مَعَـه أَجْمَعِيْنَ . ثُمَّ أَغْرَقْنَا الْآخَرِيْنَ . إِنَّ فِيْ ذلِكَ لآيَةً وَّمَا كَانَ أَكْثَرُهُمْ مُّؤْمِنِيْنَ . (الشعراء : ৩৬-৩৭)
অর্থ ঃ অতঃপর আমি মূসার প্রতি অহী করলাম, তোমার লাঠি দ্বারা সমুদ্রে আঘাত কর। ফলে তা বিদীর্ণ হয়ে গেল এবং প্রত্যেক ভাগ বিশাল পর্বত সাদৃশ হয়ে গেল। আমি সেথায় অপর দলকে পৌঁছিয়ে দিলাম এবং মূসা ও তাঁর সাথীদের সবাইকে বাঁচিয়ে দিলাম। অতঃপর অপর দলটিকে নিমজ্জিত করলাম। নিশ্চয়ই এতে নিদর্শন রয়েছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী ছিল না। (আশ্ শুয়ারা ঃ ৬৩-৬৭) 
আল্লাহ্ তা‘আলা ঈসা (আঃ) সম্পর্কে বলেন ঃ 
وَرَسُوْلاً إِلـى بَنِيْ إِسْرَائِيْلَ أَنِّيْ قَدْ جِئْتُكُمْ بِآيَةٍ مِّنْ رَبِّكُمْ أَنِّيْ أَخْلُقُ لَكُمْ مِنَ الطِّيْنِ كَهَيْئَةِ الطَّيْرِ فَأَنْفُخُ فِيْهِ فَيَكُوْنُ طَيْرًا بِإِذْنِ اللهِ وَأُبْرِئُ الْأَكْمَهَ وَالْأَبْرَصَ وَأُحْيِي الْمَوْتـى بِإِذْنِ اللهِ وَأُنَبِّئُكُمْ بِمَا تَأْكُلُوْنَ وَمَا تَدَّخِرُوْنَ فِيْ بُيُوْتِكُمْ إِنَّ فِيْ ذلِكَ لَآيَةً لَّكُمْ إِنْ كُنْتُمْ مُّؤْمِنِيْنَ . (آل عمران : ৪৯)
অর্থ ঃ আর বনী ইসরাঈলদের জন্য রাসূল হিসাবে তাকে মনোনীত করেছি। (তিনি বললেনঃ) নিশ্চয়ই আমি তোমাদের নিকট তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে নিদর্শন সমূহ নিয়ে এসেছি। নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য মাটির পাখির আকৃতি তৈরী করি। তারপর তাতে যখন ফুৎকার প্রদান করি, তখন তা আল্লাহর হুকুমে উড়ন্ত পাখিতে পরিণত হয়ে যায়। আর আমি সুস্থ করে তুলি জন্মান্ধকে এবং শ্বেত (কুষ্ঠ) রুগীকে। আর আমি আল্লাহর হুকুমে মৃতকে জীবিত করে দেই। আমি তোমাদের বলে দিতে পারি যা তোমরা খেয়ে আস এবং যা তোমরা ঘরে রেখে আস। এতে তোমাদের জন্য নিদর্শন রয়েছে। যদি তোমরা বিশ্বাসী হয়ে থাক। (আলে ইমরান ঃ ৪৯) 
আল্লাহ্ তা‘আলা সর্ব-সাধারণের উদ্দেশ্যে বলেন ঃ 
أَمَّنْ يُّجِيْبُ الْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاه وَيَكْشِفُ السُّوْءَ وَيَجْعَلُكُمْ خُلَفَاءَ الْأَرْضِ أَإِلـهٌ مَّعَ اللهِ قَلِيْلاً مَّا تَذَكَّرُوْنَ . (النمل : ৬২)
অর্থ ঃ কে অসহায়ে-বিপদগ্রস্তের ডাকে সাড়া দেন যখন সে ডাকে? কে কষ্ট দুরীভূত করেন? এবং কে তোমাদেরকে পৃথিবীতে পূর্ববর্তীদের স্থলাভিষিক্ত করেন? সুতরাং আল্লাহর সাথে অন্য কোন মা‘বুদ আছে কি? তোমরা অতি সামান্যই উপদেশ গ্রহণ করে থাক। (আন্ নাম্ল ঃ৬২) 
সুতরাং রাসূলগণের মু‘জেযা, প্রার্থনাকারীদের ডাকে সাড়া দেয়া ও বিপদগ্রস্তের সাহায্য করা অনুধাবনযোগ্য প্রমাণ। জ্ঞান সম্পন্ন মানুষই তা বুঝতে পারে যারা দৃঢ়তার সাথে স্বাক্ষ্য দেয় যে, এগুলো সবই আল্লাহর পক্ষ থেকেই হয়। 
৪. সঠিক শরয়ী বিধান ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলা বলেনঃ 
أَفَلاَ يَتَدَبَّرُوْنَ الْقُرْآنَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللهِ لَوَجَدُوْا فِيْهِ اخْتِلاَفًا كَثِيْرًا . (النساء : ৮২)
অর্থ ঃ তারা কেন কুরআনের প্রতি মনোসংযোগ করে না? পক্ষান্তরে এটা যদি আল্লাহ্ ব্যতীত অপর কারও পক্ষ থেকে হত, তবে অবশ্যই এতে বহু বৈপরীত্ব দেখতে পেত। (আন্ নিসা ঃ ৮২) 
তিনি আরো বলেন ঃ 
يَاأَيُّهَأ النَّاسُ قَدْجَاءكُمْ بُرْهَانٌ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكُمْ نُوْرًا مُّبِيْنًا . (النساء : ১৭৪)
অর্থ ঃ হে মানবজাতি! তোমাদের কাছে রবের পক্ষ থেকে প্রত্যক্ষ প্রমাণ এসেছে এবং আমি তোমাদের প্রতি সমুজ্জল জ্যোতি অবতীর্ণ করেছি। (আন্ নিসা ঃ ১৭৪) 
অন্যত্র তিনি বলেন ঃ 
يَاأَيُّهَأ النَّاسُ قَدْجَاءكُمْ مَّوْعِظَةٌ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَشِفَاءٌ لِّمَا فِي الصُّدُوْرِ وَ هُدًى وَّ رَحْمَةً لِّلْمُؤْمِنِيْنَ . (يونس : ৫৭)
অর্থ ঃ হে মানবজাতি! তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এমন এক বস্তু সমাগত হয়েছে, যা নসীহত, অন্তরসমূহের সকল রোগ আরোগ্যকারী এবং মু‘মিনদের জন্য হেদায়েত ও রহমত স্বরূপ। (আন্ নিসাঃ৫৭)
সুতরাং কুরআনুল কারীমে অদৃশ্যের খবরাখবর, সঠিক আকিদাসমূহ, ন্যায় ভিত্তিক জীবন বিধান এবং উত্তম চরিত্রের ব্যাপারে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, তা সবই আল্লাহ্ তা‘আলার পক্ষ থেকে হওয়ার দলীল। যা আল্লাহ্ তা‘আলা ব্যতীত অন্য কোন মাখলুখ থেকে হওয়া অসম্ভব। 
এ জন্য পকৃত পক্ষে কোন আদম সন্তান আল্লাহর অস্তিত্বকে অস্বীকার করতে পারে না। 
কতিপয় খোদাদ্রোহী দল
১. বস্তুবাদী ও নাস্তিক ঃ 
বস্তুবাদী ও নাস্তিকদের উক্তিতে আল্লাহ্ তা‘আলা কুরআনুল কারীমে উল্লেখ করেছেন ঃ 
وَقَالُوْا مَا هِيَ إِلاَّ حَيَتُنَا الدُّنْيَا نَمُوْتُ وَنَحْيَا وَمَا يُهْلِكُنَا إِلاَّ الدَّهْرُ وَمَا لَهُمْ بِذلِكَ مِنْ عِلْمٍ إِنْ هُمْ إِلاَّ يَظُنُّوْنَ . (الجاثية:২৪)
অর্থ ঃ তারা বলে ঃ একমাত্র পার্থিব জীবনই আমাদের জীবন। আমরা মরি ও বাঁচি, আর যুগই আমাদের ধ্বংশ করে। বস্তুতঃ তাদের এ ব্যাপারে জ্ঞান নাই, তারা কেবল অনুমান করে কথা বলে। (আল্ জাসিয়াঃ ২৪) 
তাদের ধারণা বিশ্ব জগৎ নিজে নিজেই পরিচালিত হয় আর তা কখনো ধ্বংস হবে না। তারা আরো বলে, উদর খুধা নিবারণ করে, জমি ফসল ফলায় আর মহাকাল আমাদের ধ্বংস করে। এভাবে তারা সৃষ্টিকে স্রষ্টা থেকে বিচ্ছিন্ন রাখে। আল্লাহ্ তা‘আলা তাদের ভ্রান্ত ধারণা প্রত্যাখ্যান করে বলেন ঃ 
وَمَا لَهُمْ بِذلِكَ مِنْ عِلْمٍ . (الجاثية:২৪)
অর্থ ঃ বস্তুতঃ তাদের এ ব্যাপারে জ্ঞান নাই। (আল্ জাসিয়াঃ ২৪) 
এ ব্যাপারে তাদের না কোন জ্ঞান আছে, না তাদের কোন অনুভূতি আছে, আর না তাদের ঐ সব ভ্রান্ত ধারণার পক্ষে কোন দলীল আছে। বরং তারা শুধুই মিথ্যা বানোয়অট এবং অনুমান করে কথা বলে। 
এ ব্যাপারে আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন ঃ 
إِنْ هُمْ إِلاَّ يَظُنُّوْنَ . (الجاثية:২৪)
অর্থ ঃ তারা কেবল অনুমান করে কথা বলে। (আল্ জাসিয়াঃ ২৪) 
২. প্রকৃতিবাদী ঃ 
তারা বলে বিশ্বজগৎ প্রাকৃতিগতভাবে সৃষ্টি হয়েছে, অর্থাৎ - উদ্ভিদ, প্রাণীকুল এবং পদার্থ এ গুলোর প্রাণ এবং স্পন্দন, শক্তি, বৈশিষ্ট্য সবই প্রাকৃতিক নিয়মে সৃষ্টি হয়েছে।
তাদের এ ধরণের অনুমানের খন্ডন স্বতঃসিদ্ধ। আর তা এভাবে যে, কোন বস্তু একই সংগে ¯্রষ্টা এবং সৃষ্টি হতে পারে না। 
আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন ঃ 
أَمْ خُلِقُوْا مِنْ غَيْرِ شَيْئٍ أَمْ هُمُ الْخَالِقُوْنَ. (الطور : ৩৫)
অর্থ ঃ তারা কি ¯্রষ্টা ব্যতীত সৃষ্ট হয়েছে না তারা নিজেরাই ¯্রষ্টা? (আত্ তূর ঃ ৩৫) 
আর প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি হওয়ার কথা যা বলা হয় তা সঠিক নয়। কারণ বাস্তবে সমস্ত জড়প্রদার্থই বধির, অন্ধ ও বাকশক্তিহীন। তাদের না কোন ইন্দ্রিয় শক্তি আছে, না তাদের কোন অনুভূতি শক্তি আছে। তাহলে কিভাবে তারা এমন জীবন্ত মাখলুক সৃষ্টি করতে পারে যারা শুনে, দেখে ও কথা বলে এবং বেদনা অনুভব করার ইন্দ্রিয় ও অনুভূতি শক্তি আছে? সুতরাং জড়পদার্থের আদো কোন কিছু করার ক্ষমতা নেই।