তাওহীদের মর্মকতা

img

শায়খ মানসুর আব্দুর রহমান আল আকীল


লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ-র মর্মকথা
আল্লাহ তায়ালা ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই, এ ঘোষণাই হলো ইসলাম ধর্মের মূল বুনিয়াদ। এর দ্বারা আল্লাহ তায়ালা মুসলিম ও কাফিরদের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করেছেন, সকল নবী ও রাসূল যুগে যুগে মানুষকে আহবান করেছেন এ তাওহীদি কালিমার দিকে। এ কালিমার বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যেই তিনি সকল অাসমানি কিতাব নাযিল করেছেন। আল্লাহ তায়ালা মানব ও জ্বিন জাতিকে এ কালিমার আলোকে তাঁরই ইবাদত করার উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন। আমাদের পিতা আদম আ. এ তাহীদি বাণীর দিকেই দাওয়াত দিতেন। নূহ আ. এর যুগ পর্যন্ত আদম আ. ও তাঁর সন্তানগণ তাওহীদ তথা আল্লাহ তায়ালারই ইবাদতের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। অতঃপর নূহ আ. এর সম্প্রদায়ের মধ্যে সর্বপ্রথম শিরক উদ্ভব ঘটে। আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে পুনরায় তাওহীদের দিকে ফিরিয়ে আনার লক্ষে নূহ আ. কে তাদের নিকট রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেন। 
তিনি তাদেরকে এ বলে দাওয়াত দিতেন, 
يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللهَ مَا لَكُمْ مِنْ اِلٰهٍ غَيْرُهٗ.
‘হে আমার জাতি! তোমরা শুধু আল্লাহ তায়ালারই ইবাদত কর, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোন উপাস্য নেই।’ (সূরা আরাফ : ৭/৫৯)
হূদ, সালেহ, ইবরাহীম, শুয়াইব আলাইহিমুস্ সালাম সহ সকল নবী-রাসূল এভাবেই তাদের নিজ নিজ জাতিকে কেবলমাত্র আল্লাহর ইবাদতের দিকে দাওয়াত দিতেন। নবী-রাসূলগণ তাদেরকে সকল বাতিল উপাস্যদের ইবাদত ত্যাগ করে কেবলমাত্র আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি করার দিকে ডাকতেন। সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও তাওহীদের এ বাণী নিয়ে আল্লাহর পক্ষ হতে প্রেরিত হয়েছেন। তিনি স্বজাতিকে বললেন,
يٰاَيُّهَاالنَّاسُ قُوْلُوْا لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ تُفْلِحُوْا.(اخرجه الطبرانى)
‘হে আমার জাতি! তোমরা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বল, এটি স্বীকার করলে তোমরা সাফলকাম হবে।’ 
তিনি তাদেরকে আল্লাহ তায়ালার উপাসনার সাথে মিশ্রিত করে মূর্তিপুজা, পাথর ও গাছগাছালির উপাসনার সংমিশ্রণ, বাপ-দাদা, পূর্ব পুরুষের শিরকি ধর্ম ছেড়ে শুধুমাত্র আল্লাহর উপাসনার নির্দেশ দিতেন, তাঁরই ইবাদত করার আহবান করতেন। অতএব, যারা এ বাণীর অর্থ জানে না, এর বাস্তবায়ন করে না, এর দাবি মোতাবেক নিজে আমল করে না, তারা মুসলমান নয়। প্রকৃত মুসলিম সে ব্যক্তি যে তাঁর সকল ইবাদত একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিবেদন করে। অন্য সব বাতিল মাবুদের ইবাদত পরিহার করে, শুধুমাত্র তাঁর জন্য সালাত আদায় করে, সিয়াম সাধনা করে, তাঁকেই ডাকে, বিপদে আপদে তাঁর কাছেই সাহায্য চায়, তার উদ্দেশ্যে যবেহ করে, তাঁর জন্যই মানত করে, এজাতীয় যাবতীয় ইবাদত আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য করে। অনন্তর সে-ই প্রকৃত মুসলমান যে একমাত্র আল্লাহকেই ইবাদতের উপযুক্ত মনে করে। মূলত ইবাদত প্রাপ্তির একমাত্র অধিকার তাঁরই। তিনি ছাড়া অন্য কারো জন্য ইবাদত হতেই পারে না ;  এরূপ দৃঢ় বিশ্বাস রাখে। চাই সে গাইরুল্লাহ্ কোন নবী, অলী, পীর, দরবেশ, গাউস, কুতুব, জ্বিন, ফেরেশ্তা, মূর্তি, যে কোন মহৎ বস্তু বা ব্যক্তিই হোক না কেন। কারো জন্যই ইবাদত বন্দেগি করা যাবে না। ইবাদত হবে শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, 
وَقَضٰى رَبُّكَ اَلَّا تَعْبُدُوْا اِلَّا اِيَّاهُ.
       ‘তোমার রব চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, তাকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করা যাবে না।’ 
(সূরা বনী ইসরাইল : ১৭/২৩)
 ‘আল্লাহ ছাড়া বৈধ ও সঠিক কোন উপাস্য নেই।’ এটিই লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর মূল ব্যাখ্যা। ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এ বাণীর মধ্যে ইতিবাচক ও নেতিবাচক (ইছবাত-নফি) দু’টি ধারাই বিদ্যমান। আল্লাহ ছাড়া অন্য সব উপাস্যদের অস্বীকৃতি হচ্ছে নেতিবাচক আর আল্লাহকে সঠিক মাবুদ হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান ইতিবাচক। আল্লাহ ব্যতীত অপরাপর সব উপাস্যই বাতিল ও অবৈধ। তিনিই একমাত্র প্রভূ ও ইবাদতের অধিকারী। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 
ذٰلِكَ بِاَنَّ اللهَ هُوَ الْحَقُّ وَاَنَّ مَا يَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِه هُوَ الْبَاطِلُ.
        ‘এটি এ জন্য যে, আল্লাহ তায়ালাই সত্য, এর পরিবর্তে তারা যাকে ডাকে, তা অসত্য।’
  (সূরা হজ্জ : ২২/৬২)

মুহাম্মদু সা. কে আল্লাহর রাসূল বলে সাক্ষ্য প্রদানের মর্মকথা
মনে প্রাণে বিশ্বাস করে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা দেয়া যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  আল্লাহর বান্দা ও তাঁর প্রেরিত রাসূল। তিনি সমগ্র জ্বিন ও ইনসানের নিকট আল্লাহর মহান দূত হিসাবে আবির্ভূত হয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 
يٰاَيُّهَا النَّبِىُّ اِنَّاۤ اَرْسَلْنٰكَ شَاهِدًا وَّمُبَشِّرًا وَّنَذِيْرًا , وَدَاعِيًا اِلَى اللهِ بِاِذْنِه وَسِرَاجًا مُنِيْرًا.
‘হে নবী! আমি আপনাকে সাক্ষীদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেছি এবং আল্লাহর আদেশক্রমে তার দিকে আহবানকারী ও উজ্জ্বল প্রদ্বীপ রূপে।’ (সূরা আহযাব : ৩৩/৪৪-৪৫) 
অতএব, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অতীত ও ভবিষ্যতের যেসব খবরাখবর প্রদান করেছেন, যার ওপর বিশ্বাস স্থাপন অপরিহার্য। তিনি যা হালাল করেছেন তা হালাল এবং যা হারাম করেছেন তা হারাম বলে অকপটে মেনে চলাই হচ্ছে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহর রাসূল বলে সাক্ষ্য দেয়ার মর্মকথা। আর এর দাবি হচ্চে, তাঁর নির্দেশিত সব বিষয় পালন করা, তাঁর নিষেধকৃত সব বিষয় হতে বিরত থাকা, তাঁর শরীয়তের পূর্ণ আনুগত্য করা। তাঁর সকল সুন্নাহকে প্রকাশ্যে অপ্রকাশ্যে স্বাচ্ছন্দে মেনে চলা অপরিহার্য। তাঁর সব ফয়সালাকে মনে প্রাণে গ্রহণ করা। যেহেতু তিনি আল্লাহ তায়ালার প্রেরিত দূত, তাই তো তাঁকে মানলেই আল্লাহকে মানা হয়, আর তাঁকে অমান্য করলে স্বয়ং আল্লাহকেই অমান্য করা হয়। দীনের দাওয়াতের প্রসার এবং দীনের পূর্ণতা লাভের পর মহান আল্লাহ তাঁকে ওফাত দিয়েছেন। নশ্বর পৃথিবী হতে বিদায় নেয়ার পূর্বেই তিনি উম্মতে মুসলিমা’র জন্য এমন সুস্পষ্ট দলিল উপহার দিয়ে গেছেন, যেমন রাত থেকে দিন ও দিন থেকে রাত স্পষ্ট। 

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র- ফযীলত
তাওহীদের এ বাণীটির অপরিসীম তাৎপর্য ও অসংখ্য ফযীলতের কথা বিভিন্ন হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। এ ফযীলতের অধিকারী হতে হলে সর্বাগ্রে এর মর্ম বুঝতে হবে, অতপর সে মোতাবেক আমল করতে হবে। শুধুমাত্র মুখে এ কালিমার জপ করলে কখনই কাঙ্খিত ফযীলত লাভ কিংবা এর অন্তর্নিহীত সীমাহীন সুফল আহরণ করা সম্ভব হবে না। 
উবাদা বিন সামেত রা. সূত্রে বর্ণিত একটি হাদীসে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, 
مَنْ شَهِدَ اَنْ لَّاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ وَحْدَهٗ لَا شَرِيْكَ لَهٗ وَاَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهٗ وَرَسُوْلُهٗ وَاَنَّ عِيْسٰى عَبْدُ اللهِ وَرَسُوْلُهٗ وَابْنُ اَمَتِه وَكَلِمَتُهٗ اَلْقَاهَا اِلٰى مَرْيَمَ وَرُوْحٌ مِّنْهُ وَاَنَّ الْجَنَّةَ حَقٌّ وَاَنَّ النَّارَ حَقٌّ وَاَنَّ الْبَعْثَ حَقٌّ اَدْخَلَهُ اللهُ الْجَنَّةَ عَلٰى مَا كَانَ مِنْ عَمَلٍ.(متفق عليه)
‘যে ব্যক্তি এ সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া সত্যিকারের কোন মাবুদ নেই, মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। ঈসা মসীহ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল এবং মরিয়ম আ. এর নিকট প্রেরিত তাঁর আত্মা ও নির্দেশ। জান্নাত সত্য। জাহান্নাম সত্য। তাঁর আমল যৎসামান্যুই হোক না কেন আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতে প্রবিষ্ট করবেন।’ (বুখারী ও মুসলিম)
ইতবান ইবনে মালেক আনসারী রা. সূত্রে বর্ণিত একটি হাদীসে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, 
اِنَّ اللهَ حَرَّمَ عَلَى النَّارِ مَنْ قَالَ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ يَبْتَغِىْ بِذٰلِكَ وَجْهَ اللهِ.
‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় সাক্ষ্য দেবে যে, তিনি ছাড়া অন্য কোন মাবুদ নেই মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর ওপর জাহান্নাম হারাম করে দিবেন।’ 
আবূ মূসা আশয়ারী রা. সূত্রে বর্ণিত এক হাদীসে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
مَنْ قَالَ : لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ صَادِقًا بِهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ. (رواه احمد)
‘যে ব্যক্তি আন্তরিক বিশ্বাসে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’  (আহমদ)   

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র শর্তসমূহ
ওলামায়ে কেরাম লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র ৮ টি শর্ত বর্ণনা করেছেন। শর্তগুলো নি¤েœ প্রদত্ত হল-
علم و يقين واخلاص وصدقك مع              محبة وانقياد والقبول لها
وزيد ثامنها الكفران منك بما         سوى الاله من الاشياء قد الها

শর্ত-১ : ইলম (জ্ঞান)
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র মর্ম ভালোভাবে জানতে হবে, এ ব্যাপারে কোন ধরণের অজ্ঞতা কিংবা সন্দেহ অবকাশ নেই। ইতঃপূর্বে এর মর্মার্থ সম্পর্কে আলোচিত হয়েছে যে, আল্লাহ ব্যতীত সত্যিকারের কোন মাবুদ নেই। কাজেই, আল্লাহ ছাড়া যে কাউকেই উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করবে তা সবই বাতিল মা’বুদ।

শর্ত-২ : একীন (বিশ্বাস)
এ কালেমার প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস থাকতে হবে। এক্ষেত্রে বিন্দু পরিমাণ সন্দেহ গ্রহণযোগ্য নয়। কাজেই,  যে ব্যক্তি এ কালেমা পাঠ করবে তাঁর হৃদয়ে দৃঢ় বিশ্বাস জন্মাবে যে, মহান আল্লাহই একমাত্র মাবুদ।

শর্ত-৩ : ইখলাস (নিষ্ঠা)
বান্দা তার যাবতীয় ইবাদত-বন্দেগি কেবলমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিবেদন করবে। যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য করা হয়; চাই সে নবী, অলী, পীর, দরবেশ, গাউস, কুতুব, জ্বিন, ফেরেস্তা, মূর্তি প্রভৃতি যে কেউই হোক না কেন, সে আল্লাহর সাথে শিরক ও ইখলাস পরিপন্থী কাজ করে কালেমার অন্যতম শর্ত ইখলাস ভঙ্গ করল। 

শর্ত-৪ : সিদ্ক (সততা)
তাওহীদি কালেমাকে মনেপ্রাণে সঠিকভাবে গ্রহণ করতে হবে। মুখের কথা ও অন্তরের বিশ্বাসের সাথে মিল থাকতে হবে। মুখে যা বলবে অন্তরেও তাই থাকবে, অন্তরে যা থাকবে মুখেও তাই স্বীকার করবে। আর যদি এ তাওহীদের বাণীকে কেবল মুখে আওড়ায় অথচ অন্তরে এর প্রতি বিশ্বাস নেই , তবে এরূপ কালেমা তার কোন কাজে আসবে না। বরং সে মুনাফিক বলে বিবেচিত হবে।

শর্ত-৫ :  মহব্বত (ভালবাসা)
এর অর্থ তাওহীদের বাণী উচ্চারণের সাথে সাথে আল্লাহকে ভালোবাসতে হবে। সুতরাং যদি কেউ এ কালেমা পাঠ করল, অথচ অন্তরে আল্লাহর ভালোবাসা নেই সে মুসলিম নয় ; বরং অমুসলিম যেভাবে মুনাফিকরা অমুসলিম। 
দলিল-১ : আল্লাহর নি¤েœাক্ত ঘোষণাই এর দলিল, 
قُلْ اِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّوْنَ اللهَ فَاتَّبِعُوْنِىْ يُحْبِبْكُمُ اللهُ.
‘(হে নবী) বলে দিন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালবাস, আমার অনুসরণ কর। তাহলে আল্লাহ তায়ালা তোমাদেরক ভালোবাসবেন।’ (সূরা আলে ইমরান : ৩/৩১)
দলিল-২ :  আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন, 
وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَّتَّخِذُ مِنْ دُوْنِ اللهِ اَنْدَادًا يُحِبُّوْنَهُمْ كَحُبِّ اللهِ وَالَّذِيْنَ اٰمَنُوْاۤ اَشَدُّ حُبًّا لِلّٰهِ.
‘এক শ্রেণির মানুষ আছে, যারা গায়রুল্লাহকে আল্লাহর সমকক্ষ সাব্যস্ত করে এবং তাদের প্রতি এমন ভালোবাসা পোষণ করে, যেমন ভালোবাসা পোষণ করে তারা আল্লাহর প্রতি। কিন্তু যারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী তাদের ভালোবাসা ওদের তুলনায় অনেক বেশি।’ (সূরা বাকারা : ২/১৬৫)
এ ছাড়া কুরআন মাজীদে আরো বহু দলিল রয়েছে।

শর্ত-৬ : ইনকিয়াদ (আনুগত্য)
এ কালেমার মর্মকথা অনুযায়ী আনুগত্য করতে হবে। শুধুমত্র আল্লাহর ইবাদত করবে। তাঁর প্রদত্ত বিধি-বিধানের আনুগত্য করবে, এর সঠিকতার ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখবে। কেউ যদি আল্লাহর ইবাদত না করে, অহংকারবশত তাঁর প্রদত্ত বিধি-বিধান অমান্য করে সে কখনো মুসলিম হতে পারে না ; বরং সে ইবলিস ও তাঁর দোসরদের মত অমুসলিম। 

শর্ত-৭ : কবুল ( গ্রহণ) করা
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র মর্মকে গ্রহণ করা। অন্য সব বাতিল মাবুদের বন্দনা বর্জন করে কেবলমাত্র আল্লাহর ইবাদত স্বাচ্ছন্দ্যে সম্পাদন করা, সর্বোপরি এ বিশ্বাসকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা।
   শর্ত-৮ : বাতিল মাবুদের সাথে কুফরি (বাতিল উপাস্য প্রত্যাখ্যান)
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলার সাথে সাথে সকল গায়রুল্লাহ’র দাসত্ব ও বন্দনা বর্জন করতে হবে এবং কেবলমাত্র আল্লাহ ছাড়া সব উপাস্যকে অবৈধ ঘোষণা করতে হবে।
দলিল-১ : আল্লাহ তায়ালা বলেন, 
فَمَنْ يَّكْفُرْ بِالطَّاغُوْتِ وَيُؤْمِنْۢ بِاللهِ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقٰى لَا انْفِصَامَ لَهَا وَاللهُ سَمِيْعٌ عَلِيْمٌ.
‘যে পথভ্রষ্টকারী তাগুতকে প্রত্যাখান ও আল্লাহর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করল, সে নিশ্চিত সুদৃঢ় হাতল ধারণ করল, যা কখনই ভাংবার নয়। বস্তুত আল্লাহ তায়ালা সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।’ (সূরা বাকারা : ২/২৫৬)
দলিল-২ : আবু মালেক সা’দ ইবনে তারেক আশজায়ী রা. সূত্রে বর্ণিত হাদীসে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, 
مَنْ قَالَ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ وَكَفَرَ بِمَا يُعْبَدُ مِنْ دُوْنِ اللهِ حَرُمَ مَالُهٗ وَدَمُهٗ وَحِسَابُهٗ عَلَى اللهِ.(متفق عليه)
‘যে ব্যক্তি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলে গায়রুল্লাহর প্রতি কুফরি (অনাস্থা) করবে, তার জান, মাল সবই নিরাপদ, সর্বোপরি তার হিসাব-নিকাশ আল্লাহর হাওয়ালা।’ 
অন্য হাদীসে বর্ণিত আছে, 
مَنْ وَحَّدَ اللهَ وَكَفَرَ بِمَا يُعْبَدُ مِنْ دُوْنِه حَرُمَ مَالُهٗ وَدَمُهٗ. (رواه مسلم)
‘যে ব্যক্তি গায়রুল্লাহর প্রতি অবিশ্বাস ছুড়ে দিয়ে শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদত করে, তাঁর জান, মাল সবই নিরাপদ।’  

অনুবাদ :

যাকারিয়া খাজা আহমদ

ইকবাল হোসাইন মাসুম