বাঙালিরা কেন ভারত শাসন করতে পারলো না?

img

মেজর জেনারেল আ ল ম ফজলুর রহমান (অব.): 

ණ☛ ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৬০০ খৃঃ গঠনের পরে ১৬০৮ খৃঃ ভারতে প্রথম অবতরণ করে সুরাটে। এর পরের ইতিহাস সবার জানা। ভারত জয় করলো ইংরেজরা। কিন্তু ইংরেজদের ভারত জয় সম্পন্ন হলো বাংলা জয়ের পরেই নবাব সিরাজদ্দৌলার পতনের মধ্য দিয়ে। ইংরেজরা তাদের ২০০ বছরের ভারত শাসনে কলকাতা ভারতের রাজধানী ছিল ১৫০ বছর। 

ණ☛ আমরা দেখছি নবাব সিরাজদ্দৌলার পতনের অনেক কারণের মধ্যে যা প্রকট ছিল তাহচ্ছে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। এই ষঢ়যন্ত্রে হিন্দু মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের আমীর ওমরাহরা জড়িত ছিলেন। অর্থাৎ ঐসময় বাংলায় হিন্দু মুসলমানদের মধ্যে যে শত্রুতা এবং রেসারেসি বিদ্যমান ছিল ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তার পূর্ণ সুযোগ গ্রহন করে। ইংরেজরা বরং এই বর্ধিষ্ণ হিন্দু মুসলমান সম্প্রদায়ের বিভেদকে আরো প্রকট করে ডিভাইড এ্যান্ড রুল কৌশলের উদ্ভাবন ঘটিয়ে প্রথমে বাংলায় এবং পরে ভারত শাসনে তার সফল প্রয়োগ করে। 

ණ☛ ১৭৯৩ খৃঃ লর্ড কর্নওয়ালিস চীরস্হায়ী বন্দোবস্ত ভুমি ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন। যার ফলে জমিদারি প্রথার উদ্ভব হয় বাংলায়। প্রায় দেড় লক্ষাধিক জমিদার বাংলার কৃষকদের উপরে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসে। খাজনা আদায়ের নামে এই জমিদাররা সীমাহীন ভাবে তাদের প্রজা কৃষকদের শোষন করতে থাকে। চীরস্হায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থায় ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জন্য খাজনা নির্দিষ্ট হলেও জমিদাররা কোম্পানিকে দেয় তাদের খাজনার পরিমাণের চেয়ে অনেক বেশী খাজনা তারা গরীব প্রজাদের উপরে অত্যাচার করে আদায় করতো। এই জমিদারদের ৯০ শতাংশ ছিল হিন্দু। এবং এই হিন্দু জমিদারদের অত্যাচারের শিকার হয় তাদের মুসলমান প্রজারা। ফলে বাংলায় হিন্দু মুসলমানদের মধ্যে বিভেদের দেয়াল দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে। 

ණ☛ ১০ জুলাই ১৮০০ খৃঃ লর্ড ওয়েলেসলি ইংরেজদের হাতে টিপু সুলতানের পরাজয়ের ১ম বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে কলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম কমপ্লেক্সে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। এই কলেজে প্রতিষ্ঠার মুখ্য উদ্দেশ্য ছিলঃ 

"Fort William College aimed at training British officials in Indian languages and, in the process, fostered the development of languages such as Bengali and Urdu.[4] The period is of historical importance. In 1815, Ram Mohan Roy settled in Calcutta. It is considered by many historians to be the starting point of the Bengali renaissance." 

ණ☛ আমরা দেখতে পাচ্ছি ভারতের ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলি ইংরেজদের কাছে টিপু সুলতানের পরাজয়কে স্মরণীয় করে রাখতে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন কলকাতায়। এটা বুঝতে অশুবিধা হবার কথা হায়দ্রাবাদের ঘটনার জের এলো কলকাতায়! উদ্দেশ্য হিন্দু মুসলমানের মধ্যে বিভেদকে আরো গভীর ভাবে উষ্কে দিয়ে তা স্হায়ী রুপ দেওয়া। অনেক ঐতিহাসিকের মতে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠার পরে বাংলায় রেনেসাঁর আরম্ভ হয়। আমরা এবারে দেখবো ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ কোন রেনেসাঁর শুরু করেছিল? রেনেসাঁর বাহক হলো ভাষা। সভ্যতার বাহকও ভাষা। তাই কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা লগ্নে এই কলেজের বাংলা ভাষার বিভাগীয় প্রধান হলেন ফাদার উইলিয়াম কেরী। এই বিভাগে যোগদানের আগে তিনি শ্রীরামপুর চার্চের প্রধান ছিলেন। 

ණ☛ কেরী সাহেব ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বা ভার্নাক্যুলার বিভাগের প্রধান হয়ে এই বিভাগে কিছু হিন্দু ব্রাহ্মন পন্ডিতকে নিয়োগ দিলেন যারা ছিলেন সবাই সংষ্কৃত ভাষায় বিশেষ বুৎপত্তি সম্পন্ন। এদের মধ্যে ছিলেন মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রামনাথ বাচসপতি রমরমা বসুরা । কারণ কেরী সাহেব উপলব্ধি করেছিলেন বাংলায় কলকাতা কেন্দ্রিক রেনেসাঁ সম্পাদন করতে হলে তা হিন্দুদের দ্বারা করতে হবে বাংলা ভাষার রুপান্তর ঘটিয়ে। 

ණ☛ আমরা এখন দেখবো কেন উইলিয়াম কেরী বাংলা ভাষার রুপান্তরের বিষয়ে গভীর চিন্তা ভাবনা করেছিলেন? কারণ তিনি জানতেন ইংরেজদের বাংলা বিজয়ের সময় বাংলার হিন্দু মুসলমান যে বাংলায় কথা বলতেন তা ছিল সুলতানী বাংলা। সুলতানী বাংলায় আরবী ফার্সি এবং দেশীয় শব্দ ভান্ডারের পরিমাণ ছিল ৯০ শতাংশ এবং সংষ্কৃত শব্দের সংখ্যা ছিল ১০ শতাংশ। কেরী সাহেব চিন্তা করেছিলেন সুলতানী বাংলা দিয়ে বাংলায় রেনেসাঁর আঞ্জাম হিতে বিপরীত হবে। তাই তাঁর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাঙালি হিন্দু সংষ্কৃত পন্ডিতদের দ্বারা আরম্ভ হয় সুলতানী বাংলার রুপান্তরের কাজ। ১৮০০ খৃষ্টাব্দ হতে ১৮৫৭ খৃষ্টাব্দের মধ্যে রুপান্তরিত বাংলায় সংষ্কৃত শব্দের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৯০ শতাংশ আর আরবী ও ফার্সি শব্দ কমে এসে দাঁড়ায় ১০ শতাংশে। অর্থাৎ ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠার ৫৭ বছরের মধ্যে বাংলা ভাষার আমূল রুপান্তর সাধন করা হয়। 

ණ☛ দেখা যাচ্ছে কলকাতা কেন্দ্রিক বাঙালি রেনেসাঁর ফলে বাংলার মুসলমানরা নিজের ভাষা হারালো। সংষ্কৃতায়িত নতুন বাংলা ভাষা যার রুপান্তর ঘটলো উপনিবেশিক পরিমণ্ডলে তার গভীর প্রভাব পড়ল বাঙালির সংষ্কৃতির উপরে। অর্থাৎ কলকাতা কেন্দ্রিক রেনেসাঁর বাইপ্রোডাক্ট হিসাবে উপনিবেশিক শাসনের জঠরে জন্ম নিল এক নতুন সংষ্কৃতি বাংলার মুসলমানরা এই সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের বাইরে থেকে গেলো। অতএব দেখা যাচ্ছে কলকাতা কেন্দ্রিক রেনেসাঁর কোনো সুফল বাংলার মুসলমানদের কোনো উপকারেতো আসলইনা পক্ষান্তরে এই রেনেসাঁ উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদকে আরে সুদূর প্রসারি করে তুলল। 

১৯১৫ সালে মোহনদাস করমচাঁন্দ গান্ধী দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ভারতে আসলেন ভারতীয় নেতৃবৃন্দের আহ্বানে সাড়া দিয়ে। ভারতে তখন স্বাধীনতা আন্দোলন দানা বাঁধতে শুরু করেছে। ১৮৮৫ খৃঃ অল ইন্ডিয়া কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠার পরেঃ 

"The Indian National Congress ( pronunciation ) (INC, often called Congress) is a broad-based political party in India. Founded in 1885, it was the first modern nationalist movement to emerge in the British Empire in Asia and Africa.[a][10] From the late 19th-century, and especially after 1920, under the leadership of Mahatma Gandhi, Congress became the principal leader of the Indian independence movement, with over 15 million members and over 70 million participants.[11] The Congress led India to independence from Great Britain" 

মোহনদাস করমচাঁন্দ গান্ধী ভারতে এলেন কংগ্রেসের হাল ধরলেন। তবে তাঁর কংগ্রেসের হাল ধরা কোনো রাজনৈতিক নেতার মতো ছিল না। তিনি নিজেকে পরিবর্তিত করলেন। তিনি স্যুট টাই বিসর্জন দিয়ে উইনষ্টন চার্চিলের ভাষায় নেকেড ফকিরের বেশভূষা ধারন করলেন। এর পরে তাঁকে মহাত্মা অভিধায় অভিষিক্ত করা হলোঃ 

"According to some authors Rabindranath Tagore is said to have used on March 6, 1915, this title for Gandhi. Some claim that he was called Mahatma by the residents of Gurukul Kangadi in April 1915, and he in turn called the founder Munshiram a Mahatma (who later became Swami Shraddhananda)." 

ණ☛ গভীর ভাবে দেখলে প্রতিভাত হবে মহাত্মা গান্ধী নিজের রুপান্তর ঘটিয়েছিলেন একটি বিশেষ লক্ষ্যকে সামনে রেখে। তিনি কংগ্রেসের সভাপতি হলেন ১৯২৪ সালে। এর পরে গান্ধী ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনকে দেখলেন কুরু পান্ডবের যুদ্ধ হিসাবে। তিনি আবির্ভূত হলেন ভারতের এক প্রকারের নব্য শ্রীকৃষ্ণ হিসাবে যুদ্ধ ক্ষেত্রের রথের সাথী রুপে। তিনি সর্বভারতীয় নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেন। 

ইংরেজরা যেমন মহাত্মা গান্ধীও কলকাতার বুদ্ধি জীবীদের স্মরণাপন্ন হলেন। তিনি কলকাতায় আসলে কবি গুরু রবীন্দ্র নাথের শান্তিনিকেতনের অতিথি হতেন। আমরা দেখলাম কবি গুরু রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর ১৯০৫ সালে ব্ঙ্গ ভঙ্গ রদ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিলেনঃ 

"On 22 March 1911, a royal proclamation announced that the Durbar would be held in December to commemorate the coronation in Britain a few months earlier of George V and Mary of Teck and allow their proclamation as Emperor and Empress of India." 

ණ☛ রাজা ৫ম জর্জের দরবারে কবি রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর তাঁর লিখিত বর্তমানে ভারতের জাতীয় সঙ্গীত" জনগন মন নায়ক জন হে ভারত বাগ্যবিধাতা" স্বকন্ঠে পাঠ করে শুনানি এবং রাজা ৫ম জর্জের নিকট থেকে ব্ঙ্গ ভঙ্গ রদ এর সনদ অর্জন করেন। 

ණ☛ ১৮৯৪ সালে লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক গনেশ ও শিবাজী উৎসবের প্রবর্তন করেন। ১৯০৪ সালে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিবাজী উৎসব কবিতা লেখেন এবং কলকাতায় শিবাজী উৎসবের প্রবর্তন করেন। শিবাজী উৎসব কবিতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অখন্ড ভারতে একটি হিন্দু রাষ্ট্রের ধারনা দেনঃ 

"হে রাজা শিবাজি, 
তব ভাল উদ্ভাসিয়া এ ভাবনা তড়িৎপ্রভাবৎ 
এসেছিল নামি– “একধর্মরাজ্যপাশে খণ্ড ছিন্ন বিক্ষিপ্ত ভারত" 

ණ☛ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বঙ্গভঙ্গ রদ আন্দোলনে স্বক্রিয় অংশ গ্রহন এবং রাজা ৫ম জর্জের দরবার থেকে বঙ্গভঙ্গ রদের সনদ লাভ পরবর্তীতে শীবাজি কবিতায় অখন্ড ভারতে হিন্দু ধর্ম রাজ্য প্রতিষ্ঠার কথা বলে মুসলমানদের মনে গভীর বিভাজন ও সন্দেহের বীজ বপন করেন। মুসলমানরা অখন্ড ভারতে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। 

ණ☛ ভারতে স্বাধীনতা আন্দোলন তিব্রতর হবার প্রেক্ষিতে ১৯৩৮ সালে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু কংগ্রেসের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহন করেন। নেতাজী মহাত্মা গান্ধীকে ইংরেজদের বিরুদ্ধে শসস্ত্র আন্দোলনের তার মনোভাবের কথা ব্যাক্ত করলে গান্ধীজী শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পক্ষে তাঁর কর্মসূচির ব্যাপারে অনড় থাকেন ফলে নেতাজীর সাথে গান্ধীজীর স্বাধীনতা অন্দোলনের দিক নির্দেশনা নিয়ে মতভেদের সৃষ্টি হয়। অবশেষে ১৯৩৯ সালে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু কংগ্রেসের প্রেসিডেন্টের পদ থেকে ইস্তফা দেন। 

ණ☛নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর কংগ্রেসের প্রেসিডেন্টের পদ থেকে ইস্তফা প্রদানের সাথে সাথে কলকাতা কেন্দ্রিক ভারতের রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য দিল্লি কেন্দ্রিক হয়ে যায়। কলকাতা কেন্দ্রিক ভারতের রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যের পরিবর্তন মহাত্মা গান্ধীর অসামান্য কৌশলের কৃতিত্বের পরিচয় বহন করে। যার পুরষ্কার স্বরুপ তিনি ভারতের বাপুজীতে পরিনত হন। 

১৯৪৬ সালে ৩ সদস্য বিশিষ্ট ক্যাবিনেট মিশন ভারতে আসেন ভারতের স্বাধীনতা ভারতীয় নেতৃত্বের কাছে হস্তান্তর বিষয়ে আলোচনার জন্য। তারা প্রস্তাব দেন অখন্ড ভারত স্বাধীন হবেঃ 

১। যে সব প্রদেশে মুসলমানদের মেজরিটি সেখানে মুসলমানরা প্রাদেশিক সরকার গঠন করবে 

২। যেখানে হিন্দু মেজরিটি সে সব প্রদেশে হিন্দু প্রাদেশিক সরকার হবে। 

ණ☛ কেন্দ্র প্রতিরক্ষা, কারেন্সি এবং পররাষ্ট্র বিষয় ডিল করবে। কেন্দ্রীয় সরকার প্রদেশের হিন্দু মুসলমানদের ভারসাম্যের কোনো পরিবর্তন করতে পারবেনা। কংগ্রেস শুরু থেকে শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে ছিল। অবশেষে কংগ্রেস ক্যাবিনেট মিশন প্লান মানতে রাজি না হওয়ায় ক্যাবিনেট মিশন ভারত ভাগের পরিকল্পনা পেশ করে এবং ভারত ভাগ হয় হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যেঃ 

"Plan of 16 June Edit The plan of 16 June 1946 had a united India, in line with Congress and Muslim League aspirations, but that was where the consensus between the two parties ended since Congress abhorred the idea of having the groupings of Muslim-majority provinces and that of Hindu-majority provinces with the intention of balancing one another at the central legislature. The Muslim League could not accept any changes to this plan since they wanted to keep the safeguards of British Indian laws to prevent absolute rule of Hindus over Muslims." 

আমরা যদি ১৮০০ খৃষ্টাব্দে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠার পর হতেঃ 

১। বাংলা ভাষার সংষ্কৃতায়ীত পরিবর্তন। 
২। কলকাতা কেন্দ্রিক রেনেসাঁ। 
৩। কলকাতা কেন্দ্রিক বাবু কালচারের আবির্ভাব। 
৪। চীর স্হায়ী ভুমি বন্দোবস্ত ও জমিদারি প্রথার প্রচলন। 
৫। বাংলায় ৯০ শতাংশ হিন্দু জমিদারদের তাদের মুসলিম প্রজাদের উপরে খাজনা আদায়ে অকথ্য অত্যাচার। 
৬। ১৮৮৫ সালে কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের শুরু। 
৭। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কতৃক কলকাতায় শীবাজী উৎসবের প্রচলন এবং অখন্ড ভারতে হিন্দু ধর্মরাজ্য প্রতিষ্ঠার উল্লেখ। 
৮। বঙ্গভঙ্গ রদ। 

ණ☛ উপরুল্লিখিত বিষয়ে গভীর চিন্তা ভাবনা করলে প্রতিয়মান হবে ব্রিটিশ শাসনের পুরো সময় বাংলার হিন্দু বুদ্ধিজীবিরা ইংরেজ শাসকদের তোষন করে তাদের ভাষা সংষ্কৃতি, রাজনৈতিক ক্ষমতা, শিক্ষা এবং ধন সম্পদে উন্নতি ঘটিয়ে একটি এলিট শ্রেণীতে পরিনত হয়। এই সবই তারা করে বাংলার মুসলমানদের প্রতিপক্ষ জ্ঞান করে। বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের প্রতিপক্ষ করে রাখার ফলে যে সন্দেহ ও অবিশ্বাসের দুর্লঙ্ঘ পাহাড়ের সৃষ্টি হয় তারই ফলশ্রুতিতে অখন্ড ভারতে উভয় সম্প্রদায়ের একসাথে থাকা সম্ভব হয় নাই। ফলে ভারত বিভাজিত হয়। অখন্ড ভারতে অখন্ড বাংলার হিন্দু মুসলমান এক সাথে মিলেমিশে থাকলে বাঙালিরাই ভারত শাসন করতো। কিন্তু তার মূলে কুঠারাঘাত করেন কলকাতা কেন্দ্রিক বুদ্ধিজীবীরা। পরিশেষে ১৮০০ খৃঃ কলকাতা কেন্দ্রিক রেনেসাঁর ফলে উপনিবেশিক শাসনের জঠরে যে সংষ্কৃতায়ীত বাংলা ভাষা, বাবু কালচারের জন্ম হয় তাতে বংলার মুসলমানদের অংশ গ্রহন ছিল না। এই ভাষা এবং সংষ্কৃতির অনুসরণ করে আজ বাংলার মুসলমান স্ববিদ্বেষী, ধর্মীয় ভাষা এবং ধর্ম বিদ্বেষী। প্রশ্ন হলো এর থেকে মুক্তির উপায় কি? 

ණ☛ এর থেকে মুক্তির উপায় হলো স্বাধীন বাংলাদেশের মুসলমানদের আর একটি রেনেসাঁর আয়োজন করতে হবে আমাদের হারিয়ে যাওয়া ভাষা এবং সংষ্কৃতির উম্মেষ ঘটানোর জন্য। আমরা কবি নজরুলকে পেয়েছি জাতীয় কবি হিসেবে। তাঁকে ঘিরে আমাদের অগ্রসর হতে হবে। নজরুল গন মানুষের কবি। আমাদের ভাষা আমাদের সংষ্কৃতি হবে গন মানুষের ভাষা এবং সংষ্কৃতি। আমরা যুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি । আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের জন যোদ্ধারা দেশের সাধারন মানুষ। এই সাধারন মানুষরাই কবি নজরুলের কবিতার নায়ক ও নায়িকা। জমিদার রবীন্দ্রনাথ উপেনকে দেখেছেন জমিদারের দৃষ্টি দিয়ে। কবি নজরুল দারিদ্রকে উপলব্ধি করেছেন নিজের জীবনে প্রতিক্ষনে । ইংরেজ শাসনের ২০০ বছরে যাদেরকে রাখা হয়েছিল হিসেবের বাইরে আজ সেই আমরাই ভারতের একটি অংশ স্বাধীন করে শাসন করছি। তফাৎটা এখানে। আজ ঢাকা বাংলা ভাষার রাজধানী। 



লেখক: কলামিস্ট ও প্রাক্তন মহাপরিচালক বিডিআর।