সময়ের ভাষা বুঝতে পারাটাই সেরা রাজনীতি

img

৪৯তম বিজয় দিবস গতকাল সারা দেশে পালিত হয়েছে। এবারের বিজয় দিবসে একটু ব্যতিক্রমীভাবে বিভিন্ন মাদ্রাসার অংশগ্রহন বেড়েছে। ইসলামী দলগুলোর তৎপরতা মাঠ পর্যায়ে বেড়েছে। অনেক পতাকা মিছিল হয়েছে। এটা দেখে কেউ কেউ কুরআন ও হাদীসের দৃষ্টিতে দিবস পালনের অনেক বড় বড় লেখা প্রসব করেছেন। এদেশের আলেম-উলামাগণের একটি অংশ ”কুরআন ও হাদীসের আলোকে ডেসটিনি, কুরআন ও হাদীসের আলোকে বঙ্গবন্ধু” ইত্যাদি বই লিখেও সুনাম কুড়িয়েছেন! সুতরাং এসব লেখাকে আমি এভাবেই দেখি। যারা দিবস পালনে কুরআন ও হাদীসের আলোকে নানা প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন তাদের উদ্দেশ্যে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, রাসূল সা. মদীনায় গিয়ে মদীনাবাসিকে একটি দিনে আনন্দ করতে দেখে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এটা কেন করা হয়? রাসূল সা. এর কারণ শুনে এরচেয়েও উত্তম দুটি দিবস পালনের কথা তাদের জানালেন। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা শুরু হলো।

এখান থেকে শিক্ষা হলো, রাসূল সা. দিবস উৎযাপন দেখে এর বিকল্প কী সেটা বলে দিয়েছেন। কিন্তু আমরা কি এভাবে কখনো ভেবেছি? বাংলাদেশে দিবস পালন নিয়ে একটা রাজনীতি চলছে। একটা চক্র দেশের আলেম-উলামাদেরকে দেশবিরোধী চিহ্নিত করতে নানামুখি চক্রান্তের সাথে জড়িত। কিন্তু তারা কোন ছুতা খুঁজে পায় না। এরা কিছু না পেয়ে একবার পতাকার কথা বলে, একবার জাতীয় সংগীতের কথা আনে। একবার বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় দিবসগুলো পালনের কথা বলে। স্বাধীনতা বিরোধী প্রমাণের জন্য তারা এখন এগুলোকে প্রতীক বানিয়ে নিয়েছে। আমি এ কথাটা খুব ভালোভাবে বিশ্বাস করি যে, এসব করেও আমরা পার পাবো না। কিন্তু শয়তানের হাতে অস্ত্র তুলে দিতে চাই না। ওদের অস্ত্র দিয়েই ওদেরকে ঘায়েল করতে হবে।

উৎসব পালন, দিবস পালন, পতাকার ব্যবহার এগুলো ওদেরকে মোকাবেলার অস্ত্র মাত্র। ওরা এই ছোট-খাট বিষয় নিয়ে মাদ্রাসাগুলোর ওপরে চোখ তোলার সাহস পায়। ওদেরকে এই সুযোগটুকু দিতেও আমি পছন্দ করি না। বরং ঐ দিবসগুলো আমাদের মতো পালন করে ওদেরকে রাজনৈতিকভাবে বোকা বানানোই হলো মূলত: উদ্দেশ্য। গতকাল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগরী এবং বরিশাল মহানগরীতে বিশাল র‌্যালি করেছে। একজন পীর সাহেব এর নেতৃত্বে এসব হয়েছে। আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে যে, ওরা এটা বুঝুক যে, আজকালের পীর সাহেবরা তগো রাজনীতি খুব ভালো করেই বুঝে। গতকাল মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম সাহেবের বক্তব্যে যেন আগুন ঝরেছে। বিজয় দিবসের র‌্যালিতে নাস্তিকদের এমন ধোলাইটাই আমাদের দিবস পালনের রাজনীতির উদ্দেশ্য। ঢাকায় র‌্যালিতে ইসলামী গান বেজেছে। মুহিব খানের ইঞ্চি ইঞ্চি মাটি গানটি বাজানো হয়েছে। এটাই হলো সময়ের সেরা রাজনীতি। সময়ের এই ভাষাটি বুঝতে হবে।
এসব করেও আমরা পার পাবো না জানি। ওরা হাজারো দিবস পালন, র‌্যালি ইত্যাদি করলেও কোনদিন খুশি হবে না। কারণ ওদের অন্তজ্বালা অন্যত্র। ওরা আমাদের অস্তিত্বকেই সহ্য করে না। ওরা নতুন কোন ছুতা বের করবে। ওরা যত ছুতা বের করবে, ঠিক সেই সময়ে সেই সমস্যা মোকাবেলার অন্যরূপ আমাদেরকেও বের করতে হবে।

বন্ধুরা! রাজনীতিটা বড় পিচ্ছিল বিষয়। এখানে সবসময় চোখ কান খোলা রাখতে হবে। সময়ের রাজনীতিটা না বুঝলে আমরাই বিপদে পড়বো। কোনদিন কি ভেবেছেন, বাংলাদেশে সময়ের সবচেয়ে সাহসী তিন সন্তানের বিরুদ্ধে আলাদতে একটি ভুঁইফোর সংগঠন মামলা করবে, আদালত বসে থাকা তাদেরই পছন্দের লোকেরা তাৎক্ষণিক সেই মামলা গ্রহন করবে, তদন্তের নির্দেশ দিবে। এটা কেউ ভাবেনি। কিন্তু বাস্তবে সেটােই ঘটেছে। আজ মামলা করার সাহস পেয়েছে। তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার সাহস পেয়েছে। সময়ের রাজনীতি না বুঝলে একদিন ঠিকই ওরা আমাদের বড়দের ঘাড়ও মটকে দিবে। আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, মাওলানা ফয়জুল করীম, মাওলানা মামুনুল হক এই সময়ের তিন সেরা সাহসী সন্তান। আজ মামলা করে টেস্ট করেছে। দশ বছর পর ঘাড়ে ধরবে।

জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, মীর কাসিম আলী, বিএনপির সালাহ উদ্দীন কাদের চৌধুরীদেরকে এভাবে, এত দ্রুত নিঃশেষ করে দিবে কেউ কোনদিন ভাবেনি। ওরা কিন্তু অনেক আগে থেকেই এই ভাবনাগুলো ভেবে এসেছিল। একদিন সুযোগ বুঝে ঠিকই তাদের ফাঁসি দিয়ে দিয়েছে।

আজকের কওমী উলামায়ে কেরাম যারা এসব মামলাকে খুব হালকাভাবে নিচ্ছেন তারা বড় ধরণের ভুলের মধ্যে আছেন। এসব টেস্ট কেস। আগামী দিনে আরো বড় ধরণের সমস্যা ফেস করতে হবে। সুতরাং, দিবস পালন বড় আমাদের বড় উদ্দেশ্য নয়, উদ্দেশ্য হলো, শয়তানি শক্তিকে শয়তানি করার সুযোগ না দেওয়া। আমি বিশ্বাস করি, আঞ্চলিক সংস্কৃতি, ভাষা, বর্ণের বিভিন্ন ব্যবহার ইসলাম নিষিদ্ধ করে না। শরিয়াতের মূল চেতনার সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক না হলেই হলো। ইনিয়ে বিনিয়ে সাংঘর্ষিক বানানোর দরকার নাই।

আশাকরি আমি কি বুঝাতে চেয়েছি, তা পাঠক বুঝতে পেরেছেন। যতটুকু পারা যায় নিজেদেরকে নিরাপদ করতে হবে। ময়দানে এসবের মাধ্যমেই ওদেরকে নতুন বার্তাও দিয়ে দিতে হবে। যেটা চরমোনাই এর পীর সাহেব দিয়ে দিয়েছেন। এভাবেই সকল আলেম-উলামাদেরকে রাজনীতি দিয়েই শয়তানী মোকাবেলা করতে হবে। এতদিন বাংলাদেশে পতাকা নিয়ে, জাতীয় সংগীত নিয়ে এত হৈচৈ হয় নাই। উলামায়ে কেরাম, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ নিরাপদেই দিনগুলি পালন করে এসেছেন। এখন মাদ্রাসাগুলোতে হানা দেওয়ার ছুতো খোঁজা হচ্ছে। জামায়াত, শিবির, বিএনপিকে দুর্বল করার পর এখন টার্গেট আলেম সমাজ। তাই সময়ের সেরা রাজনীতিটা আলেমদেরকেই খেলতে হবে।
আপনি ভাবছেন, আপনিতো ভালো মানুষ। আপনার বিরুদ্ধে কেন শয়তানি হবে? আরে মিয়া , আপনার এই ভালো মানুষ হওয়াটাইতো সময়ের সবচেয়ে বড় অপরাধ। আপনি কি সেটা এখনো বুঝতেছেন না? মাঝে মাঝে একটু কম ভালো মানুষ হবেন। হতে হবে। রাজনীতিটা এমনই। মাঝে মাঝে একটু কম ভালো হতে হয়। গভীরভাবে চিন্তা কইরা আশাকরি দেখবেন। অনেক ইসলামী দল মাঝে মাঝে একটু কম ভালো মানুষ হয়। আপনি এসব দেখে চেচিয়ে উঠেন। কেন এমন হয় সেই রাজনীতিটা আপনি বুঝেন না বলেই এসব মন্তব্য করেন। যখন নিজেই সমস্যায় পড়বেন, তখন বুঝবেন কেন মাঝে মাঝে কম ভালো মানুষ হতে হয়।

জেনারেল সেক্রেটারী
বাংলাদেশ ইন্টেলেকচুয়াল মুভমেন্ট বিআইএম
17.12.2020