বর্তমান যুগে খেলাফত বাস্তবায়নের সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা

img

ইসলামের রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনার এক অনন্য নাম খেলাফত রাষ্ট্রব্যবস্থা। আল্লাহর যমীনে আল্লাহর দেওয়া বিধানের আলোকে নবী-রাসূলগণের নির্দেশনা মোতাবেক রাষ্ট্র পরিচালনার ইসলামী ধারণার নাম খেলাফত। ‘ইসলাম’ একটি বিস্তৃত ও ব্যাপক উদার ধর্ম। মানবজাতির জন্য যা কিছু কল্যাণকর তার সমন্বিত ব্যবস্থাপনার নামই ইসলাম। আর ইসলামের রাষ্ট্রপরিচালনা পদ্ধতির নাম খেলাফত। মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, ধর্মীয়, রাজনৈতিক সকল ক্ষেত্রেই ইসলামের নিজস্ব দর্শন রয়েছে। আদর্শ রয়েছে। নীতিমালা রয়েছে। ইসলাম কোন ক্ষেত্রেই অন্য কোন মতবাদ, আদর্শ, চিন্তাধারা থেকে ধার করা শক্তি নয়। ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা তথা খেলাফত নীতিগতভাবে অনমনীয়, কিন্তু ব্যবহারিক ক্ষেত্রে নমনীয়। অর্থ্যাৎ ইসলামের খেলাফত ব্যবস্থাকে যতটা কঠোর মনে করা হয়, বাস্তবে এতটা কঠোর নয়। সকল ধর্মের অনুসারীদের জন্যও ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা কল্যাণকর। মানবজাতির জন্য নমনীয়তা ও অনমনীয়তার সমন্বয়েই খেলাফত রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে উঠে। জনগণের সার্বিক কল্যাণ সাধন, ইনসাফ কায়েম, ইসলামের সামগ্রীক বিধান কায়েমের জন্য খেলাফত রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কোন বিকল্প ইসলাম আমাদের দেয়নি।
ইসলামে এটা পরিস্কার করা হয়েছে যে, বিশ্বাসী মানুষেরাই দুনিয়াতে আল্লাহ তায়ালার প্রতিনিধি। তাদেরকে নেতৃত্বের আসনে বসানোর ওয়াদা পবিত্র কুরআনে পরিস্কার ভাষায় দেওয়া হয়েছে।
ইরশাদ হচ্ছে :
وعد الله الذين آمنوا منكم وعملوا الصالحات ليستخلفنهم في الأرض كما استخلف الذين من قبلهم، وليمكنن لهم دينهم الذي ارتضى لهم وليبدلنهم من بعد خوفهم أمنا، يعبدونني ولا يشركون بي شيئا، ومن كفر بعد ذلك فاولئك هم الفاسقون. )سورة النور-৫৫ (

তাথ্যিক এবং তাত্ত্বিকভাবে খেলাফত ব্যবস্থার ওপর অনেক আলোচনা কুরআন ও হাদীসে রয়েছে। ইতিহাসের পাতায় পাতায় এসব বিবৃত হয়েছে। খেলাফত ব্যবস্থা কায়েমের মাধ্যমে পৃথিবীতে শুধূ ঈমানদার বা মুসলমানদের জন্যই শান্তি নিশ্চিত করা হয়নি, জগতের সকল ধর্মের অনুসারী, সকল মতবাদের মানুষের জন্যও রয়েছে নিরাপত্তা ও কল্যাণ। বিশ্বশান্তির রোল মডেল, প্রিয়নবী মুহাম্মাদুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে সরাসরি ওহি প্রাপ্ত হয়ে মানবজাতির সামনে আদর্শ রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার নমুনা প্রদর্শন করে গিয়েছেন। তাঁরই দেখানো পথে দীর্ঘদিন মুসলমানরা শান্তি ও স্বস্তির সাথে একজন খলিফার অধীনে বসবাস করে এসেছে। আফসোসের বিষয় হলো, বর্তমান বিশ্বে মুসলমানদের সংখ্যা অনেক কিন্তু তাদের একক কোন বিশ্ব নেতা নেই।খলিফা নেই। মুসলমানদের স্বতন্ত্র ধারার রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনার খেলাফত বিশ্বের কোন দেশে প্রতিষ্ঠিত নেই।


ইসলামের ইতিহাসে এ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি খেলাফতকাল :
খেলাফতে রাশেদা: রাসূল সা. এর ইন্তেকালের পরে তাঁরই হাতে গড়া সাহাবায়েকেরামদের যে কাফেলা মুসলমানদের এককভাবে নেতৃত্ব দেয় সেই রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের নাম খেলাফতে রাশেদা। এর মেয়াদকাল ৬৩২খ্রিষ্টাব্দ থেকে ৬৬১খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত। ৪জন খলিফা এই ২৯বছরে মুসলিম উম্মাহর খেলাফতের দায়িত্ব পালন করেন।
খেলাফতে উমাইয়া: ৬৬১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ৭৫০খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত উমাইয়া বংশের নেতৃত্বে মুসলিম বিশ্ব পরিচালিত হয়। উমাইয়াদের ১৪জন খলিফা ৮৯বছর মুসলমানদের খেলাফতের দায়িত্ব পালন করেন। তাদের সময়ে ৭০৮খ্রিষ্টাব্দে কুতায়বার নেতৃত্বে বুখারা জয়লাভ করা হয়। ৭১০খ্রিষ্টাব্দে তরুন সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিম এর নেতৃত্বে ১২হাজার সৈন্য সমেত সিন্ধু জয় করা হয়। ৭১১খ্রিষ্টাব্দে খলিফা ওয়ালিদ এর সময়কালে সেনাপতি তারিক বিন যিয়াদ এর নেতৃত্বে স্পেন বিজয় করা হয়। উমাইয়াদের হাতে মুসলিম সাম্রাজ্যের হাতে নিয়ন্ত্রিত ভূমির পরিমান ছিল এক কোটি পঞ্চাশ লাখ বর্গকিলোমিটার।
আব্বাসীয় খিলাফত: মেয়াদকাল ৭৫০খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১২৫৮খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত। আবুল আব্বাস আব্দুল্লাহ সাফফাহ ১৩২হিজরীতে কুফা শহরকেন্দ্রিক আব্বাসীয় খিলাফতের সূচনা করেন। মোঙ্গল নেতা হালাকু খানের হাতে ১২৫৮সনে আব্বাসীয় খেলাফতের পতন ঘটে। যদিও মিশরে ১৫১৯পর্যন্ত মামলুক সালতানাত কোন রকমভাবে প্রতিষ্ঠিত ছিল।
খেলাফতে উসমানিয়া : এর বিস্তৃতিকাল ১২৯৯খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৯২৪খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত। ধারাবাহিকতার দিক দিয়ে এটা খেলাফতের উত্তরাধিকারী হলেও মূলত: এটা ছিল এক ধরণের সালতানাত। সুদীর্ঘ ৬শত ২৫বছর পর্যন্ত এই ধারার খেলাফত স্থায়ী ছিল। স্থায়িত্বের দিক দিয়ে উসমানী খেলাফতই সবচেয়ে দীর্ঘ। ১৯২৪সনের ৩রা মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে উসমানি খেলাফতের বিলুপ্তি ঘটে।
খেলাফত ব্যবস্থা শুন্য বিশ্ব : বিগত এক’শ বছরের মধ্যে বিশ্বের কোথাও খেলাফত প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে গোটা বিশ্বে প্রায় দেড় ‘শ কোটি মুসলমান খলিফাবিহীন জীবন যাপন করছে। বিধায় শকুনেরা মুসলমানদের সাথে যাচ্ছেতাই আচরণ করার সাহস পাচ্ছে। নতুন করে পৃথিবীতে খেলাফতে রাশেদার ধাঁচে খেলাফত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য অনেক সংগ্রাম করতে হবে। আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে বিশ্বে ইসলামী ধারার খেলাফত প্রতিষ্ঠার পথে গোটা অমুসলিম দুনিয়া এর শক্ত প্রতিপক্ষ। এটাকে মোকাবেলা করে টিকতে হলে প্রয়োজন সাহসী, যোগ্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্ব।
মুসলমানরাই খেলাফত রাষ্ট্র ব্যবস্থার কথা ভুলে গেছে: এছাড়া পাশ্চাত্যের প্রভাবে মুসলমানদের বিরাট একটি অংশ নিজেদের রাষ্ট্রীয় নীতি, ধর্মীয় স্বকীয়তা, ইতিহাসের গৌরবজনক ধারাবাহিকতা সবই ভুলে গেছে। তাদের প্রভাবে আমরা আমাদের নিজস্ব রাজনৈতিক ব্যবস্থার কথাও বিস্মৃত হয়েছি। ফলে আমাদের অবস্থা দিন দিন অবনতিই হচ্ছে। পাশ্চাত্যের কোন ফর্মূলা আমাদের সমস্যার সমাধানে কোন প্রকার কাজে আসছে না।
খেলাফত ভীতি দূর করতে হবে : বিশ্বব্যাপি কোথাও ইসলামী আদর্শের রাজনীতি তথা খেলাফত ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত থাকায় এবং আধুনিক শিক্ষিত বিশাল জনগোষ্ঠীর সামনে ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থার সুফল সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা না থাকায় মুসলমানদের মধ্যেই খেলাফত ব্যবস্থা সম্পর্কে ভীতি কাজ করে।


বিগত শত বছরে ইসলামী ধারার রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় যারা কাজ করে গেছেন:
খেলাফতব্যবস্থা পুন:প্রতিষ্ঠার জন্য বিশেষভাবে স্মরণীয় কয়েকজন ব্যক্তিকে ভালোভাবে স্টাডি করতে হবে। বিগত একশ বছরে এসকল ক্ষণজন্মা মহামনীষীগণ অনেক ত্যাগ ও সংগ্রাম করে গেছেন। এদেরকে না জানলে নিজেদের আন্দোলনে পূর্ণতা আসবে না।
১. আল্লামা ইকবাল রহ.(৯ নভেম্বর-১৮৭৭-২১এপ্রিল- ১৯৩৮, লাহোর, পাকিস্তান) এর রাজনৈতিক ইসলামের অসাধারণ দর্শনতত্ত্ব সকল আন্দোলনের কর্মীদের ভালো করে বুঝতে হবে।
২. জামাল উদ্দীন আফগানী রহ.(১৮৩৮-৯মার্চ, ১৮৯৭, আসাদাবাদ, আফগানিস্তান) এর প্যান ইসলামিজম তত্ত্ব সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই ধারণা নেই। আমরা তাকে ভুলেই গেছি। অথচ আফগানীর চিন্তা-দর্শন, আন্দোলন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান লাভ করতে হবে।
৩. মাওলানা আবুল কালাম আযাদ রহ. (১১নভেম্বর-১৮৮৮-২২শে ফেব্রুয়ারী-১৯৫৮, দিল্লী, ভারত) তিনি একাধারে বিশাল ভারতের একক বৃহত্তম সংগঠন কংগ্রেস এর দুই দুই বারের নির্বাচিত সভাপতি, পাশাপাশি তিনি কুরআন ও সুন্নায় একজন গভীর পন্ডিত ব্যক্তি। এই যে ধর্ম ও রাজনীতির সমন্বয়বাদ এ সম্পর্কেও জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
৪. ধর্মতত্ত্ববিদ, যুগ সংস্কারক আল্লামা বদিউজ্জামান সাঈদ নুরসী রহ. (১২মার্চ-১৮৭৬-২৩মার্চ ১৯৬৩, বিতলিস, তুরস্ক) এর হাকীকাতে ইসলাম দর্শন আমাদের বুঝতে হবে। তাঁর রেসালায়ে নূর আজ বিশ্বব্যাপী প্রভাব রাখতে শুরু করেছে। নূরসীর আন্দোলন নতুন ধারার আন্দোলন।
৫. সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ. (৫ডিসেম্বর ১৯১৩- ৩১ডিসেম্বর ১৯৯৯, রায়বেরলী, ভারত) এর দাওয়াহভিত্তিক রাজনৈতিক ইতিহাস দর্শন। তিনি সবকিছুকে দাওয়াহ ভিত্তিক চেতনা আমাদের গভীরভাবে অনুভব করতে হবে।
৬. বিশিষ্ট সাংবাদিক, গবেষক, আল্লামা সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদী রহ. (২৫ডিসেম্বর ১৯০৩- ২২ সেপ্টেম্বর ১৯৭৯, উরঙ্গবাদ, ভারত) এর রাজনৈতিক ইসলাম এর যে ব্যাখ্যামূলক বিশ্লেষণ দাঁড় করিয়েছেন, এর ওপর যে বিশাল রচনাসামগ্রী তৈরী করেছেন সে সম্পর্কেও ওয়াকিফহাল হতে হবে।
৭. এছাড়া আল্লামা শামসুল হক ফরিদপুরী রহ. আল্লামা আতহার আলী রহ. প্রমুখ ব্যক্তিদের রাজনৈতিক কর্মকান্ড সম্পর্কে আমাদেরকে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে হবে।


খেলাফত প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত কর্মীদের করণীয়:
প্রথমত: এই আন্দোলনের কর্মীদের সকলের মনে এই অনুভূতি আসতে হবে যে, আল্লাহর যমিনে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার জন্য নবী-রাসূলগণ যে রাজনৈতিক দর্শন উম্মতের সামনে পরিস্কার করে গিয়েছেন তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব আমাদের। এজন্য একদল নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের ইসলামী ধারার রাজনৈতিক দর্শন খেলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যেতে হবে।
দ্বিতীয়ত: বর্তমান বিশ্বে দীর্ঘদিন খেলাফত ব্যবস্থা না থাকায় সমাজ ও রাষ্ট্রে খেলাফত নিয়ে যে ধূম্রজাল তৈরী হয়েছে তা পরিস্কার করতে নিজেদের মধ্যে সীমিত আকারে খেলাফত আলা মিনহাজিন নবুওয়াহ এর নমুনা বাস্তবায়ন করতে হবে। খেলাফত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলে সত্যিকার অর্থে ভালো মানুষের জন্য কোন হুমকি নয়। অপরাধপ্রবণ মানুষের জন্য কিছু সমস্যা সৃষ্টি করলেও সামগ্রিকভাবে সকল মানুষের জন্য এই ব্যবস্থা কল্যাণকর।
তৃতীয়ত: সাধারণ মানুষের সামনে খেলাফতভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে তারা কীভাবে উপকৃত হবে সেটা জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে। মানুষ যখন দেখবে, খেলাফতভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় তাদের স্বার্থ রয়েছে তখন তারাই আমাদের আন্দোলনে সহযোগী হবে। তাদেরকে পাশে দাঁড় করাতে না পারলে শুধুমাত্র কতিপয় আলেমের নেতৃত্বে এ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা আদৌ সম্ভব নয়।
চতুর্থত: খেলাফত ব্যবস্থাকে যারা এতদিন দাবিয়ে রেখেছে, তারা যেসব মিথ্যা ইতিহাস মুসলমানদের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছে, খেলাফত ব্যবস্থাকে বিতর্কিত করতে তারা যেসব মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে সেগুলোকে যৌক্তিকভাবে মোকাবেলা করতে যুগের চাহিদা অনুসারে সকল প্রকার পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে।
পঞ্চমত: কুরআন ও সুন্নাহতে খেলাফত রাষ্ট্র ব্যবস্থার গুরুত্ব সম্পর্কে যে আলোকপাত রয়েছে সেগুলো মুসলিম সমাজে এমনভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে, যাতে মুসলমানদের প্রতিটি সন্তান এই রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার জন্য আকাঙ্খা পেশ করে। এজন্য নানামুখি প্রশিক্ষণ, সিলেবাসে খেলাফত ব্যবস্থার পাঠকে আবশ্যক করা, খেলাফত ব্যবস্থার গৌরবজনক অতীতকে মুসলমানদের প্রতিটি সন্তানের সামনে সুন্দরভাষায় তুলে ধরার কাজ করতে হবে। এজন্য খেলাফত প্রতিষ্ঠার কাজে নিয়োজিত প্রতিটি কর্মীকে সক্রিয় থাকতে হবে।


বিশ্বব্যাপী খেলাফত ও আঞ্চলিক খেলাফত:
গোটা মুসলিম উম্মাহর সামনে খেলাফত প্রতিষ্ঠার বিষয়টি অপরিহার্য হলেও যেহেতু এখন কোথাও খেলাফত ব্যবস্থা কায়েম নেই, তাই ব্যাপক পরিসরে এটা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়তো হবে না, তাই অঞ্চলভেদে এই ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করতে আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই।
খেলাফত ব্যবস্থার কায়েমের জন্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইসলাম সুস্পষ্ট নির্দেশ দিলেও অনেক ক্ষেত্রে সময়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে। এটা উম্মতের জন্য বড় ধরণের একটি রহমত। ইসলামে নির্বাচন, শুরাভিত্তিক পরামর্শ গ্রহন, জনমত যাচাইয়ের নির্দিষ্ট কোনপন্থা ইসলাম বিধিবদ্ধ করে দেয়নি। কেননা সবযুগের ও সব দেশের জন্য এসব ব্যাপারে একই কর্মপদ্ধতি মূলত: অসম্ভব। তাই বিষয়টি মুসলমানদের ওপরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। যাতে তারা খেলাফত প্রতিষ্ঠার মূলনীতি স্বাধীন পরামর্শ ও স্বাধীন বায়আতের নীতির ভিত্তিতে যুগ-দেশ ও পরিস্থিতির আলোকে শাসনতান্ত্রিক পদ্ধতি উদ্ভাবন করতে পারে।
খেলাফত রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা সকলেই দায়বদ্ধ। মুসলিম উম্মাহর প্রতিটি সদস্যই এজন্য জিজ্ঞাসিত হবে। সকলেই দায়িত্বপ্রাপ্ত। এটাকে কারো পক্ষে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। যেমন রাসূল সা. ইরশাদ করেন :
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: "كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْؤول عَنْ رَعِيَّتِهِ، الإِمَامُ رَاعٍ وَمَسْؤولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، وَالرَّجُلُ رَاعٍ فِي أَهْلِهِ وَهُوَ مَسْؤولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، وَالْمَرْأَةُ رَاعِيَةٌ فِي بَيْتِ زَوْجِهَا وَمَسْؤولَةٌ عَنْ رَعِيَّتِهَا، وَالْخَادِمُ رَاعٍ فِي مَالِ سَيِّدِهِ ومَسْؤولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، - قَالَ: وَحَسِبْتُ أَنْ قَدْ قَالَ: وَالرَّجُلُ رَاعٍ فِي مَالِ أَبِيهِ وَمَسْؤولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ- وَكُلُّكُمْ رَاعٍ وَمَسْؤولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ"
কারো পক্ষেই পিঠ বাঁচানোর কোন সুযোগ নেই। সকলকেই দায়িত্ব নিতে হবে। মুসলিম পরিচয় যে দিবে তাকেই এ দায়িত্ব নিতে হবে। কারণ সকল কালিমা বিশ্বাসী মানুষের এটা দায়িত্ব যে, সে দুনিয়ায় আল্লাহর দেওয়া বিধান মোতাবেক রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। ব্যক্তিগতভাবে কাজ করার যেমন দায় নিতে হবে, তেমনি সামগ্রিকভাবে খেলাফত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সকলের দায়িত্ব পালনের কাজে সহযোগি হতে হবে। সহযোদ্ধা হতে হবে।


খেলাফত রাষ্ট্রের লক্ষ্যসমূহ :
ইসলামী রাষ্ট্র এবং অন্যান্য ধারার রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার মধ্যে এখানেই রয়েছে বিস্তর ফারাক। খেলাফত তথা কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা লাভ করলে নিম্নোক্ত লক্ষ্যসমূহ অর্জিত হবে, যা অন্যান্য রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনায় অর্জন সম্ভবপর নয়।
১। রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের মধ্যে সকল ক্ষেত্রে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।
২। মানুষের সকল প্রকার মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
৩। সকল নাগরিকের পক্ষে সর্বোচ্চ ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করা সম্ভব হবে।
৪। একটি আদর্শ সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন সম্ভব হবে। যেখানে মানুষে মানুষে বৈষম্য এবং কারো মধ্যে কোন হাহাকার থাকবে না।
৫। আল্লাহর যমিনে আল্লাহর বড়ত্ব, মহানত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে। যেভাবে নবী-রাসূলগণ তাদের সময়ে করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
খেলাফত প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের কর্মীদের যে বিষয়ে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হবে :
কাজ শেষে কোনপ্রকার আত্মতৃপ্তিতে ভোগা যাবে না।
আমরা খুব অল্পতেই তৃপ্ত হয়ে উঠি। ইসলামী ধারার স্বার্থক কর্মীদের সামনে লক্ষ্য থাকবে অনেক দূর। ছোট-খাট অর্জনে খুব বড় ধরণের খুশি প্রকাশ করা যাবে না। এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। ফতহে মক্কার আদর্শ থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে।


খেলাফত প্রতিষ্ঠার পথে অন্যতম বাধা স্বাধীন ভূমি না থাকা :
বর্তমান বিশ্বে কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক খেলাফত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পেছনে সবচেয়ে বড় বাধা বিশ্বে কোন স্বাধীন মুসলিম ভূমি নেই। সত্যিকার অর্থে একটি রাষ্ট্রের নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষমতা কোন মুসলিম দেশের এখনো হয়নি। এটা না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় খেলাফত কোনভাবেই কায়েম সম্ভব হবে না। টিকবে না। টিকানো যাবে না।


এজন্য এখন থেকে প্রত্যক্ষ লড়াইয়ে নামতে হবে :
খেলাফত প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে কর্মীদেরকে আহবান জানাবো, প্রত্যক্ষ লড়াইয়ের। যার যার অঙ্গন থেকে বিশ্বব্যাপী পূর্ণাঙ্গ খেলাফত প্রতিষ্ঠার পূর্বে অঞ্চলভিত্তিক খেলাফতি ধারার সমাজ কায়েমে প্রত্যক্ষ লড়াইয়ে নামার মানসিক প্রস্তুতি গ্রহন করতে হবে। আত্মগোপনে থেকে হঠাৎ জনসম্মুখে এসে আত্মঘাতি হামলা করে পালিয়ে গিয়ে সশস্ত্র লড়াইয়ের যে স্বপ্ন বাংলাদেশে অনেক তরুন দেখছে, তাদেরকে দেখানো হচ্ছে, বাংলাদেশের ভূ-কৌশলগত কারণে মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর মতো এখানে চিন্তা করলে পুরোটাই ভুল হবে। এর সাথে আমি কোনভাবেই একমত নই। প্রত্যক্ষ লড়াইয়ের মাধ্যমে নিজেদের দাঁড়াবার জায়গা করে নিতে হবে। ধীরে ধীরে এটাকে সম্প্রসারিত করতে হবে। এতে আমাদের কখনো কখনো ক্ষতি হবে। নানা চাপ আসবে। এসব করতে গিয়ে মেধার বিকাশ ঘটাতে হবে। আদর্শের ওপর অবিচল থেকে লড়াই অব্যাহত রাখার দৃঢ় মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।


খেলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা:
বর্তমান বিশ্বে ইসলামী ধারার খেলাফতভিত্তিক আদর্শ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কোন বিকল্প নেই। বিশ্বমোড়লদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করার শক্তি এখনো কোন মুসলিম দেশের হয়নি। ফলে মুসলমানরা চাইলেও ইসলামী ধারার খেলাফত কায়েম করতে পারছে না। পারবে না। বিশ্বে ওআইসি এর অধীনে প্রায় ৫৭টি মুসলিম দেশ আছে। কার্যত এর একটিও স্বাধীন দেশ না। ফলে কারো পক্ষেই এ কথা বলার কোন সাহস নেই যে, তারা তাদের রাষ্ট্রে ইসলামী ধারার খেলাফতকে তাদের দেশে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি হিসেবে গ্রহন করে নিবে।

এরদোয়ান এর স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা :
বর্তমান মুসলিম বিশ্বে আশা জাগানো একজন ক্যারিশমেটিক নেতা যিনি সম্মানের আসনে অধিষ্টিত হয়েছেন, তিনি হলেন তুরস্কের বর্তমান প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান। খুব শীঘ্রই বিশ্বে কোন স্বাধীন মুসলিম দেশ এবং খেলাফত ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে এরদোয়ান কাজ করে যাচ্ছে বলেই মনে করে মুসলিম বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমান। তার প্রতিটি পদক্ষেপকে গভীরভাবে ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের অনুসরণ করতে হবে।


জনমত নিজেদের অনুকূলে আনতে :
বর্তমান প্রেক্ষাপটে খেলাফত প্রতিষ্ঠা করতে হলে জনমত নিজেদের অনুকূলে আনতে হবে। এজন্য সমকালীণ সফল রাজনীতিবিদের জীবনী, উত্থান-পতন, কর্মপদ্ধতিও বিশেষভাবে আয়ত্ব করতে হবে। নতুবা বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে খেলাফতের রাজনৈতিক দর্শন প্রতিষ্ঠার পথে অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হবে। বিশেষকরে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি বুঝতে হবে। মোগল সাম্রাজ্রের পতন থেকে নিয়ে ৭১এর স্বাধীনতা পর্যন্ত সবগুলো আন্দোলন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। বাংলাদেশে বসে খেলাফত কায়েমের স্বপ্ন দেখবো, আর দেশের রাজনীতি সম্পর্কে জ্ঞান রাখবো না, তা হলে চলবে না। এজন্য নিচের বিষয়গুলো গভীর মনযোগ দিয়ে পড়তে হবে। জানতে হবে।
সফল রাজনীতিবিদ হিসেবে কায়েদে আযম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এর নেতৃত্বে দেশ বিভাগ ও মোগল সাম্রাজ্যের আংশিক উদ্ধার এর মর্মকথা বুঝতে হবে। ভারতবর্ষে একটি স্বাধীন মুসলিম ভূমি প্রতিষ্ঠায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এর অবদান অবিস্মরনীয়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এর রাজনৈতিক উত্থান ও পতন, তার স্বাধীনতা আন্দোলনকাল ও পরবর্তীতে শাসক হিসেবে ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ভারতীয় আগ্রাসন, দেশভাগ ও স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস জানতে হবে।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর ব্যাপক গ্রহনযোগ্যতার নেপথ্য কারণ কি? সেটা জানতে হবে। একজন সাধারণ মেজর থেকে এতটা জনপ্রিয়তা কী কারণে অর্জন করা সম্ভব হয়েছিল, তখন দেশে ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় কী শুন্যতা বিরাজ করছিল এসব বিষয় দেশ ও ইসলামের মানদন্ডের আলোকে বিচার-বিশ্লেষণ করতে হবে। ইসলামী ধারার নেতৃত্বের জন্য তার মধ্যে বিশেষ কি কি গুণ ছিল সেটা খুঁজে বের করতে হবে। তার উত্থান ও শাহাদাত এর নেপথ্য কারণ সমপর্কে গভীরভাবে অনুসন্ধান চালাতে হবে। দেশটাকে পূর্নাঙ্গ স্বাধীনতা দেওয়ার পথে তাঁর নেতৃত্বের সময়ে ভারতীয়দের কালোহাত কতটা সম্প্রসারিত হয়েছিল সেই সম্পর্কে জ্ঞানার্জন হবে।
এছাড়া বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে রজব তাইয়েব এরদোয়ান এর রাজনীতিকে। তার প্রতিটি পদক্ষেপকে গভীরভাবে নিরীক্ষণ করে জানতে হবে বর্তমান সময়ের প্রতিটি সচেতনকর্মীকে।


দক্ষিণ এশিয়ায় রাজনীতি করে সফল হতে হলে নিম্নোক্ত পাঁচটি আন্দোলন সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে হবে :
ক। মোগল সাম্রাজ্যের পতনের কারণ, বৃটিশের উত্থান ও বিদায়, স্বাধীনতা অর্জন, দেশ ভাগ ইত্যাদি সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা অর্জন করতে হবে।
খ। উসমানী খেলাফতের পতনের কারণ, কামাল আতাতুর্কের উত্থান, নব্য ইসলামী জাগরণ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
গ। তালেবান, আল-কায়েদা, আইএসসহ আফগানিস্তানের রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
ঘ। হাসানুল বান্নার ইখওয়ান সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যে তাদের প্রভাব, তাদের রাজনৈতিক দর্শন ও চিন্তাধারা সমপর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
ঙ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন, পাকিস্তান ভাগ ও ভারতের ভূমিকা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। বর্তমানে কারা বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী কাজের সাথে জড়িত তাদেরকে চিহিত করে তাদের কর্মতৎপরতা সম্পর্কে সম্যক ধারণা অর্জন করতে হবে।
শুধু কুরআন ও হাদীসের নির্দেশনা মেনে বর্তমান বাস্তবতাকে গভীরভাবে না বুঝে কোনভাবেই নতুন বিশ্বব্যবস্থায় ইসলামী ধারার খেলাফত ভিত্তিক রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। তুরস্কের রাজনীতি থেকে আমরা এক্ষেত্রে শিক্ষা নিতে পারি। ৬০এর দশকে তুরস্কের আদনান মেন্ডারেস এর ফাঁসি, নাজমুদ্দিন এরবেকানকে বারবার পদচ্যুত করা, দল নিষিদ্ধ করা, এরদোয়ানকে পদে পদে বাধা চেওয়ার চেষ্টা এবং সেই বাধাসমূহ উৎরে উঠার কৌশল বিষয়ে আমাদেরকে গবেষণা করতে হবে।
পারিপার্শ্বিক বিষয়ে জ্ঞান অর্জন না করে, রাষ্ট্রীয় কাটামো সম্পর্কে জ্ঞান লাভ না করে, শত্রুকে ভালো করে না চিনে, জাগতিক জ্ঞান-বিজ্ঞান সম্পর্কে কোন প্রকার ধারণা অর্জন ছাড়া খেলাফত ব্যবস্থাকে এই সমাজ কাটামোর প্রাধান্যে আনা সম্ভব হবে না। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে বিষয়গুলো গভীরভাবে উপলব্দি করার তৌফিক দান করুন। আমীন ।
২০নভেম্বর শুক্রবার বাদ মাগরিব ঘাটারচর মাকবারায়ে শায়খুল হাদীস রহ. সংলগ্ন মসজিদে খেলাফত যুব মজলিস এর বাৎসারিত তরবিয়তি মজলিসে এই লেখাটির ওপর কিছু আলোচনা করেছিলাম।


22.11.2020