জি হা দ হতে হবে সীরাতের নমুনায় (২)

img

মুফতি আবদুস সালাম চাঁটগামি হাফি.

(শেষ পর্ব)
বাংলাদেশের শর‌ঈ বিধান
বাংলাদেশ সম্পর্কে বিভিন্নজন বিভিন্ন কথা বলেন। আমি বাংলাদেশকে দারুল হরব মনে করিনা। দলিলের বিচারে এ মতটিই রাজেহ।
সামগ্রিক দৃষ্টিকোণ থেকেও তা অনুমিত। কারণ, সরকার এ কথা স্বীকার করে যে, আমাদের দেশ মুসলমানদের দেশ। এখানে ৯০% মানুষ মুসলমান। তারা ইসলামের দাবিদার। মুসলমান হওয়ার দাবী করে। তাদেরকে আমরা হরবি বলি না। কাফের তো বলি না। কাফের না হলে হরবি কিভাবে বলা যাবে?
বাংলাদেশের হুকুমত ইসলামী হুকুমত নয়। কিন্তু দারুল হরব নয়। কেননা এখানে মুসলমানরা ফারায়েজ ও বুনিয়াদি রোকনসমূহ স্বাধীনভাবে আদায় করতে পারে। নামায পড়তে পারে। যাকাত দিতে পারে। রোযা রাখতে পারে। হজ করতে পারে। মুআমালাত ও মুআশারা সংক্রান্ত যাবতীয় বিধিবিধান এখানে পালন করতে পারে।

আজ মুসলমানদের গাফলতের যিন্দেগি চলছে। নামায পড়তে পারে এমন কত শতাংশ মানুষ নামায পড়ে? যাকাত দিতে পারে এমন কতজন মানুষ যাকাত দেয়? ১০ হাজার মানুষের সংকুলান হয় এমন মসজিদে কতজন মুসলমান হয়? না এসব ফরয আদায় করার পর যদি জি হা দের মাসআলা চলে আসে।
দুশমন, যদি আমাদের দিকে অস্ত্র উঠায়। আমরাও তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরবো। এটাকে বলে দিফায়ী জি হা দ। আর যদি দুশমন আমাদেরকে কোণঠাসা করে রাখে। কোন বিধান পালন করতে বাধা দেয়। তখন ইকদামী জি হা দ করতে হয়।
জি হা দ হতে হবে সীরাতের নমুনায়।

দিফায়ী জি হা দ ও ইকদামী জি হা দ। ইসলামে উভয় জি হা দের বিধান রয়েছে। সাহাবায়ে কেরাম উভয় প্রকার জি হা দে শরিক হয়েছেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয় জি হা দ করেছেন। আমাদের জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাতে সব কিছুর নমুনা রয়েছে। কোরআন তো বলে দিয়েছে:
لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ
"তোমাদের জন্য রয়েছে রাসূলের মধ্যে উত্তম আদর্শ" (সূরা আহযাব-২১)
আমরা রাসুলের নমুনা অনুসরণ করবো, নাকি নিজেদের পক্ষ থেকে নমুনা আবিষ্কার করব? নমুনা আছে না নাই? যদি থাকে তাহলে ওই নমুনাকেই আমাদের অনুসরণ করতে হবে। কেউ ঘর বানাতে চাইলে এর জন্য নমুনা প্রয়োজন হয়। নমুনা কোত্থেকে মিলবে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জন্য নমুনা। সেখান থেকেই আমাদেরকে নমুনা গ্রহণ করতে হবে।
ফরজ বিধানসমূহ আদায়ের নমুনা রয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গাযওয়াসমূহ আমাদের জন্য নমুনা। সকল কাজে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে শর্ত আরোপ করেছেন সেগুলো আমাদের জন্য নমুনা। নমুনা অনুসরণ করা ছাড়া আমরা যদি ময়দানে জি হা দের জন্য নেমে পড়ি, তাহলে এর ফলাফল কী দাঁড়াবে? ফলাফল ধ্বংস আর বরবাদিই হবে। যেদিকে তীর ছোড়ার নির্দেশ দিয়েছেন সেদিকেই ছুড়তে হবে। অন্যদিকে নয়।
মদিনাকে চিন্তা করুন, সেখানে প্রথমে মুসলমানদের উপযুক্ত জায়গা মিলল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নেতৃত্বে একটি ইসলামী ভূখণ্ড তৈরী হলো। এরপর তাদের সংখ্যা যখন হাজারে পৌঁছল। এতে খাঁটি মুসলমানদের পাশাপাশি কিছু মুনাফিক‌ও ছিল। বাহ্যিক গণনায় যখন হাজারে পৌঁছল এবং শক্তি সামর্থ্য অর্জন হল। তখন আল্লাহ তাআলা দ্বিতীয় হিজরীতে জি হা দের হুকুম দিলেন। আল্লাহ তা'আলা তো জানতেন, কখন জি হা দের হুকুম দেয়া হবে। কতজন মুসলমান দীনের জন্য মুজাহাদা করবে, কামিয়াবী কাদের হবে- এ সব আল্লাহ তাআলা আগে থেকেই জানতেন। কিন্তু আল্লাহ তাআলা সব কাজ নেযাম অনুসারে করে থাকেন।

তো প্রথম বিষয় হল, একজন আমির থাকতে হবে। জি হা দ যেহেতু এককভাবে বা একা একা করার মত কোন আমল নয়; বরং ইজতেমায়ী আমল। সম্মিলিতভাবে করতে হয়। তাই আমির ছাড়া জি হা দের বিধান প্রযোজ্য নয়। একজন আমিরের ব্যাপারে সবাই একমত হতে হবে। আমীর দুই তিনজন হলে ঝগড়া বিবাদ সৃষ্টি হবে। ইকদামীর জন্য আমীর লাগবেই। নিয়মতান্ত্রিক দিফায়ী জি হা দের জন্যও আমীর আবশ্যক। অন্যথায় জি হা দ ফাসাদে পরিণত হয়ে যাবে।
আমিরের পাশাপাশি শুরার নেযাম থাকাও জরুরি। আমির মাশওয়ারা করে কাজ করবেন। আমির তো কেবল নিজের রায় দিয়ে কাজ করতে পারবে না। দুনিয়াবী কাজের তার তারতীব ও সুন্দর নেযামের জন্য মাশওয়ারা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খুসূসী এবং উমূমী শুরা থাকতে হবে। শূরা জি হা দের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। প্রথমে খুসূসী শূরায় ফায়সালা হবে। এরপর উমূমী শূরায় আলোচনা হবে।
দ্বিতীয়তঃ জি হা দের জন্য ভূখণ্ড হতে হবে। উপযুক্ত মাকাম থাকতে হবে। একটা নির্দিষ্ট ঠিকানা তো থাকতে হবে। যেখান থেকে জি হা দ পরিচালিত হবে। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা যাবে। আফরাদ থাকতে হবে। লক্ষ্য করতে হবে যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিরবিচ্ছিন্ন দাওয়াতের ফলে যখন কিছু মুখলিস মুসলমান তৈরি হলো, তখন আল্লাহ তাআলা জি হা দের হুকুম দিলেন: এবার তোমরা বের হও।
তৃতীয়তঃ হাতিয়ার ও সরঞ্জাম থাকতে হবে। শত্রুপক্ষের কাছে যে ধরনের অস্ত্র থাকে কম হলেও সেই ধরনের অস্ত্র মুসলমানদের সংগ্রহে থাকা চাই। জি হা দ ও ফাসাদের পার্থক্যটা বোঝা উচিত। হাতিয়ার নেই, জি হা দে নেমে গেলেন। এতে লাভ হবে না। বরং ফাসাদ তৈরি হবে। সাহায্য ও সফলতা তো আসবে আল্লাহর পক্ষ থেকে। আসবাব ও উপকরণ থেকে নয়। কিন্তু দুনিয়াবী উপকরণ গ্রহণ করা এটাও আল্লাহ তাআলার নির্দেশ। মুসলমানদের এলাকায় যে সমস্ত ইহুদি খ্রিস্টান ও অন্যান্য বিধর্মীরা বসবাস করে তাদের সাথেও মুআহাদা ও শান্তি চুক্তি করতে হবে। মদীনার ইহুদী-খ্রিস্টানদের সাথে যেমনটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছিলেন। সম্ভব হলে পর্শী ও অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন করবে। যাতে যুদ্ধ ও বৈরী পরিবেশ তৈরী হলে সহযোগিতায় এগিয়ে আসে।

শর্ত থাকলে জি হা দ অন্যথায় ফাসাদ
জি হা দের মৌলিক শর্তগুলো আমরা সংক্ষেপে দেখলাম। শর্তগুলো আমাদের বোঝা উচিৎ। শর্ত মেনে কাজ করলে তা জি হা দ হিসেবে গণ্য হবে। অন্যথায় ফাসাদ বলে বিবেচিত হবে।
কুরআনুল কারিমে জি হা দ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর ফাসাদ থেকে বিরত থাকার হুকুম দেয়া হয়েছে। শর্তগুলোর সাথে আমাদের অবস্থা এবং আমাদের পরিস্থিতি মিলিয়ে দেখুন। বর্তমানে জি হা দ নিয়ে অতি উৎসাহী ও জযবাতীরা জি হা দের দিকে দাওয়াত দিচ্ছে, নাকি ফাসাদের দিকে তা সহজেই বুঝে আসবে।
আমাদের এখানে জায়গা (state) প্রস্তুত নেই। কোনো এলাকাকে জি হা দের জন্য নির্ধারণ করলে দ্বিতীয় দিন সেটা হাতছাড়া হয়ে যাবে। তরবিয়তপ্রাপ্ত সদস্য নেই। আমরা নিজেরা প্রস্তুত করিনি।
আমাদের আকাবিরের যামানায় আলেম-ওলামার সংখ্যা ছিল কম। কিন্তু তাদের মুরিদ অনুসারী থাকত বেশুমার। আর আমাদের যামানায় পুরোপুরি এর বিপরীত। পীর-মাশায়েখ অনেক। কিন্তু নিবেদিতপ্রাণ তাবেদার কম। সাহাবায়ে কেরাম রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ছোট থেকে ছোট কোনো কথারও বিরোধিতা করতেন না। এরকম সদস্য আমাদের কাছে নেই। আমরা তৈরি করতে পারিনি।
জায়গা নেই। তরবিয়তপ্রাপ্ত সদস্য নেই। আমিরও নেই। যেটা জি হা দের প্রথম শর্ত। আমির তো খলিফার স্থলাভিষিক্ত হয়। খলিফা নবীর স্থলাভিষিক্ত হয়। আর নবী আল্লাহ তাআলার স্থলাভিষিক্ত হয়। আল্লাহ তাআলার সাহায্য তো এভাবে আসে। আমির নেই। তাহলে আল্লাহ তাআলার সাহায্য আসবে কিভাবে?
আল্লাহ তাআলার নুসরত প্রত্যেক মুসলমানের সাথে রয়েছে। এটি ব্যক্তিগত পর্যায়ের। কিন্তু এভাবে সাহায্য আসে আমিরের মাধ্যমে। হিন্দুস্তানে বিচ্ছিন্নভাবে জি হা দ হচ্ছে; কিন্তু সেখানে তারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত। প্রত্যেক দলের পৃথক পৃথক আমির রয়েছে। প্রত্যেক আমিরের নির্দেশে প্রত্যেক দল যার যার চিন্তা অনুযায়ী কাজ করছে। এটা সহীহ নেযাম নয়। তাই সেখানে কামিয়াবি আসছে না। একই কারণে কাশ্মীরের জি হা দেও কামিয়াবি আসছেনা।
আফগানিস্তানের মুজাহিদরা সফল হয়েছে। কারণ তারা এক আমিরের নেতৃত্বে জি হা দ করেছে। তাদের কাছে তরবিয়তপ্রাপ্ত জনশক্তি রয়েছে। সম্পদ রয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো: দেশটি দীর্ঘদিন যাবৎ যুদ্ধকবলিত হওয়া সত্ত্বেও কোন দেশের কাছে ঋণী নয়। বরং ব্রিটেন-আমেরিকা তার কাছে ঋণী।
আল্লাহ তাআলা এ জাতিকে এমন কিছু দান করেছেন যার কারণে এত যুদ্ধবিগ্রহের পর বিক্ষুব্ধ সকল দুর্যোগ মোকাবেলা করে এখনো নিজেদের স্বকীয়তা বজায় রেখে মাথা উঁচু করে বিশ্ববাসীর মাঝে টিকে আছে। তারা অল্পে তুষ্টির জাতি। কম খেতে অভ্যস্ত। দুটি রুটি, ডাল বা অন্য কিছু মিলে গেল তা খেয়েই তারা জীবন চালিয়ে নিতে পারে।
আমাদের অবস্থার কথা কী বলব! খাবারের দস্তরখানে ১০ রকমের তরকারি লাগবে। গোশত লাগবে, মাছ লাগবে, আরও কত কী? এ রকম আয়েশী জাতি কিভাবে জি হা দ করবে; যাদের না আছে মুনাসিব জায়গা, না আছে আমীর, না আছে শুরা, না আছে যোগ্য সৈনিক, না আছে অস্ত্র, না আছে সম্পদ! কিছুই নেই। শুধু লাফালাফি করার দ্বারা কী হবে ভাই!

আপনাদের দায়িত্ব ও করণীয়
জযবাতি আন্দাযে লাফালাফি করার দ্বারা ক্ষতি হয়। এ ধরনের কাজ ও চিন্তার পেছনে আপনারা দৌড়াবেন না। আপনা আপনা জিম্মাদারী পালন করুন। আল্লাহ তাআলা দুটি কথা বলেছেন:
ليتفقهوا في الدين
অর্জন করুক। এটা এখন আপনাদের মূল কাজ।
তাফাক্কুহ ফিদ্দীন অর্জন করার পর আপনাদের কাজ কি হবে তাও উপর্যুক্ত আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। আয়াতে চাকরি করার জন্য বলা হয়নি। পদ-পদবী অর্জন করার কথা বলা হয়নি। বিদেশ যাওয়ার জন্য বলা হয়নি। তাফাক্কুহ ফিদদীন অর্জন করার পর দীনের আহকাম শেখার পর প্রথম কাজ হলো নিজে সে মোতাবেক আমল করবে।
দ্বিতীয় কাজ হলো: وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ
অর্থাৎ নিজে সে মোতাবেক আমল করার পর দীনের যা কিছু শিখেছে লোকদেরকে তা শেখাবে। তাদের কাছে দীন পৌছিয়ে দিবে। একই হুকুম মুজাহিদদের ক্ষেত্রেও অর্থাৎ জি হা দ করার জন্য কিছু লোক বের হবে; সবাই নয়। সফরে জি হা দ থেকে ফেরার পর এই সফরে যা কিছু দেখেছে, যা কিছু শিখেছে তা লোকদেরকে বলবে। শিখাবে। তো মুজাহিদেরও দুটি কাজ:
জি হা দে বের হওয়া এবং ফিরে এসে স্বজাতিকে যা শিক্ষা অর্জন করেছে তা শিখাবে। وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ এর সম্পর্ক তালিবুল ইলম ও মুজাহিদ উভয়ের সাথে। অল্প কথায় তাআলা অনেক কিছু শিক্ষা দিয়েছেন। لعلهم يحذرون অর্থাৎ তালিবুল ইলম যখন ইলম শিখে জাতির কাছে গিয়ে দ্বীনের তাবলিগ করবে। দীনের আহকাম শিখাবে, তখন তাদের মধ্যে খোদাভীতি সৃষ্টি হবে। ইলম শিখার জযবা, দ্বীনের ওপর চলার জযবা তৈরি হবে। আর মুজাহিদ যখন ফিরে আসবে এবং যা দেখেছে, শিখেছে এবং করেছে তা বর্ণনা করবে। তখন মানুষের মাঝে জি হা দের জযবা তৈরি হবে। প্রয়োজনের সময় জি হা দের দিকে অগ্রসর হবে। আল্লাহ তাআলার নাফরমানি থেকে বাঁচবে। গোমরাহী থেকে বাঁচবে। এটা আয়াতের সারসংক্ষেপ। এতক্ষণ আমি আপনাদের সামনে বললাম।
তাই আপনা জায়গায় গিয়ে وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ এর উপর আমল করুন। আপনারা নিজ এলাকায় গিয়ে মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করুন। ১০-২০ জন লোক তৈরি করুন। দুই হাজার তালিবুল ইলম ফারেগ হয়ে প্রত্যেকে ১০ জন করে লোক তৈরি করলে কত হাজার হবে? এভাবে কাজ করুন এবং লোক তৈরি করুন। আপনি তো কিছুই করছেন না। এখন তো আপনার পেছনে পাঁচজন লোকও পাবেন না।
আমাদের আখলাক ঠিক নেই। আমাদের আমল ঠিক নেই। সব গলত। ফারেগ হওয়ার পর নিজ নিজ কর্মস্থলে নিজেকে এমনভাবে উপস্থাপন করুন যাতে মানুষ বলতে বাধ্য হয় যে, অমুক হুজুর যা কিছু বলে সহীহ বলে। তার আকীদা সহীহ। তার আমল সহীহ। তার চলাফেরা ও যাবতীয় কর্মকাণ্ড নির্ভেজাল। তাকে অনুসরণ করা যায়। কেনই বা তাকে আমরা মানবো না।

এলাকাবাসী তার কাছে আসবে। দীন শিখবে। একে অন্যকে তার কাছে এসে দ্বীন শেখার জন্য দাওয়াত দিবে। এসব কখন হবে? যখন ধীরে ধীরে মেহনত করতে থাকবে। তখন লোকজন তৈরি হবে। এখন তো এমন কোন জায়গা নেই যেখানে দুইজন লোক আপনার সঙ্গ দেবে। দু-চারজন লোক হয়তো সঙ্গ দিবে। যতক্ষণ পর্যন্ত সরকার অ্যাকশন নিবে না। কিন্তু যখন ধরপাকড় শুরু করবে, তখন সব পালাবে। তো আখের এতে ফায়দা কী?
আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনার উপর জিম্মাদারী রয়েছে তা পালন করুন। মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করুন। মাদরাসা থাকলে সেখানে দিনের তালিম দিতে থাকুন। না থাকলে মক্তবের ব্যবস্থা করুন। লোকদেরকে মসজিদমুখি করুন। সুন্নতের অনুসারী বানান। সুযোগমতো দিনের সকল বিধান প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করুন।
খুবই সংক্ষেপে আলোচনা করলাম। এরপরও যদি প্রশ্ন থাকে, আমার কাছে গিয়ে বলবেন। আর যদি প্রশ্ন হল হয়ে যায়। তাহলে নিজের কাজে মনোযোগ নিবদ্ধ করুন। অযথা জেহেনকে বিক্ষিপ্ত করবেন না। নিজের আকিদা ও আমল বরবাদ করবেন না। মেহনত করুন। এর উপর আমল করুন।

লেখাটি হাটহাজারী মাদ্রাসার মুখপত্র মাসিক মুঈনুল ইসলামের ফেব্রুয়ারি সংখ্যায় প্রকাশিত ।