হাটহাজারী মাদ্রাসায় মজলিশে শুরার বাহিরে কিছু করা হলে ভয়াবহ পরিনতি হবে : জাকারিয়া নোমান ফয়জী

img

প্রয়াস ডট, কম ২৬ মে সকাল:  এই সময়ের জনপ্রিয় তরুন আলেম, লেখক, গবেষক, মাসিক আসসুন্নাহর নির্বাহী সম্পাদক, হাটহাজারী ওলামা পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ হাটহাজারী উপজেলা সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন হাটহাজারী উপজেলা সভাপতি এবং জামিয়া হামিউচ্ছুন্নাহ মেখলের সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জীর একটি সাক্ষাৎকার গ্রহন করা হয় টেলিফোনে। সাক্ষাৎকারে টি নেন তাহমিদুল মাওলা নকিব এবং শায়েলা তাহমিদ। মুলত হাটহাজারী মাদ্রাসার বিষয়ে সাক্ষাৎকারটি নেওয়া হলেও এখানে উঠে এসেছে বর্তমান সময়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সমুহ নিম্নে সাক্ষাৎকার টি চুম্বক অংশ তুলে ধরা হচ্ছে।

প্রশ্ন, জনাব আপনি বাংলাদেশের জনপ্রিয় ও আলোড়ন সৃষ্টিকারী সংগঠন হাটহাজারী ওলামা পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক আপনি কি আমাদের বলবেন হাটহাজারী মাদ্রাসায় সেই দিন কি ঘটেছিল? কেনই বা হঠাৎ করে আপনাদের সেচ্চার হতে হলো?
উত্তরঃ হাটহাজারী মাদ্রাসা শুধু একটা মাদ্রাসা নয় এটি এই উম্মতের সব চেয়ে বড় আমানত। হক হক্কানিয়তের ঠিকানা, হাটহাজারীর দিকে সব সংকটের সময় থাকিয়ে এদেশের জনগন। কারন এটা কালের পরিক্ষায় উত্তির্ন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই মাদ্রাসাকে নিয়ে যখন কেউ চিনি মিনি খেলা হয় তখন হাটহাজারী ওলামা পরিষদ চুপ থাকতে পারেনা। তাই বাধ্য হয়ে কথা বলতে হয়ে হাঃউঃপ কে।

প্রশ্ন সেদিন আসলে কি ঘটেছিলো?
উত্তর ঃ মুলত এই দিন বিগত সময় শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফি দাঃবাঃ এর বয়স এবং অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে যারা বার বার মাদ্রসার প্রশাসনিক কাঠামো কে তছনছ করে দিয়ে স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলো তারা মাদ্রাসার সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর মজলশে শুরা (পরিচালনা পরিষদে) কে পাশ কাঠিয়ে মজলিশে শুরার কতৃক নির্বাচিত একজন সহযোগী পরিচালক থাকা সত্তেও একজন তাদের মনোনীত ব্যাক্তিকে ভারপ্রাপ্ত মোহতামিম ঘোষনা করার সিদ্ধান্ত নেয়, এই সিদ্ধান্ত বাহিরে যে কোন ভাবে প্রকাশ হয়ে যাওয়ার পর হাটহাজারী ওলামা পরিষদের নেতৃত্বে আলেম ওলামা, ও তওহিদি জনতা সেচ্ছার হয়। এবং মাদ্রাসা মসজিদে প্রতিবাদ করে। এবং তাদের চক্রান্ত কে আপাতত প্রতিহত করে দেয়।

প্রশ্নঃ মুলত সেদিন হাটহাজারী ওলামা পরিষদের মুল দাবী কি ছিলো?
উত্তর ঃ মজলিশে শুরার মাধ্যমে মোহতামিম সহ সব দায়িত্বশীল নির্বাচন করা।

প্রশ্ন ঃ তারপর কি ঘটেছিল? কেনই বা এই অসুস্থ অবস্থায় শাইখকে লাইভে আসতে হলো?
উত্তর ঃ এটা ও একটি চক্রান্তের অংশ। ঐগ্রুপ টি তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর তাদের নতুন চক্রান্তের সময় নিতে এবং উত্তেজনা সাময়িক দমন করার জন্য মুলত শাইখুল ইসলাম ওয়াল মুসলিম আল্লামা শাহ আহমদ শফি দাঃবাঃ কে এই অসুস্থ অবস্থায় লাইভ নামক ভিডিও বার্তা টি প্রকাশ করে৷ , যা বার বার এডিট করা হয়েছে। এতে শাইখ ঘোষণা দেয় যে আগামীতে যা হবে সব মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি দ্বারাই হবে, মজলিসে শুরা কে উপেক্ষা করে কিছুই হবে না।

প্রশ্ন ঃ আপনারা কি মনে করেন শাইখের এই ঘোষণা দ্বারা সব টিক হয়ে যাবে?
উত্তর মোটেই না, কারন আমরা এখনো এই কথা স্পষ্ট করে বলছি শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফি দাঃবাঃ এর বিরুদ্ধে আমাদের কোন অভিযোগ নেই। কিন্তু যারা ২০০৫ সালের পর হতে হুজুরের বয়স,এবং অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে
বার বার মাদ্রাসার সর্বনাশ করেছে তারাই মুলত আবারও চক্রান্ত করবে এবং বর্তমানে করছেও।

প্রশ্ন ঃ তারা কাকে সেদিন দায়িত্ব আনতে চেয়েছিলো বলে আপনারা মনে করেন?
উত্তর ঃ এখানে কাকে আনতে চেয়েছিলো এটা বড় কথা নয় মুলত মাদ্রাসার নিয়ম বহির্ভুত একজন মোহতামিম নিয়োগ কর‍তে চেয়েছে আমরা এটার প্রতিবাদ করেছি।

প্রশ্নঃ আমরা শুনেছি মাদ্রসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা আহমদ দিদার কে নাকি সেদিন তারা নাম ঘোষণা করতে যাচ্ছিলো? এতে উনার কোন হাত আছে কিনা?
উত্তর ঃ মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক ও মোহাদ্দিস মাওলানা আহমদ দিদার কাসেমী দাবঃ কে করতে চেয়েছিলো কিনা এটা আমাদের কাছে মুখ্য বিষয় নয় আমাদের কাছে মুল বিষয় নিয়ম বহির্ভূত নিয়োগ। আমরা এটার প্রতিবাদ করেছি। আর আমাদের অত্যন্ত প্রিয় মানুষ সাহেবযাদা শাহ আহমদ দিদার অত্যন্ত সজ্জনও সহজ সরল মানুষ তিনি এমন কোন ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত হবেন এটা আমরা বিশ্বাস করিনা তবে উনাকে দুষ্ট চক্রটি নিজের স্বার্থে ব্যাবহার করতে পারে উনার অজান্তে।